Home স্বাস্থ্যচোখের যত্ন নিন

চোখের যত্ন নিন

Muktochinta Online
০ comments ১৩ views

প্রতিটি মুসলমানের জন্য ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক উন্নতির সময় পবিত্র মাহে রমজান। এ সময় দেহের বিশেষ যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। রোজা রাখলে চোখের বাড়তি যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি, সেটি অনেকেরই অজানা। সাহরি থেকে ইফতার পর্যন্ত দীর্ঘ সময় পানাহারে বিরত থাকা এবং সাহরিতে ওঠার জন্য ঘুমে ব্যাঘাতের প্রভাব পড়ে আমাদের চোখের স্বাস্থ্যের ওপর।

এতে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

♦ পর্যাপ্ত পানি পান করুন : পুরো রমজানে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে পানি পান করা সম্ভব হয় না। তাই সাহরি ও ইফতারের সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে পানির পরিমাণ কম থাকলে অর্থাৎ ডিহাইড্রেশন দেখা দিলে চোখে শুষ্কতা, কষ্ট বা অস্বস্তি হতে পারে।সাহরি ও ইফতারের সময় পর্যাপ্ত পানি পান করলে চোখে আর্দ্রতা বজায় থাকে, যা চোখের স্বাস্থ্য রক্ষা করে।

♦ সঠিক খাবার গ্রহণ : চোখের স্বাস্থ্য ধরে রাখতে সঠিক খাদ্যাভ্যাসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাহরি ও ইফতারে প্রচুর পরিমাণে ফল, শাক-সবজি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার; যেমন—গাজর, পালংশাক, টমেটো ইত্যাদি খাওয়া উচিত। এগুলোর মধ্যে ভিটামিন এ, সি ও ই থাকে, যা চোখের সঠিক কাজকর্মে সহায়তা করে এবং দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে।

♦ পর্যাপ্ত ঘুম : রমজান মাসে অনেকেই রাত জেগে একবারে সাহরি খেয়ে ঘুমান। এতে রাতে ঘুমের পরিমাণ কমে যায়। এটি চোখের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কেননা পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে চোখের শুষ্কতা, ক্লান্তি এবং লালভাব সৃষ্টি হয়ে থাকে। প্রতি রাতে অন্তত সাত-আট ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।

এতে চোখের স্বাস্থ্যের ঠিক থাকবে।

♦ আই ড্রপ ব্যবহার : যেহেতু রোজা রেখে দীর্ঘ সময় পানি পান না করে থাকতে হয়, তাই চোখ শুকিয়ে যেতে পারে। ফলে চোখে দেখা দেয় অস্বস্তি, জ্বালাপোড়া বা চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা। এসব উপসর্গ প্রতিকারে আই ড্রপ ব্যবহার করলে চোখে আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং শুষ্কতা কমে। তবে আই ড্রপ ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

♦ চোখ বাঁচাতে সানগ্লাস : এবারের রমজান মাস পুরোটাই বসন্তের তির্যক রোদে অতিবাহিত হবে। দিনের বেলায় রোদের তাপে চোখের ওপর চাপ পড়তে পারে। এর প্রভাবে চোখে জ্বালাপোড়ার অনুভূতি, অস্বস্তি বা দৃষ্টিশক্তি ঘোলাটে হতে পারে। রোজা রাখলে দেহে অল্পবিস্তর ডিহাইড্রেশন দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। তাই সমস্যাগুলোর প্রকোপ বেড়ে যেতে পারে। তাই এ সময় বাইরে গেলে সানগ্লাস ব্যবহার করুন, যা চোখকে ইউভি রশ্মি থেকে রক্ষা করবে এবং চোখকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করবে।

♦ স্ক্রিন ব্যবহারে সতর্কতা : রমজানে অনেকেই রাত জেগে দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন, যা চোখের জন্য ক্ষতিকর। দীর্ঘ সময় ধরে স্ক্রিনের দিকে তাকালে চোখে চাপ পড়ে। ফলে চোখের মাংসপেশি ক্লান্ত হয়ে যায়। সাহরি ও ইফতারের সময় স্ক্রিন ব্যবহার কমিয়ে চোখের বিশ্রাম নেওয়া উচিত।

♦ চোখে পানি দেওয়া : ইফতার বা সাহরির পর চোখ ধুয়ে নেওয়া জরুরি। এতে সারা দিন চোখে জমা হওয়া ময়লা, ধুলা বা ব্যাকটেরিয়া অপসারিত হয়। এ ছাড়া ঠাণ্ডা পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে নিলে চোখে সতেজ অনুভূতি আসে এবং ক্লান্তি কমে।

♦ সঠিক হাইজিন ধরে রাখা : অপরিষ্কার হাতে চোখ স্পর্শ করলে বা চোখে ময়লা লাগলে দেখা দিতে পারে সংক্রমণ। এ সময় চোখ শুকিয়ে থাকায় সংক্রমণের ঝুঁকিও বেশি থাকে। খাওয়ার পর চোখে হাত না দেওয়া এবং নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেকআপ বা কসমেটিকসও চোখের ক্ষতি করতে পারে। তাই এ ধরনের জিনিস ব্যবহার করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

♦ ঠাণ্ডা কাপড় বা আইস প্যাক ব্যবহার : যদি চোখের চারপাশে কোনো ধরনের আঘাত, ফোলা বা জ্বালা অনুভূত হয়, তাহলে ঠাণ্ডা কাপড় বা আইস প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। ঠাণ্ডা চাপ চোখের মাংসপেশি শিথিল করে এবং চোখে আরাম দেয়। তবে আইস প্যাক সরাসরি চোখে না লাগিয়ে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় ব্যবহার করা উচিত।

♦ চোখের স্বাস্থ্য পরীক্ষা : রমজান মাসে চোখের ওপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে। অস্বস্তি, ঝাপসা দেখা বা চোখে ব্যথা অনুভব করলে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

লেখক : কনসালট্যান্ট (চক্ষু)

দীন মো. আই হসপিটাল

You may also like

Leave a Comment