ফিলিস্তিনের গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে চলমান ইসরাইলি আগ্রাসন নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করলেও পর্দার আড়ালে ইসরাইলের বিতর্কিত নজরদারি প্রযুক্তি বা ‘স্পাইওয়্যার’ কিনছে যুক্তরাজ্য সরকার। আল জাজিরার এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ফিলিস্তিনিদের ওপর প্রয়োগ ও পরীক্ষা করা এসব প্রযুক্তি এখন ব্রিটিশ পুলিশ ও সরকারি সংস্থাগুলো ব্যবহার করছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সেলিব্রাইট এবং ব্রিফক্যাম-এর মতো ইসরাইলি বংশোদ্ভূত কোম্পানির সাথে মোটা অঙ্কের চুক্তি করেছে ব্রিটেনের একাধিক পুলিশ বাহিনী। এই প্রযুক্তিগুলো গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং তাদের আটকের ক্ষেত্রে সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিতর্কিত কোম্পানি ও প্রযুক্তির ব্যবহার:
১. সেলিব্রাইট: ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত এই কোম্পানিটি স্মার্টফোনের পাসওয়ার্ড ভেঙে তথ্য হাতিয়ে নিতে সক্ষম। অভিযোগ রয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী এই সফটওয়্যার ব্যবহার করে হাজার হাজার আটক ফিলিস্তিনিদের ফোন থেকে তথ্য চুরি করেছে। ব্রিটেনের সিটি অফ লন্ডন পুলিশ এবং লিসেস্টারশায়ার পুলিশসহ বেশ কিছু বিভাগ এই সফটওয়্যার ব্যবহারের জন্য লাখো পাউন্ডের চুক্তি নবায়ন করেছে।
২. ব্রিফক্যাম: সিসিটিভি ফুটেজ দ্রুত বিশ্লেষণ এবং মুখম-ল চেনার জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, ইসরাইল এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের চলাচলের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের কামব্রিয়া এবং স্কটল্যান্ড পুলিশ এই প্রযুক্তি ব্যবহারের তালিকায় রয়েছে।
৩. কোরসাইট: গাজায় ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের শনাক্ত ও আটক করতে ইসরাইলি গোয়েন্দা ইউনিট ৮২০০ এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে। সম্প্রতি ব্রিটেনের হোম অফিস তাদের নজরদারি ভ্যানে এই প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে।
প্যালেস্টাইন সলিডারিটি ক্যাম্পেইনের ডেপুটি ডিরেক্টর রিভকা বার্নার্ড আল জাজিরাকে বলেন, ব্রিটিশ সরকারের উচিত হবে না কোনো অবস্থাতেই ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার সংস্থাগুলোকে চুক্তি প্রদান করা। এই কোম্পানিগুলো ফিলিস্তিনিদের ওপর বর্ণবাদী দমন-পীড়নের মাধ্যমে তাদের পণ্য পরীক্ষা করে। জনগণের ট্যাক্সের টাকা এই ধরণের দমনমূলক প্রযুক্তিতে ব্যয় করা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।’ এই স্পর্শকাতর বিষয়ে আল জাজিরার পক্ষ থেকে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা এই ঘটনাকে ব্রিটেনের ‘দ্বিমুখী নীতি’ হিসেবে দেখছেন। একদিকে ব্রিটেন গাজায় মানবিক বিপর্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে, অন্যদিকে সেই বিপর্যয় ও নিপীড়নের মাধ্যমে তৈরি হওয়া প্রযুক্তি কিনে ইসরায়েলি সামরিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। ফিলিস্তিনিদের রক্তে ভেজা এই প্রযুক্তি বা ‘ব্লাড টেক’ ব্যবহারের ফলে ব্রিটেনেও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র : আল-জাজিরা।