Home 2nd Featuredদেশে জ্বালানির সঙ্কট নেই

দেশে জ্বালানির সঙ্কট নেই

নতুন সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার অপচেষ্টা, পর্যাপ্ত মজুত-বাড়ছে না দাম, আতঙ্কের কিছু নেই -বিদ্যুৎমন্ত্রী :: ফিলিং স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলছে

Muktochinta Online
০ comments views

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে টালমাটাল পুরো বিশ্ব। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশও নতুন করে জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বলছে- দেশে জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। চলতি ও আগামী মাসের আমদানিও নিশ্চিত করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দেশবাসীকে বার্তা দিয়েছেন, ডিজেল, পেট্রোল, অকটেনসহ সব ধরনের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষের জ্বালানি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

এদিকে গতকাল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সঙ্ঘাত শুরুর আগেই হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে আসা ১৫টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে। এসব জাহাজে এলএনজি, জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন ধরনের শিল্প কাঁচামাল রয়েছে। বন্দরে জাহাজ ভেড়ানো, পণ্য খালাস ও সরবরাহ কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক কারণে নতুন সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে তেল নিয়ে গুজব ছড়ানো হয়েছে। অথচ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের গতিবিধি দেখেই বর্তমান সরকার প্রথম থেকে সতর্ক এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কিন্তু তেল সঙ্কটের গুজব ছড়ানোয় অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনায় এবং বেশি মুনাফার লোভে কেউ কেউ তেল মজুত করায় কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি হয়েছে। আবার পর্যাপ্ত মজুত সত্ত্বেও বর্তমান সরকারকে বিপাকে ফেলতে রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি হিসেবেও দেখছেন অনেকে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত গাড়ি এবং মোটরসাইকেলে ব্যবহৃত পেট্রোলের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করা হয়েছে। অথচ পেট্রোলের প্রায় পুরোটা এবং অকটেনের অধিকাংশই দেশেই উৎপাদিত হয়। তাই এর সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাব পড়ার সুযোগ নেই। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস-এলএনজি ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস-এলপিজি-বোঝাই জাহাজ এসে নোঙর করেছে। এছাড়া ইতোমধ্যে এপ্রিল পর্যন্ত দুই লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানি চূড়ান্ত করেছে জ্বালানি বিভাগ। ফলে জ্বালানি তেল নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। জ্বালানি বিভাগ, বিপিসিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরে দু’দিন ধরে একটি জাহাজের তেল খালাস হচ্ছে। জ্বালানি আমদানি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে গতকালও চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে জ্বালানিবাহী আটটি জাহাজ। সকালে কুতুবদিয়া ও মহেশখালী পানিসীমায় এলএনজি ও এলপিজি-বোঝাই আটটি জাহাজ এসে বন্দরে নোঙর করে। মোট ১৫টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসবে। এসব জাহাজে এলএনজি, এলপিজি, বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল ও শিল্পকারখানার কাঁচামাল রয়েছে। আজ সোমবার আরো দুটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে এপ্রিল পর্যন্ত চাহিদা অনুসারে আমদানি নিশ্চিত হয়েছে। চীনা জাহাজে ছাড় থাকায় হরমুজ প্রণালী ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনায় দেশের জ্বালানি আমদানিতে প্রভাব পড়বে না বলেও জানিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। তারপরও আমাদের রেশনিং করে চলতে হবে। ইতোমধ্যে একাধিক জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করেছে। জাহাজগুলো থেকে তেল ডেলিভারি করার পরে মজুত আরো বাড়বে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, সাহরি এবং তারাবির সময় কোনো লোডশেডিং হবে না। মাত্র ২০ দিন হয়েছে আমরা ক্ষমতায় এসেছি, একটা ভঙ্গুর অবস্থায় দেশকে পেয়েছি এবং ৭৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। বিরোধী দল আতঙ্ক ছড়িয়েছে মন্তব্য করে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, হয়তো এই যুদ্ধের কারণে আমরা বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দেবো। তিনি জানান, ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সঙ্কট এড়াতে সরকার কাতার ছাড়াও বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে সেসব বিকল্প উৎস ব্যবহার করা হবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, এখন জ্বালানি তেলের কোনো সঙ্কট নেই। এ ছাড়া আমরা এখন জ্বালানি তেল কিনতে মধ্যপ্রাচ্যের বিকল্প উৎস নিয়ে কাজ করছি।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেন, আপাতত জ্বালানি তেলের কোনো সঙ্কট নেই। এখন যে সঙ্কটটা হয়েছে, তা প্যানিক বায়িংয়ের কারণে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, দেশে আশা জ্বালানি-ভর্তি জাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দর থেকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। ওই সময় অঞ্চলটিতে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকলেও সঙ্ঘাত শুরু হওয়ার আগেই জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। বর্তমানে জাহাজগুলো ধাপে ধাপে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাচ্ছে এবং সেখান থেকে পণ্য খালাসের কার্যক্রম চলছে।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, জাহাজগুলোর মধ্যে অন্তত চারটিতে মোট প্রায় দুই লাখ ৪৭ হাজার টন এলএনজি রয়েছে। এসব এলএনজি মূলত কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে আনা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানায় গ্যাসের চাহিদা মেটাতে এই এলএনজি ব্যবহার করা হবে। এছাড়া, একটি জাহাজে এলপিজি এসেছে, যা গৃহস্থালি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ছোট শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি কয়েকটি জাহাজে বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত ফার্নেস ওয়েল, শিল্প খাতে ব্যবহৃত ডিজেলসহ অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য রয়েছে। অন্যদিকে কয়েকটি কার্গো জাহাজে বিভিন্ন শিল্প কাঁচামাল আনা হয়েছে। এর মধ্যে রাসায়নিক পদার্থ, পেট্রোকেমিক্যাল উপকরণ ও প্লাস্টিক শিল্পের কাঁচামাল রয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন উৎপাদনমুখী শিল্পে ব্যবহার করা হবে।

