Home শিল্প-সাহিত্যশব্দেরা এসেছে রাজপথে এবং অন্যান্য কবিতা

শব্দেরা এসেছে রাজপথে এবং অন্যান্য কবিতা

Muktochinta Online
০ comments ১৬ views

দেওয়ান মাসুদ রহমান

শব্দেরা এসেছে রাজপথে

ইদানীং কিছু মানুষের মনে উত্তাল অস্থির
রণনৃত্যে জেগে ওঠে—
তাদের শব্দেরা নেমে আসে রাজপথে
রক্তের গান গায় ল্যাম্পপোস্টের আলোয়।

ভাঙা বর্শায় কাঁপে সন্ধ্যার লাল আলো,
ইতিহাস থেমে শোনে সেই হাহাকার—
যেখানে যুদ্ধের উন্মাদনায় জেগে থাকে ক্লান্তি বিষাদ
নিঃশ্বাসে নির্জন সীরাতের পথে।
মানুষেরা—
একজোড়া নীরব আঁধারে
বুক ফুলিয়ে হাঁটে
মিনারের ছায়া যেন আসে রাতের বাসস্ট্যান্ডে।

রহমতের প্রসারিত দিগন্তে
কামনা নয় জেগে ওঠে নূরের মুকুট,
নাভির বদলে হৃদয়ের তটরেখায়
মানুষের ঘাম হয়ে ওঠে দোয়ার প্রতিনিধি।

কামনার গন্ধ নয়—
সেহরির বাতাসে ভেসে আসে
মক্কার মাটির মতো পবিত্র সুবাস।

প্যানিকের রন্ধনশালা পুড়ে গিয়ে
মনের তসবিহের দানায় দানায়
অবশেষে বেজে ওঠে মুক্তির সুর—
দূর মিনার থেকে ভেসে আসে ফজরের আজান।

জালিমের অস্থিরতা বিদায় নেয়,
সমস্ত নিদ্রা সেজদায় আত্মসমর্পণ করে।

শরীরের তারা গুনে
এইসব রাতের ইবাদতলিপি
ধীরে ধীরে শব্দেরা বদলে যায়,
কবিতা হয়ে ওঠে
দোয়ার মতো শান্ত।

****

অন্তর্লীন বিভাজন

নিঃশব্দ প্রলেপে ঢাকা হৃদয়ের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ,
যেখানে স্পন্দন খুঁজে ফেরে নিজেরই বিপরীতে—
শিরার ঘূর্ণিতে প্রতিদিন রচনা হয় অবচেতনের বিদ্রোহ,
আর স্বপ্নেরা, তারা ভাঙে নিয়তির নির্মম বেদনায়।

সময়ের সুতীব্র আঙুলে ছুয়ে যায় স্মৃতিপথ,
যা একদিন বুনেছিল সোনালি সকালের প্রতিশ্রুতি।
তপ্ত নৈঃশব্দে জমে থাকে অপরাধ বোধের ছায়া,
আর আমরা, মানুষেরা, সেই ছায়ার ছায়া হয়ে যাই।

সে এক রক্তাক্ত কবিতা
যেখানে প্রতিটি পঙক্তি লেখা হয় ফেলে আসা সম্ভাবনার শবদেহে।
যা হারিয়েছি, তার গন্ধ লেগে থাকে প্রহরের প্রান্তে,
যা পাইনি, তার প্রতিধ্বনি বাজে অনাগত ঋতুর গহ্বরে।

কিন্তু অপেক্ষা
সে তো এখনো রয়ে গেছে হৃদয়ের গোপন পাঁজরে,
এক ফোঁটা আলো হয়ে।
হয়তো ফিরবে সেই সময়
যখন নিঃশ্বাসে থাকবে অনুশোচনার বিস্ময়,
তখন বুকের গভীরে আবার জেগে উঠবে
একটি পূর্ণতার প্রার্থনা

****

সন্ধ্যা মাগরিব

কতদূর উড়ে যেতে পেরেছি—
তোমার খোলা চুলের ডানায়
শুধু জানে পথের চিহ্ন।

আমি দুপায়ে হেঁটে হেঁটে
পাখির চোখের ডানায়
তোমার অবয়ব ভাস্কর গড়েছি।

শালিখ গ্রামে পৌঁছে
জারুল বৃক্ষতলে কিনেছি সীমানা—
আমার ঠিকানা ফিরে আসে
পাখির অবয়বে,
তোমার খোলা চুলে।

আমার চৌহদ্দি তাই
হয়ে যাচ্ছে কেবল গ্রামখামার—
গন্ধরাজ ফুলের মায়াজাল,
প্রিয়তম মূর্ছনার সুর,
পরিযায়ী চিরন্তন আমোদঘর।

আমি অবশ্য একটি গ্রাম কিনেছি
পাখির পালকে,
আকাশের বিস্তৃত নীলে
অবাধ্য রোদের আলো দিয়ে।

সাদা বকের ফিরে আসা
ক্লান্ত ডানায়
আমার বাড়ি হবে।

বৃষ্টিতে অবিশ্রান্ত ভিজতে থাকা কাক—
তার গম্ভীর ঠোঁটে
বৃষ্টিজলে আচ্ছন্ন পৃথিবী।
বৃক্ষের আদর,
জলশব্দ ডেকে যায় আমাকে।

আমি এমন বিরহী দোলাচল প্রহরে
পড়বো কবিতা
অখণ্ড অবসরে।

তুমি না হয়
সন্ধ্যা মাগরিবের আলো
জ্বেলো হারিকেনে।

You may also like

Leave a Comment