ইরানে ইসরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলা ও দেশটির সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর জেরে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে। ইরানের নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে ইসরায়েলের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রাণ বাঁচাতে ইসরায়েলের লাখ লাখ মানুষ বর্তমানে আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে অবস্থান করছেন।
বেইত শেমেসে ইরানের চালানো ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই ডজনেরও বেশি মানুষ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, নিহতদের অধিকাংশই হামলার সময় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে একটি পাবলিক বা গণ-আশ্রয়কেন্দ্রে (পাবলিক শেল্টার) অবস্থান করছিলেন। এই ঘটনার পর ইসরায়েলি জনমনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানের এই পাল্টা হামলা শুধু ইসরায়েলের ওপর সীমাবদ্ধ থাকেনি। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং মিত্র দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানা গেছে। দুবাই, কুয়েত ও বাহরাইনের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এই পরিস্থিতিকে আঞ্চলিক যুদ্ধের ভয়াবহ রূপ হিসেবে দেখছেন। বিশ্বনেতারা সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন এবং উত্তেজনা প্রশমনের জন্য আলোচনার টেবিলে ফেরার তাগিদ দিয়েছেন। তবে বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একটি চরম অনিশ্চয়তা ও ভীতিকর পরিবেশ বিরাজ করছে