আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
وَأَسَرُّواْ ٱلنَّجْوَى ٱلَّذِينَ ظَلَمُواْ هَلْ هَـٰذَآ إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْۖ أَفَتَأْتُونَ ٱلسِّحْرَ وَأَنتُمْ تُبْصِرُونَ
সরল অনুবাদ :
২. আর যারা জালেম তারা গোপনে পরামর্শ করে, এ তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ, তবু কি তোমরা দেখে-শুনে জাদুর কবলে পড়বে? (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৩)
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা :
মক্কার মুশরিকরা যখন দেখল, সাধারণ মানুষ রাসুল (সা.)-এর কথায় আকৃষ্ট হয়ে ইসলাম গ্রহন করছে, তখন তারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে ফিরিয়ে রাখার জন্য বলতো, এ ব্যক্তি তো কোনোক্রমে নবী হতেই পারে না। কারণ এ তো আমাদেরই মতো মানুষ, খায় দায়, বাজারে ঘুরে বেড়ায়, স্ত্রী-সন্তানও আছে। কাজেই এ লোক কী করে নবী হয়? অবশ্যই এ ব্যক্তির কথাবার্তায় এবং ব্যক্তিত্বে জাদু আছে। যার ফলে যে-ই তাঁর কথা শোনে এবং তাঁর কাছে যায় সে-ই তাঁর ভক্ত হয়ে পড়ে।
সুতরাং যদি নিজের ভালো চাও তাহলে তাঁর কথায় কান দিয়ো না এবং এর সঙ্গে মেলামেশা করো না। কারণ এর কথা শোনা এবং এর নিকটে যাওয়া সুস্পষ্ট জাদুর ফাঁদে নিজেকে আটকে দেওয়ার মতোই। (ইবন কাসির)
মূলত তারা নবীর মানুষ হওয়ার ব্যাপারটা অগ্রহণযোগ্য বলে উপস্থাপন করছিল। যাতে তারা মানুষকে সত্য ধর্ম থেকে বিরত রাখা যায়।
অন্যথায়, তাদের এতদিনের মূর্তি-পূজা বিলীন হয়ে যাবে। (আহসানুল বায়ান)
শিক্ষা ও বিধান :
১. সত্যকে অস্বীকার করার জন্য কোনো অজুহাত খোঁজা যাবে না। অন্যথায় ভ্রষ্টতা অনিবার্য।
২. নবীদের মানুষ হওয়াই স্বাভাবিক।
যাতে মানুষ সহজে তাঁদের অনুসরণ করতে পারে।
৩. অহংকার মানুষকে সত্য গ্রহণে বাধা প্রধান করে।
৪. সৎ ব্যক্তির প্রভাবকে ভয় করা যাবে না। কারণ সৎ ব্যক্তিদের কখনো তাদের দমিয়ে রাখা যায় না।