Home ধর্মরমজানে ইবাদতের পরিবেশ গড়ার কারিগর নারী

রমজানে ইবাদতের পরিবেশ গড়ার কারিগর নারী

Muktochinta Online
০ comments views

রমজান এলে ঘরের ভেতরেই এক অনন্য ইবাদত-পরিবেশ গড়ে ওঠে। সাহরির শেষ প্রহর থেকে ইফতারের মুহূর্ত পর্যন্ত একটি পরিবারের আধ্যাত্মিক ছন্দ সচল রাখেন যে মানুষটি, তিনি ঘরের নারী। তিনি শুধু নিজে ইবাদত করেন না; বরং অন্যদের ইবাদতের পথও সুগম করেন। ইসলামের দৃষ্টিতে এই নীরব অবদান নিছক গৃহস্থালি দায়িত্ব নয়; বরং এটি অনেক ফজিলতপূর্ণ আমল

কোরআন মানুষকে সৎকর্মে পারস্পরিক সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছে: ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো।’ (সুরা আল-মায়িদা, আয়াত : ২)  রমজানে পরিবারের জন্য সাহরি প্রস্তুত করা, ইফতার আয়োজন করা, শিশুদের রোজা ও নামাজে উৎসাহ দেওয়া; এসবই তাকওয়ার কাজে সহযোগিতার অন্তর্ভুক্ত।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইফতার করানোর ফজিলত স্পষ্ট করেছেন: ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে তার সমপরিমাণ সওয়াব পাবে; অথচ রোজাদারের সওয়াব থেকে কিছুই কমানো হবে না।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৮০৭) পরিবারের একাধিক সদস্যের জন্য প্রতিদিন ইফতার প্রস্তুত করেন ঘরৈর নারী।তার এ আমলের পরিধি অনেক বিস্তৃত, অনেক বেশি সওয়াবের, অনেক বেশি মর্যাদার ।

সাহরির গুরুত্ব সম্পর্কেও সুস্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে: ‘তোমরা সাহরি খাও; কারণ সাহরিতে বরকত রয়েছে।’ (বুখারি, হাদিস: ১৯২৩)  যে নারী সাহরি প্রস্তুত করেন, তিনি পরোক্ষভাবে পরিবারের ইবাদতের শক্তি জোগাচ্ছেন।

ইসলামের একটি মৌলিক নীতি হলো; কাজের মূল্য নির্ভর করে নিয়তের ওপর।

‘নিশ্চয়ই সব কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।’ (বুখারি, হাদিস: ১) তাই রান্না, ঘর গোছানো, শিশুদের যত্ন; এসব কাজ যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরিবারের ইবাদতে সহায়তার উদ্দেশ্যে হয়, তবে তা সওয়াবের উৎস।

পরিবারে উত্তম আচরণ ও দায়িত্বশীলতা ইসলাম বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সে-ই উত্তম, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম।” (তিরমিজি, হাদিস: ৩৮৯৫) হাদিসটির ব্যাখ্যায় আলেমরা বলেন, পরিবারের কল্যাণে শ্রম দেওয়া ও তাদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা ঈমানি চরিত্রের অংশ।

রমজানে নারীর ভূমিকা এই ঈমানি চরিত্রের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

মোটকথা রমজানে পরিবারের ইবাদত-পরিবেশ গড়ে তোলার নেপথ্যে যে নারী নীরবে শ্রম দেন, তা সাধারণ কোনো শ্রম নয় বরং তা সওযাবের এক বিরাট ক্ষেত্র। তার এই অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া আমাদের সকলের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্যদের উচিত তার কাজে সহযোগিতা করা, যাতে তিনিও ব্যক্তিগত ইবাদতের পর্যাপ্ত সুযোগ পান। ইসলাম পারস্পরিক সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা দেয়।

রমজানের প্রকৃত চেতনা কেবল ব্যক্তিগত সাধনায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি পারিবারিক ও সামাজিক ইবাদতেরও নাম। সেই ইবাদতের নেপথ্যে যে নারী নীরবে সওয়াবের বীজ বপন করেন, তিনি সত্যিই নেপথ্য নায়িকা।

মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে আমল করার তাওফীক দান করুন। 

You may also like

Leave a Comment