বন্দর কর্মকর্তারা জানান, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। মধ্যপ্রাচ্যে সঙ্ঘাতের কারণে এই পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে। সে কারণে সঙ্ঘাতের আগে জাহাজগুলো নিরাপদে বাংলাদেশে পৌঁছানো দেশের জ্বালানি ও আমদানি সরবরাহের জন্য স্বস্তির খবর। যদিও হরমুজ প্রণালীর পরিবহন পথ এখন অনেকটা স্বাভাবিক রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সঙ্ঘাত শুরুর আগেই হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে আসা ১৫টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে। জাহাজগুলোর মধ্যে ‘লুসাইল’ ও ‘আল গালায়েল’ নামের এলএনজি ট্যাংকারও রয়েছে।

সূত্র জানায়, দেশের জ্বালানি আমদানি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো জ্বালানিবাহী আটটি জাহাজের মধ্যে কাতার থেকে পাঁচটি এলএনজিবাহী বড় কার্গো রয়েছে। ফ্রান্সের পতাকাবাহী ‘আল জুর’ ৬৩ হাজার ৩৮৩ ইউনিট, গ্রিসের ‘আল জাসাসিয়া’ ৬৩ হাজার ৭৫ ইউনিট এবং বাহামার পতাকাবাহী ‘লুসাইল’ ৬২ হাজার ৯৮৭ ইউনিট এলএনজি নিয়ে এসেছে। এছাড়া লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘আল গালায়েল’ ও ‘লেব্রেথাহ’ যথাক্রমে ৫৭ হাজার ৬৬৫ এবং ৬২ হাজার ইউনিট এলএনজি বহন করে বাংলাদেশের পানিসীমায় অবস্থান করছে।

এদিকে এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে ওমানের সোহার বন্দর থেকে পানামার পতাকাবাহী দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। ‘এলপিজি সেভান’ ২২ হাজার ১৭২ ইউনিট এবং ‘জি ওয়াইএমএম’ ১৯ হাজার ৩১৬ ইউনিট এলপিজি নিয়ে এসেছে। জাহাজ দুটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ইউনিক মেরিটাইম। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে পাঁচ হাজার ১৯ ইউনিট এমইজি নিয়ে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘বে ইয়াসু’ নামের আরো একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করেছে।

