রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে জনস্বার্থে এক বিরল সৌজন্য আর সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাধারণত ট্রাম্পের সঙ্গে ডেমোক্র্যাট শাসিত শহরগুলোর সম্পর্ক খুব একটা মধুর হয় না, কিন্তু বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এই গোপন ওয়াশিংটন সফর সবকিছু বদলে দিয়েছে। মেয়র মামদানি হোয়াইট হাউস থেকে ফেরার সময় শুধু খালি হাতে ফেরেননি, বরং প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে বড় দুটি প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিয়েছেন, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অবাক করে দিয়েছে।
ব্ৃহস্পতিবার সকালে মেয়র মামদানি পরিচয় গোপন রাখতে মুখ ঢেকে কালো টুপি ও মাস্ক পরে বিমানে করে ওয়াশিংটনে পৌঁছান। তিনি গোপন বৈঠকের মাধ্যমে মূলত নিউইয়র্ক সিটিতে বড় আকারের আবাসন (হাউজিং) প্রকল্পের জন্য ফেডারেল সরকারের সমর্থন চাইতে গিয়েছিলেন। পাশাপাশি বৈঠকে তিনি কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির একজন সিনিয়র ছাত্রীর আটক বিষয়টি ট্রাম্পের নজরে আনেন। ওভাল অফিসে কয়েক ঘণ্টার এই দীর্ঘ বৈঠক শেষে মেয়র মামদানি দুটি বড় বিজয়ের কথা ঘোষণা করেন। প্রথমত, নিউ ইয়র্ক সিটিতে বড় আকারের আবাসন প্রকল্প গড়ে তুলতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সম্মতি আদায় করেছেন তিনি। এই আলোচনার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন মেয়র, যেখানে দেখা যায় ট্রাম্প একটি সংবাদপত্রের প্রতীকী কপি ধরে হাসছেন, যার শিরোনাম ছিল ‘সিটি টু ট্রাম্প: লেটস বিল্ড’ (ট্রাম্পের কাছে শহর বলছে, চলুন নির্মাণ করি)। ট্রাম্প এই প্রজেক্টে কাজ করার ব্যাপারে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
দ্বিতীয় সাফল্যটি ছিল কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সিনিয়র ছাত্রী এলমিনা আঘায়েভা (আজারবাইজানের নাগরিক)-এর মুক্তি। বৃহস্পতিবার সকালেই ফেডারেল অভিবাসন সংস্থা (আইসিই) শিক্ষার্থীকে আটক করেছিল। বৈঠকের সময় মেয়র মামদানি তার মুক্তির জন্য ট্রাম্পের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেন। কয়েক মিনিট পর ট্রাম্প মেয়রকে ফোন করে জানান যে শিক্ষার্থীকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হবে। পরে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় নিশ্চিত করে এলমিনাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মেয়র মামদানির এই উদ্যোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সূত্র : দ্য নিউইয়র্ক টাইম।