Home শিল্প-সাহিত্যপ্রতিরোধের লড়াই হোক কবিতার ধ্যান

প্রতিরোধের লড়াই হোক কবিতার ধ্যান

Muktochinta Online
০ comments ১৯ views

এ কে আজাদ

বারুদগন্ধী সময়ের কাছে কি মূল্য আছে গোলাপের?
কি মূল্য আছে প্রেম কিংবা প্রণয়ের?
বুলেট, বোমা, ড্রোন কিংবা যুদ্ধ বিমানের প্রতিউত্তর তো
ফুল কিংবা ফুলের মত রক্তাক্ত শিশু হতে পারে না।
যেখানে অশ্রু কিংবা রক্তাক্ত বিলাপই জীবনের একমাত্র ভাষা,
সেখানে প্রতিরোধ ও বুলেটই হতে পারে একমাত্র প্রতিবাদ।
অতএব কবিতার ছন্দ হোক বোমার গর্জন,
কবিতার প্রতিটি শব্দ হোক একেকটি মিসাইল,
কবিতার ভাষা হোক যুদ্ধ বিমানের গগণবিদারী ধ্বনি।
ফিলিস্তিন, ইরান কিংবা ইউক্রেনের কান্নার ধ্বনিতে
আর কোন বিলাপ নয়,
পশ্চিম, উত্তর কিংবা উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে
উড়ে আসা নরখাদক শকুনদের জন্য
আর কোন গোলাপ নয়,
কেবল ড্রোনের বিপরীতে ড্রোন, মিসাইলের বিরুদ্ধে মিসাইল,
এবং যুদ্ধ বিমানের বিপরীতে যুদ্ধ বিমানই হোক
প্রতি উত্তরের একমাত্র মন্ত্রধ্বনি।
একেকটি কলম হোক একেকটি মিসাইল,
প্রত্যেক কবি কিংবা লেখক হোক একেকজন বীর যোদ্ধা।

বাঘ, সিংহ কিংবা অন্য কোন পশু নয়,
হিংস্র মেম চেট লামেদ এর মাখাল শকুন কিংবা
ভয়ানক পাশবিক শ্বেত হস্তীর মস্তকই কেবল
আরাধ্য হোক প্রতিটি দুর্দম শিকারীর।

কোথায় শান্তি? কি করে শান্ত হবে বিশ্ব?
পাশবিক শয়তানের ভয়াল নরক রাজ্যের
ধ্বংসের ভেতরেই কেবল
লুকিয়ে আছে মানুষের মুক্তি,
আর কোন যুক্তি নয়, আর কোন কোমল
কবিতা কিংবা গান নয়,
পশুর থাবা থেকে বিশ্বকে মুক্ত করাই হোক
প্রতিটি বিবেকবান মানুষের প্রতিজ্ঞা।
আর কোন অশ্রু নয়, বিলাপ নয়, রক্তের সাগরে আত্মাহুতি নয়,
বন্দুক আর মিসাইল হোক প্রতিটি কবির কলম,
পশুদের বিধ্বংসী গোলাবারুদ হোক
প্রতিটি কবি কিংবা লেখকের অস্ত্র,
পশুদের হিংস্র থাবা থেকে পৃথিবীকে মুক্তির স্লোগানই হোক
পৃথিবীর তাবৎ কবি, লেখক এবং বুদ্ধিজীবীর একমাত্র ভাষা।
এ ছাড়া আর কোন ভাষা নেই,
আর কোন আশা নেই,
আর কোন বিলাপ নয়, আর কোন গোলাপ নয়,
যুদ্ধের প্রস্তুতিই হোক প্রতিটি লেখকের একমাত্র ধ্যান,
বেঁচে থাকার লড়াই হোক মানুষের একমাত্র জ্ঞান।
কেননা প্রতিটি ধ্বংসের অন্ধকারের মধ্যেই লুকিয়ে আছে
নতুন দিনের নতুন আলোর সূর্য,
অতএব আগ্নেয়গিরির মত অস্ত্রের নিনাদ তুলো,
বাজাও পৃথিবীকে রক্ষার দামামা তুর্য।
আর কোন কবিতা কিংবা ছন্দ নয়,
অস্ত্র প্রতিরোধের ভাষাই হোক পৃথিবীর একমাত্র
বাঁচা-মরার লড়াই।

যখন মানুষটি বড় থাকি

পল্লব সেনগুপ্ত

যখন মানুষটি বড় থাকি, বাকি সব তুচ্ছ মনে হয়,
সৌহার্দ্য সময় পার করে দেয়া যায় কিছু না ভেবেই,
এত জটিলতা কিসে?
কিছু বেলুন উড়িয়ে রাখি মনে, কিছু জানালা খোলা রাখি, আলো আসতে দিই,
কিছু বোঝা কাঁধ থেকে নামিয়ে রাখি,
নিজের জন্য এসো ক’টা পা হাঁটি
একটা বিশৃঙ্খল দিনেও সাজিয়ে রাখি নিজেকে আপাদমস্তক,
যেন কিছু হয়নি, কিচ্ছু, সব ঠিকঠাক রয়েছে,
হাসি বিগলিত,
স্নিগ্ধ জোছনায় উজাড় করে দিই নিজেকে,
মুচকি হেসে যুক্ত করি তারাদের,
পাড়াদের গাঁয়ে জোনাকির সাথে কাটাই সময়,
ঝিঝিদের সাথে মিলাই তানপুরা,
ঘুমন্ত পাখিদের পাখায় পাতি শয্যা,
যেন দিনান্তে মানুষ থাকি, ভারবাহী জন্তু না হই।

সম্পর্ক

মীর্জা আবু হেনা কায়সার

আমাদের তিন ভাইয়ের সম্পর্কগুলো
ভুলের স্রোতে ভেসে গেছে
সেই কবেই
ধ্বংস সম্পর্কের খড়কুটো উড়ছে
পাখির ঠোঁটে,
যে টুকো সম্পর্ক বেঁচে আছে
সেই গ্রাম ভিটে মাটি পৈত্রিক বাড়ি ঘর
কয়েক টুকরো পুকুর জল
পুকুর পাড়-
কয়েকটি প্লট জমি জুড়ে
শিবরামপুরে।
বন্টন ভাগাভাগি
পাট চুকে গেলেই
অবশিষ্ট সম্পর্কটুকু ও মিলিয়ে যাবে,
আমরা একজন অন্য জনের মুখ
দেখতেও চাইবো না-
গুটিয়ে যাবো আপন আঙ্গিনায়।
আমাদের অজানা গোপন কষ্টগুলো
মনের ভিতর অভিমানের ডানা ছেড়ে উড়বে।

You may also like

Leave a Comment