Home বিনোদনআশা ভোঁসলেকে ঘিরে রুনা লায়লার আবেগঘন স্মৃতিচারণ

আশা ভোঁসলেকে ঘিরে রুনা লায়লার আবেগঘন স্মৃতিচারণ

Muktochinta Online
০ comments ১০ views

বাংলাদেশী কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা। ভারতের প্রয়াত কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল রুনার। সম্প্রতি তিনি কিংবদন্তি এই শিল্পীকে ঘিরে ব্যক্তিগত কিছু স্মৃতি শেয়ার করেছেন।

রুনা বলেন, “ছোটবেলায় নিয়মিত রেওয়াজের পাশাপাশি আমি তাঁর গান গাইতাম অনুশীলনের অংশ হিসেবে। তাঁর ‘হরকত’ ও ‘তান’ ছিল আমার পড়াশোনার অংশ। আমরা আসলে লতা দিদি ও আশাজির গান শুনেই বড় হয়েছি। বহু বছর পর কলকাতার একটি অনুষ্ঠানে তাঁর এবং দিদির সঙ্গে দেখা হয়। আমি তাঁদের ফুলের তোড়া উপহার দিই, পা ছুঁয়ে প্রণাম করি এবং আশীর্বাদ নিই।”

উপমহাদেশের জনপ্রিয় এই গায়িকার ভাষ্য, ” মুম্বাইয়ে আমাদের খুব বেশি দেখা হয়নি। লতাজি একবার একটি অনুষ্ঠানে এসেছিলেন, যেখানে আমি গান গাইছিলাম, এবং তিনি আমাকে আশীর্বাদ দেন। অনেকে আমাকে বলার চেষ্টা করেছিল যে দুই বোন নাকি আমার ওপর বিরক্ত। কিন্তু তাঁদের আচরণে আমি সবসময়ই ভালোবাসা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা পেয়েছি। বহু বছর আগে বনি কাপুরের প্রযোজনা এবং গজেন্দ্র সিংয়ের পরিচালনায় আশাজি এবং আমি ‘সুর ক্ষেত্র’ নামের একটি অনুষ্ঠানে বিচারক ছিলাম। অনুষ্ঠানটি দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

একদিন আমি খুব দ্বিধা নিয়ে তাঁর ভ্যানিটির দরজায় নক করে ভেতরে যাই। তিনি অত্যন্ত উষ্ণ ও আন্তরিক ছিলেন। আমি তাঁকে একটি জামদানি শাড়ি উপহার দিই। এরপর থেকেই আমাদের দারুণ সখ্য গড়ে ওঠে। আমরা গল্প করতাম, সংগীত নিয়ে কথা বলতাম। তিনি তাঁর দুঃখ-কষ্টও আমার সঙ্গে ভাগ করে নিতেন। আমাদের বন্ধুত্ব আরও গভীর হয়।”

রুনা লায়লা চিংড়ি মাছের স্মৃতিচারণ করে বলেন—
” তিনি ছিলেন ভীষণ প্রাণবন্ত। আমরা গভীর রাত পর্যন্ত শুটিং করতাম, কিন্তু তিনি এক মিনিটের জন্যও বিরতি নিতেন না। আমি তাঁকে বলতাম একটু বিশ্রাম নিতে, ধীরে চলতে। কিন্তু তিনি তা করতেন না। তিনি সবসময়ই সক্রিয় থাকতেন। একবার তিনি বাজারে গিয়ে চিংড়ি কিনে এনে আমার জন্য পুরো একটি খাবার রান্না করেছিলেন, কারণ তিনি জানতেন আমি চিংড়ি পছন্দ করি।”

আবিদা পারভিন, আশা ভোঁসলে এবং রুনা লায়লা একবার ‘সুর ক্ষেত্র’ রিয়েলিটি শো তে একসঙ্গে মাস্ত কালান্দর গানটি গেয়েছিলেন।
” আমরা হঠাৎ করেই ‘দামা দম মাস্ত কালান্দর’ গানের একটি সংস্করণ গেয়েছিলাম। এক প্রতিযোগী একই গান গাওয়ার পর সঞ্চালকরা আমাদের গাইতে বলেন। প্রথমে আবিদা পারভীনজি গানটি গেয়েছিলেন, তারপর আমি এবং আশাজি যোগ দিই। সেটি ছিল এক অসাধারণ পরিবেশনা। আমরা দুবাইয়ে দুই মাস একসঙ্গে কাটিয়েছিলাম। সময়টা ছিল ভীষণ সুন্দর।”, বলেন তিনি।

এছাড়া ঢাকায় একসঙ্গে গান গাওয়া প্রসঙ্গে এই জীবন্ত কিংবদন্তি বলেন, ” আমার মনে আছে, তিনি একবার ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে এসেছিলেন এবং আমাকে তাঁকে স্বাগত জানানোর জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আয়োজক আমাকে ‘দামা দম’ গাইতে বললে আমি বলি, “না, এটি আশাজির কনসার্ট।” তিনি এতটাই উদার ছিলেন যে বললেন, “এসো, আমরা একসঙ্গে গাই,” এবং আমরা গানটি একসঙ্গে গেয়েছিলাম। তাঁর মধ্যে কোনো অহংকার ছিল না।
আমি তাঁর পা ছুঁয়ে প্রণাম করতে চাইতাম, কিন্তু তিনি আমাকে থামিয়ে বলতেন, “তুমি আমার বন্ধু, এখন আর পা ছুঁয়ো না।” তবুও আমি তাঁর পা ছুঁতাম। আমরা ফোনে যোগাযোগ রাখতাম এবং অনেকক্ষণ কথা বলতাম। তিনি আমাকে বলিউডের নানা খবরও জানাতেন।”

নিজের সুর করা গান সম্পর্কে রুনার বয়ান, ” আমি তাঁর জন্য ‘চলে যাওয়া ঢেউ’ নামে একটি গান সুর করেছিলাম। তিনি সহজেই রাজি হয়ে যান। আমি তাঁকে গানের কথা পাঠাই এবং গানটি গেয়ে শোনাই। রেকর্ডিংয়ের একদিন আগে আমরা তাঁর বাড়িতে গিয়ে রিহার্সাল করি। তিনি বললেন, এখন তুমি আবার গাও এবং দেখাও ঠিক কীভাবে তুমি চাও আমি গাই। আমি বললাম, আশাজি, আপনি এত সিনিয়র, আমি আপনাকে কী শেখাব? কিন্তু তিনি বললেন না! তুমি সুরকার, তুমি দেখাও কীভাবে করতে হবে। তিনি তাঁর নিজস্ব অলংকরণে গানটিকে বিশেষ করে তুলেছিলেন। আমরা গানটি সুরেশ ওয়াডকরজির স্টুডিওতে রেকর্ড করেছিলাম।”

সবশেষে রুনা বলেন, “একজন বন্ধুকে হারানোর শোক আমি কীভাবে বোঝাব? এটি সহ্য করা খুবই কঠিন। এখনও মনে হয়, তিনি যেন মাত্র একটি ফোন কলের দূরত্বেই আছেন।”

সূত্র: ফিল্মফেয়ার

You may also like

Leave a Comment