আগামী ১১ জুন শুরু হবে ফুটবল বিশ্বকাপের এবারের আসর। পুরো দুনিয়াই তখন বুঁদ থাকবে এই টুর্নামেন্টে। ফুটবল বিশ্বকাপে খেলবে অস্ট্রেলিয়াও। একই সময়ে দেশটির ক্রিকেট দল আসবে বাংলাদেশ সফরে। বছরের শুরুতেই এই সিরিজের কথা জানিয়েছিল বিসিবি। গতকাল তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও সমানসংখ্যক টি-টোয়েন্টি র সিরিজটি নিশ্চিত করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াও (সিএ), জানিয়েছে ম্যাচের ভেন্যু ও সময়ও।
২০১১ সালের পর এবারই প্রথম বাংলাদেশের মাটিতে ওয়ানডে খেলবে অস্ট্রেলিয়া। ১৫ বছর পর হতে যাওয়া এই সিরিজের সব ম্যাচই হবে মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। পূর্ব ঘোষিত সীমিত ওভারের সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। এই বছরের শুরুতে ঘরের মাঠের সব সিরিজের যে সূচি ঘোষণা করেছিল বিসিবি, সেটি অনুযায়ী আগামী ২ জুন বাংলাদেশে আসার কথা ছিল অস্ট্রেলিয়ার। তবে সেখানে পরিবর্তন আসছে পাকিস্তানের অস্ট্রেলিয়া সফরের কারণে। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে ৩০ মে পাকিস্তানে যাবে ওয়ানডের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। বাংলাদেশে ওয়ানডে সিরিজ শুরুর কথা ছিল ৫ জুন। নতুন সূচিতে ওয়ানডে সিরিজটি শুরু হবে ৯ জুন। পরের দুই ম্যাচ ১১ ও ১৪ জুন। চট্টগ্রামে টি-টোয়েন্টি সিরিজের ম্যাচ তিনটি হবে ১৭, ১৯ ও ২১ জুন।
বাংলাদেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়া সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছিল ২০১১ সালের এপ্রিলে। মিরপুরে অনুষ্ঠিত সেই তিন ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে জিতেছিল অজিরা। শেন ওয়াটসনের ৯৬ বলে ১৫টি ছক্কা ও সমানসংখ্যক চারে সাজানো অপরাজিত ১৮৫ রানের সেই বিধ্বংসী ইনিংসটি ক্রিকেটপ্রেমীদের এখনো মনে থাকার কথা। মাইকেল ক্লার্কের অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক হওয়া সেই সিরিজে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন মাইকেল হাসিও। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া সর্বশেষ বাংলাদেশ সফর করেছিল ২০২১ সালের আগস্টে। সেবার পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে অজিদের উড়িয়ে দিয়েছিল টাইগাররা। নাথান এলিসের অভিষেকেই হ্যাটট্রিক করার পাশাপাশি সেই সফরে সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে জটিলতার কারণে অস্ট্রেলিয়ান দর্শকদের খেলা দেখতে না পারার বিষয়টি বেশ আলোচিত হয়েছিল।
তবে এবার আর অস্ট্রেলিয়ান দর্শকদের হতাশ হতে হচ্ছে না। ফক্সটেল গ্রুপ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মধ্যে নতুন সম্প্রচার চুক্তির ফলে ২০১১ সালের পর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মাটিতে হওয়া কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ সরাসরি দেখতে পারবেন অজি সমর্থকরা। ফক্স ক্রিকেট ও কায়ো স্পোর্টসে ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচারিত হবে। আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিতব্য ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে এই সিরিজ অস্ট্রেলিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি, ফেব্রুয়ারিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে হতাশাজনক বিদায়ের পর এই সিরিজ দিয়েই আবারও সংক্ষিপ্ত সংস্করণে মাঠে নামবে তারা। এবারের দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের এই সংক্ষিপ্ত সফরটি মূলত অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তর উপমহাদেশীয় সফরেরই একটি অংশ। এই মাসের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাচক জর্জ বেইলি জানান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সফরের আগে ব্রিজবেনে ন্যাশনাল ক্রিকেট সেন্টারে একটি ক্যাম্প হবে তাদের। আইপিএলে ও কাউন্টি ক্রিকেটে থাকা ক্রিকেটাররা অবশ্য থাকবেন না সেই ক্যাম্পে।
এই সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই আগামী আগস্টে দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুটি টেস্ট খেলতে যাবে বাংলাদেশ। সফরে, ডারউইন ও ম্যাকাইতে দুটি টেস্ট খেলর কথা তাদের।
ফুটবল বিশ্বকাপের মাঝে আসছে অস্ট্রেলিয়া
ওয়ানডে ঢাকায়, চট্টগ্রামে টি-টোয়েন্টি
১৩
previous post