Home Featuredইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ‘হাই রিস্ক’ জুয়ায় কি সফল হবে আমেরিকা?

ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ‘হাই রিস্ক’ জুয়ায় কি সফল হবে আমেরিকা?

হোয়াইট হাউসকে যেসব উচ্চ ঝুঁকির কথা আগেই জানিয়েছেন কর্মকর্তারা

Muktochinta Online
০ comments ১২ views

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন ও ভয়াবহ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক হামলা শুরু করেছে।

‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে এই অভিযানকে বিশ্লেষকরা একটি অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু সম্ভাব্য বড় সাফল্যের আশায় পরিচালিত কৌশল হিসেবে দেখছেন।

মার্কিন গণমাধ্যম হাফিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ওপর মার্কিন হামলার আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বেশ কিছু ব্রিফিং দেওয়া হয়। এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ওই ব্রিফিংগুলোতে শুধুমাত্র বড় ধরনের মার্কিন প্রাণহানির ঝুঁকির ব্যাপারে স্পষ্ট সতর্কতা দেওয়া হয়নি, বরং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থের অনুকূলে একটি ‘প্রজন্মগত পরিবর্তনের’ সম্ভাবনাকেও তুলে ধরা হয়েছিল।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) পেন্টাগনের ভাষায় ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ বা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এক নতুন ও অনিশ্চিত সংঘাতের মুখে পড়েছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইরানজুড়ে বিভিন্ন স্থানে আঘাত হেনেছে, যার প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েল এবং নিকটবর্তী উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, ব্রিফিং প্রদানকারীরা প্রেসিডেন্টকে এই অভিযান সম্পর্কে ‘হাই রিস্ক, হাই রিওয়ার্ড’ বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু উচ্চ সম্ভাবনাময় পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।অভিযানের শুরুতে ট্রাম্প নিজেই যেন এই ঝুঁকির কথা স্বীকার করে বলেছিলেন, “সাহসী আমেরিকান বীরদের জীবন হয়তো হারিয়ে যেতে পারে।”

বৃহস্পতিবার সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর নেতৃত্বদানকারী অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে আলোচনায় যোগ দিতে ওয়াশিংটনে উড়ে আসেন।

দ্বিতীয় এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলাগুলোর আগে হোয়াইট হাউসকে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের সাথে সম্পর্কিত বেশ কিছু ঝুঁকির বিষয়ে জানানো হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল—ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ওই অঞ্চলে অবস্থিত একাধিক মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে দিতে পারে, এবং ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর আক্রমণের আশঙ্কা।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করলেও, জরুরি ভিত্তিতে সেখানে পাঠানো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর নিকোল গ্রাজেউস্কি বলেন, ট্রাম্প ইরানীদের সরকারকে উৎখাত করার আহ্বান জানিয়েছেন, কিন্তু বাস্তবে তা বলা সহজ হলেও করা খুব কঠিন।

গ্রাজেউস্কি বলেন, “ইরানের বিরোধী দলগুলো বেশ খণ্ডিত অবস্থায় রয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণ কতটা জেগে উঠতে ইচ্ছুক, তা এখনো অস্পষ্ট।”

শনিবার সকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং দেশটিতে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা হুমকি প্রশমিত করাই এই অভিযানের লক্ষ্য। ট্রাম্প স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই সামরিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন বা ‘রেজিম চেঞ্জ’ আনার সম্ভাবনা দেখছেন।

‘হাই রিস্ক, হাই রিওয়ার্ড’ কেন?

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ও সামরিক বিশ্লেষকরা এই পরিস্থিতিকে ‘হাই রিস্ক, হাই রিওয়ার্ড’ (উচ্চ ঝুঁকি, উচ্চ পুরস্কার) কৌশল হিসেবে অভিহিত করছেন। এর কারণগুলো হলো- এই অভিযানের ফলে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে একটি বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল ইরান নয়, বরং ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও মিত্র দেশগুলোর জন্য বড় বিপদ বয়ে আনতে পারে। এছাড়া, ইরানের পাল্টা আক্রমণের কারণে প্রাণহানির ঝুঁকিও অনেক বেশি।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রশাসনের বড় একটি অংশ মনে করছে, যদি এই সামরিক চাপে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি ভেঙে পড়ে এবং দেশটির অভ্যন্তরে শাসনব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে, তবে দীর্ঘদিনের ইরান-সমস্যার একটি চূড়ান্ত সমাধান হতে পারে। ট্রাম্প এই কৌশলটির মাধ্যমে ইতিহাসে নিজের অবস্থান শক্ত করতে চাইছেন।

ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া

হামলার পরপরই ইরান চুপচাপ বসে থাকেনি। তেহরান সরাসরি ইসরায়েল এবং এই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, এই যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা একটি সীমাবদ্ধ সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক বড় যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে।

বর্তমানে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশ্বনেতারা উভয় পক্ষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।

You may also like

Leave a Comment