জ্বালানি বিভাগ, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে বন্দরে একটি জাহাজ থেকে তেল খালাস চলছে। ইতোমধ্যে কাতার থেকে এক লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে। এছাড়া ‘আল গালায়েল’ ও ‘লুসাইল’ নামে আরো দুটি এলএনজিবাহী জাহাজ সোমবার ও বুধবারের মধ্যে দেশে পৌঁছার কথা রয়েছে। দুটি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজও সোমবার দেশে আসার কথা রয়েছে। এছাড়া এপ্রিল পর্যন্ত দুই লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত করা হয়েছে। ফলে জ্বালানি তেল নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিপিসির এক কর্মকর্তা জানান, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলে ব্যবহৃত পেট্রোলের প্রায় পুরোটাই এবং অকটেনের বড় অংশ দেশেই উৎপাদিত হয়। ফলে এ দুই ধরনের জ্বালানি তেল নিয়ে গ্রাহকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

সূত্র মতে, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত পর্যাপ্ত থাকা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে দেশে তেলের সম্ভাব্য সঙ্কট ও দাম বাড়ার শঙ্কায় কয়েক দিন ধরে তেল বিক্রি বেড়ে যায়। পেট্রোল পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। তবে গত শনিবার পরিস্থিতি বেশি জটিল হয়। দেশের অনেক স্থানেই সকালের পর তেল বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। রাজধানীর অনেক পাম্প ঘিরে ছিল এক-দেড় কিলোমিটার লম্বা লাইন। দুই-তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর তেল কিনতে পারেন ক্রেতা। সাধারণত সরকারি ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার ডিপো থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকে। ফলে পাম্পগুলোতে এমনিতেই কম থাকে তেলের মজুত। এর সঙ্গে গুজবের কারণে অতিরিক্ত তেল কেনা যুক্ত হলে গত দু’দিন ভোগান্তি চরমে পৌঁছে। মাঠপর্যায়ে সৃষ্ট সঙ্কট ক্রেতাদের ‘প্যানিক বায়িং’-এর কারণে হচ্ছে বলে মনে করছেন সরকার ও তেলের পাম্পের মালিক-ব্যবসায়ীরা। সঙ্কট সৃষ্টির পেছনে পেট্রোল পাম্প মালিকরা বিপিসির অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন। তাদের মতে, শুক্র বা শনিবার সীমিত আকারে ডিপো খোলা রাখলে ভোগান্তি কম হতো। এদিকে গতকাল থেকে ডিপোতে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় অধিকাংশ পাম্প আবার স্বাভাবিক ধারায় ফিরেছে।

বিপিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনার বিষয়েও বড় ধরনের উদ্বেগ দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, চীনা জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা না থাকায় তেল পরিবহনে বড় ধরনের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা কম। এদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য প্রায় ৫০ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো ফার্নেস অয়েলের মজুত রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ইস্টার্ন রিফাইনারির এক কর্মকর্তা জানান, পেট্রোলের প্রায় পুরোটাই উৎপাদন হয় দেশে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশের পেট্রোল মূলত দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া উপজাত কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে উৎপাদন করা হয়। কনডেনসেট থেকে উৎপাদিত পেট্রোলের পরিমাণ অনেক সময় দেশের চাহিদার চেয়েও বেশি হয়ে যায়। এই পেট্রোলের সঙ্গে আমদানি করা অকটেন বুস্টার মিশিয়ে অকটেন তৈরি করা হয়। ফলে দেশে ব্যবহৃত পেট্রোলের প্রায় পুরোটা এবং অকটেনের বেশির ভাগ দেশেই উৎপাদিত হয়।

দেশে সরকারি প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড-ইআরএল এবং কয়েকটি বেসরকারি রিফাইনারি কনডেনসেট থেকে পেট্রোল, অকটেনসহ প্রায় ৪০ ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন করে। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা বছরে প্রায় ১৬ লাখ টন। অন্যদিকে দেশে পেট্রোল ও অকটেনের বার্ষিক চাহিদা প্রায় আট থেকে সাড়ে আট লাখ টন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় গত কয়েক দিনে পাম্পগুলোতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি জ্বালানি তেল বিক্রি হয়েছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তারা আশা করছেন। এদিকে, জনভোগান্তি কমাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে, যারা বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালাবেন। ইতোমধ্যে নাটোরের সিংড়ায় বাঁশঝাড়ে মাটির নিচে ১০ হাজার লিটার ডিজেল মজুত করায় এক ব্যবসায়ীর পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

You may also like

Leave a Comment