ইতিহাসের মাহেন্দ্রক্ষণে দাঁড়িয়ে দেশের নারী ফুটবল। এএফসি এশিয়ান কাপে আজ চীনের বিপক্ষে মাঠে নামলেই ইতিহাসে নাম লেখাবে আফঈদা-মনিকারা। ইতিহাসের সাক্ষী হতে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে হাজির হয়েছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়ালও। গতকাল দুপুরে টিম হোটেল রয়্যাল পার্কে ফুটবলারদের সঙ্গে বসেছিলেন বাফুফে বস। সেখানে ফুটবলারদের উৎসাহ যুগিয়েছেন তাবিথ, দিয়েছেন নানা প্রতিশ্রুতি। তা নিয়েই সিডনিতে আগত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন বাফুফে সভাপতি। তার চুম্বক অংশ পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হলো-
প্রশ্ন: আগামীকাল (আজ) নতুন এক ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ফুটবল। সেখানে নিজে উপস্থিত থেকে দলকে উৎসাহ যোগাতে এতদূর এসেছেন। কী বলবেন?
তাবিথ: অফকোর্স হিস্ট্রি অলরেডি আমরা তৈরি করেছি এবং আশা করি আগামীকাল আরেকটি ইতিহাস আমরা সৃষ্টি করতে পারবো। এই পর্যায়ে আমাদের নারী দল বা পুরুষ দল কেউই এর আগে এত টপ লেভেলে খেলতে পারেনি। বিশেষ করে আমাদের নারী দলের জন্য অফকোর্স আমাদের সবার অভিনন্দন আছে যে তারা র্যাঙ্কিংয়ে অনেক গতিতে এগিয়েছে। তবে আগামীকালের প্রতিপক্ষ চায়না কিন্তু ওয়ার্ল্ড কাপেও খেলে। তবে আমরা কনফিডেন্ট যে আগামীকাল (আজ) চায়নার সঙ্গে আমরা ভালো খেলা উপহার দেবো।
প্রশ্ন: ফুটবলারদের সঙ্গে নিশ্চয়ই আপনি বসেছিলেন। তাদের প্রতি আপনার বার্তা কী ছিল?
তাবিথ: প্রথমে আমার মেসেজ ছিল আমি একজন ফ্যান। আমি একজন ফ্যান হিসেবে বাংলাদেশ থেকে ছুটে এসেছি সিডনিতে, তোমাদের খেলা দেখার জন্য। আমি এবং আরও প্রায় ১৫-২০ জন সাংবাদিক ভাইরা আছেন এবং সিডনির প্রায় ৩০০ জন বাঙালি কিন্তু এই মাঠের দর্শক হিসেবে আসবে। যদি ফুটবলকে না ভালোবাসতাম, যদি এই দলের প্রতি আমার এরকম আস্থা-বিশ্বাস না থাকতো, যদি প্রতিটা প্লেয়ারের ওপর আমাদের ফেইথ না থাকতো, তাহলে আমি এবং আমরা যারা প্রেস থেকে প্লাস অন্য দর্শকরা এসেছি এতদূর, আমরা আসতাম না। আমি সেটাই বলেছি। আমার বার্তা ছিল যে তারা তাদের বেস্টটা দেবে। যতটুকু রিসোর্স আমরা দিতে পেরেছি, আমরা দিয়েছি, এই রিসোর্সের বিনিময়ে তোমরা যতটুকু দিতে পারো দেশের জন্য, নিজের জন্য তারা যেন অবশ্যই খেলে।
প্রশ্ন: তারা কি আপনার কাছে কোন কিছু দাবি করেছে?
তাবিথ: তারা দাবি করেছে যে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আমরা যেন এটলিস্ট নেক্সট ম্যাচের জন্য একটা গিফট বা বোনাস ডিক্লেয়ার করি। আমি বলছি অবশ্যই আমরা করবো, বাট তোমরা বাংলাদেশের জন্য খেলো।
প্রশ্ন: আপনার কাছে কি মনে হয় আমরা এই টুর্নামেন্টের জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে এসেছি?
তাবিথ: আমি অতীতের কথা যদি বলি, আমি মনে করি যে আমরা কখনো কিছু চাই নাই। আমরা চাই নাই, আমরা পাই নাই। সিম্পল কথা। এবার আমরা চেয়েছি এশিয়া কাপে খেলবো, আমরা পেয়েছি। সো এখন আমাদের মেয়ে খেলোয়াড়দের ওপর আরও ইনভেস্ট করতে হবে। তাদের পেছনে যত আমরা ইনভেস্ট করবো সময়, অর্থ, টেকনিক্যাল কোয়ালিটি দিয়েছি। তারা কিন্তু ইকুয়াল পরিমাণ রেজাল্ট বাংলাদেশকে দিতে পারে।
প্রশ্ন: আগামীকাল এশিয়ার সেরা চীন, পরের ম্যাচের প্রতিপক্ষ আরেক পরাশক্তি উত্তর কোরিয়া। গ্রুপের শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তান। কঠিনগ্রুপে পরার কারণে কি আমাদের সম্ভাবনা কমে গেছে?
তাবিথ: সব গ্রুপই কঠিন। এই লেভেলে প্রত্যাশা অনুযায়ী গ্রুপ পাওয়া কঠিন। তবে টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী বেস্ট থার্ড টিম হিসেবে দুটি দল কিন্তু কোয়ালিফাই করবে। তো আমাদের শেষ খেলা পর্যন্ত, তৃতীয় ম্যাচ পর্যন্ত সবসময় একটা চান্স থাকবে। আমি কথা বলেছি ফিজিওর সঙ্গে, ফিটনেস ট্রেইনারের সঙ্গে, নিউট্রিশনিস্টের সঙ্গে। সবাই কিন্তু ভেরি পজিটিভ যে ট্রেনিং সেশন দেখে বাংলাদেশ এটলিস্ট ট্যাক্টফুলি এবং ফিটনেসের দিকে চায়না বা নর্থ কোরিয়ার লেভেলেই আছে। সো লেটস হোপ ফর দ্য বেস্ট ফর টুমরো।
‘সভাপতি হিসেবে নয় একজন ফুটবল ফ্যান হিসেবে সিডনিতে এসেছি’
৪
previous post