Home 2nd Featuredজ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে সরকার বিরোধী দলের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে সরকার বিরোধী দলের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

Muktochinta Online
০ comments views

দেশে জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে সরকার ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন 
আহমদ পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন। বর্তমান জ্বালানি সংকট নিয়ে জাতীয় সংসদের অধিবেশন মুলতবি রেখে আলোচনার প্রস্তাব করেন বিরোধীদলীয় নেতা। পরে সংসদের বৈঠক মুলতবি করে বিষয়টি আলোচনা করার গুরুত্ব রাখে কিনা এমন প্রশ্ন রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে প্রস্তাবটি গ্রহণ না করে বিকল্প বিধিতে আলোচনার সুযোগ দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

গতকাল সংসদ অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্পিকারের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় তারা পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য একটি মুলতবি প্রস্তাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা আরও দুই একবার নোটিশে আনার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সুযোগ দেয়া হয়নি। এখন যদি এভাবে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়, তাহলে জনগণের কথা কি এখানে আমরা সবাই মিলে আলোচনা করতে পারবো না? আমরা কি একটু সুযোগ সৃষ্টি করবো না? আমরা সবাই চাই এই সমস্যার সমাধানটা কীভাবে করা যায়? আমরা তো কাউকে দোষারোপ করার জন্য এই আলোচনাটায় যাচ্ছি না।

তিনি বলেন, আমরা বাস্তব অবস্থাটা জেনে কি করা যায়, সেই বিষয়েই তো আমরা কথা বলতে চাচ্ছি। এখন যদি এই সুযোগই দেয়া না হয়, তাহলে আমরা কি ধরে নেবো যে, জনজীবনে এখন যে প্রবলেমটা সবচেয়ে বার্নিং, এটাই আমরা এই সংসদে আলোচনা করতে পারলাম না। এটা কি আমাদের জন্য একটা দুর্ভাগ্য হবে না?

তিনি আরও বলেন, আপনি বিবৃতির কথা বলেছেন। মন্ত্রী যে বিবৃতি দিয়েছেন, আমি বাস্তবের সঙ্গে এর কোনো মিল খুঁজে পাই না। সেই বিবৃতি দিয়ে কি হবে, এই বিবৃতি থেকে সমস্যার সমাধান হবে? একদিকে বলা হচ্ছে তেলের কোনো সংকট নাই। আরেকদিকে বাস্তবে কি ঘটতেছে সেটা তো সম্পূর্ণ ভিন্ন। যে অসন্তুষ্ট মানুষের মধ্যে, আমরা যদি এখানে একটু খোলামেলা আলাপ করতে পারি, সঠিক তথ্যগুলো যদি ফ্লোরে আসে- আমরা সবাই দায়িত্ব ভাগ করে নেই, জনগণ তো আমাদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য এখানে পাঠিয়েছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য আমরাও দায়িত্ব পালন করতে চাই।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, যদি আমাদের নোটিশগুলো এইভাবে কোনোটাই আলোচনায় না আসে, যদি বিবেচনায় না নেন মাননীয় স্পিকার- এখানে থাকবো কেন, কি জন্য? এই সংসদে জনগণ তো তাদের প্রয়োজনে আমাদের পাঠিয়েছে, সেই প্রয়োজন যদি পূরণ করতে না পারলাম থাকার তো কোনো সার্থকতা নাই এই সংসদে।

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা যে প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন, সেটা অবশ্যই আলোচনার যোগ্য এবং জাতীয় জীবনে জরুরি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্পিকার তো আলোচনার বিষয়টা নাকচ করেননি, স্পিকার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতাকে অন্যভাবে বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন। এটা অধিবেশন মুলতবি না করে অন্য কোনোভাবে আলোচনার সুযোগ আছে। অন্য কোনো বিধিতে যেমন আপনি বলেছেন, মাননীয় মন্ত্রী বিবৃতি দিয়েছেন এবং এই বিষয়ে কোনো না কোনোদিন বিভিন্ন বিধিতে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু যেহেতু বিরোধীদলীয় নেতা এই মুলতবি প্রস্তাবটা এনেছেন, এটা আপনি গুরুত্ব দিয়ে তার প্রস্তাবটা রিট আউট করেছেন।

জবাবে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ৬৮ বিধিতে আমি নোটিশ দিতে রাজি আছি। আধা ঘণ্টা সময়, আধা ঘণ্টা সময়ের ভেতরে সরকারি দল বলবে কতোটুকু, আমি বলবো কতোটুকু, আমরা বলবো কতোটুকু? একটা বার্নিং ইস্যু যদি আমাদের এই আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না হয়ে থাকে তাহলে কোনটা হবে? আমার বিশেষ অনুরোধ সংসদ নেতার উপস্থিতিতে বিষয়টা আলোচনার জন্য আপনি তিনদিন সময়ের মধ্যে ফিক্স আপ করতে পারেন।

পরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও আলোচনা করতে চান, আপনার প্রস্তাবেও আলোচনা। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সংসদ মুলতবি করে হবে, নাকি না করে হবে। প্রশ্ন হচ্ছে সংসদ মুলতবি করে হবে কিনা। অলরেডি আধা ঘণ্টার মতো হারমোনিয়াস আলোচনা হয়ে গেছে। তাই সংসদ মুলতবি না করে এই আলোচনাটি আমরা ৬৮ বিধিতে সাধারণ আলোচনা হিসেবে নিয়ে যাই। এটা আমরা আলোচনার ভিত্তিতে আধা ঘণ্টার জায়গায় এক ঘণ্টা করতে পারি, দেড় ঘণ্টা করা যেতে পারে। মুলতবি না রেখে।

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আপনার বুলিতে চন্দন ফুল ফুটুক। আপনি শেষে বলেছেন দেড় ঘণ্টা। আমি মেনে নিলাম। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সুন্দর করে কথা বলার পরেও কি মন গলাতে পারলাম না। আর কোন ভাষায় বললে মন গলবে মাননীয় স্পিকার। ঠিক আছে আপনি যেটা সঙ্গত মনে করেন, সেইটাই করেন। আপনার ওপর ভার ছেড়ে দিলাম। তবে আমরা অর্থবহ আলোচনা চাই।

পরে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদ নেতার (প্রধানমন্ত্রী) উপস্থিতিতে এই আলোচনার দাবি জানান। স্পিকার তাকে ৬৮ বিধিতে নতুন করে নোটিশ দেয়ার পরামর্শ দিয়ে আলোচনার পরিবেশ নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

You may also like

Leave a Comment