Home 3rd Featuredসমঝোতা ছাড়াই শেষ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরমাণু আলোচনা

সমঝোতা ছাড়াই শেষ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরমাণু আলোচনা

তেলের বাজারে অস্থিরতা, কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে ওয়াশিংটন : ভ্যান্স

Muktochinta Online
০ comments views

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান পরমাণু আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত তৃতীয় দফার এই পরোক্ষ আলোচনায় ওমান মধ্যস্থতা করলেও কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরান যদি পরমাণু অস্ত্র ত্যাগ করার ব্যাপারে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি না দেয়, তবে আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ট্রাম্পের ভাষায়, “ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আমাদের চেয়েও বেশি আগ্রহী, কিন্তু তারা যদি পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ না করে, তবে ‘ভয়াবহ কিছ’ ঘটতে যাচ্ছে।” আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কায় পেন্টাগন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে। ইরাক যুদ্ধের পর এবারই প্রথম এত বিশাল সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ ও ফাইটার প্লেন মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হলো। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, ইরান গোপনেই তাদের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। বিপরীতে, তেহরান জানিয়েছে তারা শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের জন্য পরমাণু প্রযুক্তি চায় এবং চুক্তির মাধ্যমে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সামরিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের বাজারে। আজ শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম বেড়ে সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক এর তৃতীয় বৃহত্তম উৎপাদক ইরান থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা উদ্বেগে রয়েছেন। যদি সত্যিই কোনো সামরিক সংঘাত শুরু হয়, তবে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বাজার বিশ্লেষকরা। জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতিতে অটল থাকায় একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। পরবর্তী ১০ দিন বিশ্ব রাজনীতির জন্য অত্যন্ত সংকটময় বলে মনে করা হচ্ছে। এখন পুরো বিশ্বের নজর তেহরান এবং ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে ওয়াশিংটন : ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান উত্তেজনা নিরসনে এখনো সামরিক শক্তির চেয়ে কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই ইঙ্গিত দিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের বিশাল সামরিক উপস্থিতি এবং চরম উত্তেজনার মধ্যেই তার এই মন্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা সবাই কূটনৈতিক পথটিই পছন্দ করি। তবে সবকিছু নির্ভর করছে ইরানিদের পদক্ষেপ এবং তাদের বক্তব্যের ওপর।’ তিনি অতীত সামরিক হস্তক্ষেপের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছেন। যদিও তিনি নিজেকে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের একজন কড়া সমালোচক বা ‘স্কেপটিক’ হিসেবেই দাবি করেন, তবে দেশের প্রয়োজনে যেকোনো পদক্ষেপের সম্ভাবনাও জিইয়ে রেখেছেন। সূত্র : সিএনবিসি, তাস।

You may also like

Leave a Comment