Home যুক্তরাষ্ট্রট্রাম্পের বিরুদ্ধে পোপের নজীরবিহীন লড়াই

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে পোপের নজীরবিহীন লড়াই

সিএনএন এর নিবন্ধ

Muktochinta Online
০ comments ১৩ views

পোপ লিও আফ্রিকায় তার গুরুত্বপূর্ণ সফরের শুরুতে সোমবার আলজেরিয়ায় যাত্রা করেন। ওই সময় তিনি সিদ্ধান্ত নেন ডনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক মাধ্যমে করা কঠোর সমালোচনার জবাব সরাসরি দেবেন, নাকি তা উপেক্ষা করবেন।

শেষ পর্যন্ত তিনি দ্বিতীয় পথটি বেছে নেননি। বরং ব্যতিক্রমভাবে সরাসরি হোয়াইট হাউসকে উদ্দেশ্য করে বক্তব্য দেন। পোপের বিমানেই সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি তার কোনো ভয় নেই এবং তিনি ঈশ্বরের বার্তা প্রচার থেকে পিছপা হবেন না।

তিনি বলেন, আমি মনে করি না গসপেলের বার্তাকে এভাবে অপব্যবহার করা উচিত, যেমনটি কিছু মানুষ করছে। তিনি আরও যোগ করেন, অনেক নিরীহ প্রাণ হারিয়েছে। কেউ না কেউকে দাঁড়িয়ে বলতে হবে যে এর চেয়ে ভালো পথ আছে।

তার এই বক্তব্য তাকে ট্রাম্প প্রশাসনের বিপরীতে সবচেয়ে দৃশ্যমান আন্তর্জাতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে তুলে ধরেছে। এটি এমন এক অপ্রত্যাশিত রাজনৈতিক-ধর্মীয় দ্বন্দ্ব তৈরি করেছে, যেখানে মুখোমুখি হয়েছেন প্রথম আমেরিকান পোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।

তবে শিকাগোতে জন্ম নেয়া এই পোপ, যিনি আগস্টিনীয় ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন বিনয় ও নীরবতার জীবন কাটিয়েছেন, সংঘাতের মানুষ নন। তার অগ্রাধিকার বরাবরই ঐক্য ও সংলাপ।

দায়িত্ব নেয়ার পর তিনি দ্রুত কোনো বড় সিদ্ধান্ত না নিয়ে বরং ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনছেন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে জাতিসংঘের ভূমিকা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধার কথা বলছেন। যেখানে ট্রাম্প প্রশাসন বহু সময় এসব কাঠামোর বাইরে অবস্থান নিয়েছে।

তবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান পোপ লিওর অবস্থানকে আরও কঠোর করে তোলে। তিনি এবার সরাসরি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেন। যা পোপদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিরল। যদিও অন্য কর্মকর্তাদের নাম নেননি। তিনি বলেন, যারা যুদ্ধ করে, ঈশ্বর তাদের প্রার্থনা শোনেন না। যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বক্তব্যের পরোক্ষ সমালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পোপদের শান্তি আহ্বান নতুন কিছু নয়। ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন পোপ জন পল দ্বিতীয়। তবে একজন আমেরিকান পোপের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। কারণ লিও ইংরেজিকে মাতৃভাষা হিসেবে ব্যবহার করেন। ১২ শতকের পর যা প্রথম ঘটনা। এছাড়া তার বক্তব্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের জনমতেও প্রভাব ফেলছে।

আফ্রিকা সফরের সময় তিনি শান্তির বার্তা তুলে ধরেন। ক্যামেরুনের বামেন্দায় এক শান্তি সম্মেলনে তিনি বলেন, বিশ্বকে একদল স্বৈরশাসক বিধ্বস্ত করছে, কিন্তু অসংখ্য মানুষ এটিকে ধরে রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, যারা ধর্ম ও ঈশ্বরের নামকে যুদ্ধ, অর্থনীতি বা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে, তাদের জন্য ধিক্কার।

ট্রাম্প ও পোপের মধ্যে উত্তেজনা নতুন নয়। নির্বাচনের আগে ট্রাম্প পোপকে কেন্দ্র করে এআই-নির্মিত একটি ছবি পোস্ট করেন, যা ভ্যাটিকানে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

এখন পর্যন্ত পোপ লিওর সঙ্গে ট্রাম্পের সরাসরি কোনো যোগাযোগ হয়নি। তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তার অভিষেকে উপস্থিত ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্র সফরের আমন্ত্রণ জানান। ভ্যাটিকান জানিয়েছে, পোপ ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন না।

ভ্যান্স সম্প্রতি বলেন, পোপকে ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে বক্তব্য দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত এবং ন্যায়যুদ্ধ তত্ত্ব বিবেচনায় রাখা দরকার। এই তত্ত্ব ক্যাথলিক ধর্মে শতাব্দীপ্রাচীন এবং এর অন্যতম স্থপতি ছিলেন সেন্ট অগাস্টিন, যার ধর্মীয় ধারার সঙ্গে পোপ লিও সরাসরি যুক্ত।

ভ্যাটিকানের সংবাদ বিভাগ বলেছে, আধুনিক যুগে পারমাণবিক অস্ত্রের বাস্তবতায় ন্যায়যুদ্ধ ধারণা কার্যত প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভ্যান্স ও পোপের মধ্যে এই মতবিরোধ কেবল ধর্মীয় নয়, বরং রাজনৈতিক ও আদর্শিক সংঘাতও নির্দেশ করে। বিশেষ করে অভিবাসন নীতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে পোপ লিও যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা করেছেন।

ভ্যাটিকান বিশ্লেষকরা বলছেন, ইতিহাসের দৃষ্টিতে পোপ এই পরিস্থিতিকে সাম্রাজ্যের উত্থান-পতনের অংশ হিসেবেই দেখছেন। এক বিশ্লেষকের ভাষায়, সাম্রাজ্য আসে, আবার চলে যায়।

You may also like

Leave a Comment