ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে এর অস্থিরতা সত্ত্বেও পূর্বনির্ধারিত চীন সফর নিয়ে কোনো শঙ্কা দেখছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী মে মাসে বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার সাক্ষাতের কথা রয়েছে। বুধবার ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দ্ব্যর্থহীনভাবে জানান, ইরান পরিস্থিতি তার এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
সাক্ষাৎকারে মারিয়া বার্টিরোমো যখন প্রশ্ন করেন—ইরান, ভেনেজুয়েলা এবং কিউবা ইস্যুতে মার্কিন পদক্ষেপের ফলে তেলের দামের যে পরিবর্তন, তা বেইজিং সফরকে বাধাগ্রস্ত করবে কি না; উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “শি জিনপিংয়ের তেল প্রয়োজন, কিন্তু আমাদের (যুক্তরাষ্ট্রের) নয়।”
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও জানান, তিনি শি জিনপিংয়ের সাথে ব্যক্তিগতভাবে পত্র বিনিময় করেছেন। তিনি চীনকে অনুরোধ করেছিলেন যেন তারা ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ না করে। জবাবে শি জিনপিং তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, চীন এমন কিছু করছে না। যদিও ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার কারণে ট্রাম্পের মার্চ মাসের সফরটি পিছিয়ে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে নেওয়া হয়েছে, তবে বেইজিং এখনো আনুষ্ঠানিক তারিখ নিশ্চিত করেনি।
এদিকে, বেইজিং তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে ইরানকে বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র (MANPADS) পাঠানোর চেষ্টা করছে—এমন এক গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে চীনকে ৫০ শতাংশ ট্যারিফ আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন একে ‘বানোয়াট রিপোর্ট’ বলে অভিহিত করেছেন এবং পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সাইবার হামলা এবং টিকটক চুক্তির বিষয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, তার হস্তক্ষেপে এবং শি জিনপিংয়ের সাথে সুসম্পর্কের কারণেই টিকটক চুক্তিটি সম্ভব হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি এফবিআই-এর একটি সাইবার হামলার রিপোর্টকে হালকাভাবে নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা তাদের ওপর করি, তারাও আমাদের ওপর করে।”
ইরান যুদ্ধ সম্পর্কে ট্রাম্পের দাবি, এই যুদ্ধ প্রায় শেষের দিকে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমি যদি এখনই সরে আসি, তবে ইরানের পুনর্গঠনে ২০ বছর সময় লাগবে। আমরা এখনো কাজ শেষ করিনি, দেখা যাক কী হয়। তবে আমার মনে হয় তারা একটি চুক্তিতে আসতে মরিয়া।”