আন্তর্জাতিক আইন-কানুন, ন্যায়নীতি সবকিছুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কোনো দেশের ওপর জুলুম চাপিয়ে দেয়ার এ প্রবণতার অবসান বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের সবার কাম্য; কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র উল্টো ইরানের জন্য উসকানি সৃষ্টি করেছে। ইরান ধৈর্য ধরেছে। আগ বাড়িয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ইরানের ওপর এই যে, যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হলো, তাতে দেশটি সীমিত সাধ্যে যতটা সম্ভব প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। এরই মধ্যে পাল্টা জবাব দিয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে। এ ক্ষেত্রে বিশ্বের ন্যায়বিচারবঞ্চিত সর্বস্তরের মানুষের নৈতিক সমর্থন ইরানের পক্ষে থাকবে এতে সন্দেহ নেই। কারণ বিশ্বের বেশির ভাগ মানুষের বিবেক এখনো অটুট। তারা সবসময় ন্যায়নীতি ও নিপীড়িতের পক্ষে থাকবেন।
ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সবশেষ কূটনৈতিক আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। কারণ ইরান আত্মমর্যাদা বিসর্জন দেয়নি। অবমাননাকর শর্ত মেনে নেয়নি। এর পরই গতকাল ইারানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। আসলে যুক্তরাষ্ট্র সমাধান চায়নি। ওয়াশিংটন আলোচনায় বিশ্বাসী এটা বিশ্বকে দেখাতে চাইছিল। ইরানের পক্ষে মার্কিন শর্ত মেনে নেয়া অসম্ভব তা স্পষ্ট ছিল। যুক্তরাষ্ট্র নিজের শর্ত চাপিয়ে দিতে চেয়েছে। নতুন নতুন শর্ত আরোপ করে গায়ের জোরে, হুমকি দিয়ে, অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ উসকে দিয়ে সেগুলো মেনে নিতে বাধ্য করতে চেয়েছে। বলা হয়েছে, ইরানের হাতে যে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আছে তার পুরোটা যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়ে দিতে হবে। ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এতটা সীমিত করতে হবে যেন তার কার্যকারিতা না থাকে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের পক্ষে সক্রিয় গোষ্ঠীগুলোও ভেঙে দিতে হবে। অর্থাৎ ইরানকে আমেরিকা ও ইসরাইলের কাছে নতজানু হতে হবে। তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করতে সম্মত হয়েছিল; কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছে পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ। ফলে যুদ্ধের আর বিকল্প রাখেনি ওয়াশিংটন। অবশেষে গতকাল মার্কিন রণতরী থেকে ইরানের তেহরানে হামলা চালানো হয়েছে। সাথে যোগ দিয়েছে অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল। ২০০৩ সালে ইরাকে আক্রমণের পর এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক প্রস্তুতি।
যুদ্ধ মানে মৃত্যু, যুদ্ধ মানে রক্তক্ষয়। সেটি একপক্ষীয় হয় না। বিশেষ করে ইরানের সাথে যুদ্ধ আমেরিকার জন্য ভালো ফল দেবে না। ইরানের শাসনক্ষমতা পাল্টানোর মূল লক্ষ্য অর্জন কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সন্দিহান খোদ মার্কিন সমর বিশারদরা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে সম্পূর্ণ নির্মূল ও নিশ্চিহ্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন; কিন্তু বলা যায় না, এই যুদ্ধ আফগান, ভিয়েতনাম যুদ্ধের মতো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরেকটি ব্যর্থতার সাক্ষী হয় কি না এমন আশঙ্কাও ব্যক্ত করেন অনেক বিশেষজ্ঞ। সবচেয়ে বড় কথা, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এ মুহূর্তে বড় ধরনের চাপে আছে। যুদ্ধসরঞ্জামেরও সীমাবদ্ধতা আছে। সবমিলিয়ে দীর্ঘ যুদ্ধের সক্ষমতা দেশটির কতটুকু আছে তা প্র্রশ্নবিদ্ধ। বিশ্বের ভূরাজনীতিও আমেরিকার অনুকূলে নয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ডলার চরম হুমকিতে। বাণিজ্যিক যুদ্ধ অনেক মিত্রকে বৈরিতে পরিণত করেছে। অনেক বাণিজ্যিক অংশীদার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে। চীন-রাশিয়ার ভূমিকা আমেরিকার জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যও যুক্তরাষ্ট্রের হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ইরান আক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের স্থল ও জলভূমি এবং আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিচ্ছে না। এমনকি চিরকালের মিত্র ব্রিটেনও মানা করে দিয়েছে। ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র আসলে ইসরাইলের ঘুঁটি। গত বছর জুনের সীমিত হামলাও হয়েছিল ইসরাইলের চাপে।
আন্তর্জাতিক আইন-কানুন, ন্যায়নীতি সবকিছুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কোনো দেশের ওপর জুলুম চাপিয়ে দেয়ার এ প্রবণতার অবসান বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের সবার কাম্য; কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র উল্টো ইরানের জন্য উসকানি সৃষ্টি করেছে। ইরান ধৈর্য ধরেছে। আগ বাড়িয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ইরানের ওপর এই যে, যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হলো, তাতে দেশটি সীমিত সাধ্যে যতটা সম্ভব প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। এরই মধ্যে পাল্টা জবাব দিয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে। এ ক্ষেত্রে বিশ্বের ন্যায়বিচারবঞ্চিত সর্বস্তরের মানুষের নৈতিক সমর্থন ইরানের পক্ষে থাকবে এতে সন্দেহ নেই। কারণ বিশ্বের বেশির ভাগ মানুষের বিবেক এখনো অটুট। তারা সবসময় ন্যায়নীতি ও নিপীড়িতের পক্ষে থাকবেন।