Home স্বাস্থ্যগ্যাবাপেনটিন সেবনে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি

গ্যাবাপেনটিন সেবনে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি

Muktochinta Online
০ comments ১৫ views

ডায়াবেটিসের জটিলতায় সৃষ্ট স্নায়বিক বিভিন্ন ব্যথার চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত ওষুধ গ্যাবাপেনটিন। দীর্ঘমেয়াদি পিঠ ও কোমর ব্যথা এমনকি মৃগী রোগের চিকিৎসায়ও ব্যবহৃত হয়ে থাকে এই ওষুধ। এত দিন পর্যন্ত তুলনামূলক নিরাপদ ভেবে ওপিওয়েড গোত্রের পেইন কিলারের বদলে চিকিৎসকরা গ্যাবাপেনটিন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে ২০২৫-এর জুলাইয়ে প্রকাশিত এক গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী এই ওষুধটিকে আর নিরাপদ ভাবার সুযোগ নেই।

দীর্ঘদিন ধরে গ্যাবাপেনটিন সেবন করলে বাড়ে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি। পাশাপাশি দেখা দিতে পারে মাইল্ড কগনিটিভ ইমপেয়ারমেন্ট (এমপিআই), যার অর্থ রোগীর চিন্তাশক্তি ধীরে ধীরে কমে যায়। রিজিওনাল অ্যানেসথেসিয়া অ্যান্ড পেইন মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত কোহর্ট গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাইনেটএক্স জাতীয় ডেটা বেইসে থাকা ২৬ হাজারেরও বেশি রোগীর তথ্য এই গবেষণায় ব্যবহৃত হয়েছে।মোট ৬৮টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ২০০৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মোট ২০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গ্যাবাপেনটিন ব্যবহারে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ে প্রায় ২৯ শতাংশ। চিন্তাশক্তি হ্রাস (এমপিআই) পাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে প্রায় ৮৫ শতাংশ। গবেষণায় ব্যবহৃত কোনো রোগীর ক্ষেত্রে বংশগত ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি ছিল না। অর্থাৎ গ্যাবাপেনটিন সেবনেই তাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে গেছে, এর পেছনে অন্য কারণ নেই।

যেসব রোগীর ক্ষেত্রে বংশগত বা অন্যান্য কারণে ডিমেনশিয়া বা এমপিআই দেখা দেওয়ার আশঙ্কা ছিল, তাদের তথ্য গবেষণায় ব্যবহৃত হয়নি।

গবেষকদের মতে, যাঁদের বয়স ১৮ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে, তাঁরাই রয়েছেন সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে। এর মধ্যে ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের মস্তিষ্কের ক্ষতি তূলনামূলক কম হলেও ৩৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের গ্যাবাপেনটিন ব্যবহার একেবারেই অনুচিত। ওষুধের মাত্রার ওপরেও ঝুঁকি অনেকটাই নির্ভরশীল। জীবদ্দশায় যাঁদের অন্তত ১২ বার গ্যাবাপেনটিন সেবনের ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ডিমেনশিয়া ও এমপিআইয়ের হার যাঁরা ১২ বারের কম গ্যাবাপেনটিন সেবন করেছেন, তাঁদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

গবেষণাটিতে গ্যাবাপেনটিন কিভাবে মস্তিষ্কের ক্ষতি করে, তা জানা যায়নি। এ বিষয়ে গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। গবেষকদের মতে, গ্যাবাপেনটিন সেবন বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। তবে মধ্যবয়সী রোগীদের অবশ্যই এমপিআই ও ডিমেনশিয়ার লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। সম্ভব হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ বদলে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। মনে রাখতে হবে, বেশির ভাগ পেইন কিলারের দীর্ঘমেয়াদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। তাই কখনোই এ ধরনের ওষুধ অপ্রয়োজনে সেবন করা উচিত নয়, দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার যতটা সম্ভব পরিহার করতে হবে।

You may also like

Leave a Comment