Home আর্ন্তজাতিকসফর নিয়ে বিতর্কের মুখে মোদি

সফর নিয়ে বিতর্কের মুখে মোদি

সম্পর্ক আরও জোরদার করছে ভারত ও ইসরাইল

Muktochinta Online
০ comments views

ভারত ও ইসরাইল প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিসহ (এফটিএ) দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির জোরালো অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দুই দিনের বিতর্কিত ইসরাইল সফর শেষে বৃহস্পতিবার জেরুজালেমে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই দেশের শীর্ষ নেতারা এই ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সাইবার নিরাপত্তার মতো উদীয়মান প্রযুক্তিগুলোতে অংশীদারিত্ব বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সফরে দেশ দুটির মধ্যে এক ডজনেরও বেশি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘ভবিষ্যৎ তাদেরই যারা উদ্ভাবন করে। ইসরাইল এবং ভারত উদ্ভাবনে বদ্ধপরিকর। আমরা আমাদের প্রাচীন সভ্যতা নিয়ে গর্বিত, তবে আমরা একসঙ্গে ভবিষ্যৎকে জয় করতে চাই।’ একটি যৌথ বিবৃতিতে ‘হরাইজন স্ক্যানিং’ নামক একটি মেকানিজমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা তথ্য ব্যবহারের মাধ্যমে প্রযুক্তি, অর্থনীতি এবং সমাজের বৈশ্বিক প্রবণতা শনাক্ত করতে সাহায্য করবে। এছাড়া, ইসরাইল অতিরিক্ত ৫০,০০০ ভারতীয় শ্রমিককে দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। গাজা যুদ্ধের কারণে ফিলিস্তিনি শ্রমিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর নির্মাণ ও সেবা খাতে দক্ষিণ এশীয় কর্মীদের চাহিদা মেটাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর এটি প্রধানমন্ত্রী মোদীর দ্বিতীয় ইসরাইল সফর। তবে গাজায় ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যেই এই সফর ভারতে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। উল্লেখ্য, গাজা যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৭২,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাকে আন্তর্জাতিক মহলে অনেকে ‹গণহত্যা› হিসেবে অভিহিত করেছেন। যৌথ বিবৃতিতে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলা এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পহলাগ্রামে পর্যটকদের ওপর হামলার নিন্দা জানানো হয়। মোদী বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সমর্থক হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোদী আন্তর্জাতিক ফোরামে ইসরাইলের সমালোচনা থেকে বিরত থাকছেন।

উভয় দেশই গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি ত্বরান্বিত করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রশংসা করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নয়াদিল্লি ও তেল আবিবের মধ্যে ক্রমবর্ধমান এই ঘনিষ্ঠতা পাকিস্তানের কূটনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন ভারত অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির প্রচেষ্টার নিন্দা জানিয়েছিল, কিন্তু কৌশলগত প্রয়োজনে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক আরও গভীর করতে মোদী সরকার পিছপা হয়নি। সূত্র : আল-জাজিরা।

You may also like

Leave a Comment