Home ধর্মমুসা (আ.) ও খিজির (আ.)-এর শিক্ষাসফর

মুসা (আ.) ও খিজির (আ.)-এর শিক্ষাসফর

Muktochinta Online
০ comments ১২ views

মানুষ মনে করে—সে যা জানে, সেটাই পূর্ণ জ্ঞান। কিন্তু আল্লাহ কখনো কখনো এমন কিছু ঘটনা দেখান, যা আমাদের শেখায়—মানুষের জ্ঞান সীমিত, আর আল্লাহর পরিকল্পনা অসীম। সুরা কাহাফে বর্ণিত মুসা (আ.) ও খিজির (আ.)-এর ঘটনা সেই গভীর সত্যের এক অনন্য উদাহরণ। একদিন মুসা (আ.)-কে বলা হলো—এক বিশেষ বান্দা আছেন, যাকে আল্লাহ এমন জ্ঞান দিয়েছেন, যা সাধারণ দৃষ্টিতে বোঝা যায় না।

তখন সেই জ্ঞান অর্জনের আগ্রহে মুসা (আ.) দীর্ঘ সফরে বেরিয়ে পড়লেন। অবশেষে তিনি খিজির (আ.)-এর সাক্ষাৎ পেলেন এবং বিনয়ের সাথে বললেন— ‘আমি কি আপনার অনুসরণ করতে পারি, যাতে আপনি আমাকে সেই জ্ঞান শিক্ষা দেন, যা আপনাকে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে?’ (সুরা : কাহাফ, আয়াত : ৬৬) তখন খিজির (আ.) সতর্ক করে বললেন— ‘আপনি আমার সাথে ধৈর্য ধরে থাকতে পারবেন না।’ (সুরা : কাহাফ, আয়াত : ৬৭)

কিন্তু মুসা (আ.) নাছোড়বান্দা। দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করলেন যে তিনি ধৈর্য ধরবেন।

কিন্তু এরপর শুরু হলো একের পর এক রহস্যময় ঘটনা। প্রথমে তারা একটি নৌকায় উঠলেন। হঠাৎ খিজির (আ.) নৌকাটিতে ছিদ্র করে দিলেন! মুসা (আ.) অবাক হয়ে বললেন, ‘আপনি কি এটি ডুবিয়ে দেওয়ার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত করলেন? এটি তো এক গুরুতর কাজ!’ (সুরা : কাহাফ, আয়াত : ৭১)

খিজির (আ.) স্মরণ করিয়ে দিলেন, ধৈর্য ধরতে হবে। এরপর তারা এক কিশোরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন।

হঠাৎ খিজির (আ.) তাকে হত্যা করলেন! এবার মুসা (আ.) আরও বিস্মিত হয়ে বললেন, ‘আপনি কি এক নির্দোষ প্রাণকে হত্যা করলেন? এটা তো অত্যন্ত অন্যায়!’ (সুরা : কাহাফ, আয়াত: ৭৪)

তবু খিজির (আ.) বললেন, ধৈর্য রাখতে। শেষে তারা এক গ্রামে পৌঁছালেন, যেখানে মানুষ তাদের আপ্যায়ন করতে অস্বীকার করল। কিন্তু খিজির (আ.) সেখানে একটি ভেঙে পড়া দেয়াল ঠিক করে দিলেন, কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই! তখন মুসা (আ.) বললেন— ‘আপনি চাইলে এর জন্য পারিশ্রমিক নিতে পারতেন।’ (সুরা : কাহাফ, আয়াত : ৭৭)

এবার খিজির (আ.) বললেন, এটাই আমাদের বিচ্ছেদের সময়। এরপর তিনি একে একে সব ঘটনার রহস্য উন্মোচন করলেন।

নৌকাটি ছিল গরিব মানুষের। সামনে এক অত্যাচারী রাজা ছিল, যে ভালো নৌকা জোর করে ছিনিয়ে নিত। তাই সেটিকে সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত করে তিনি সেটিকে রক্ষা করেছেন। কিশোরটি বড় হয়ে তার মুমিন পিতা-মাতাকে কষ্ট দিত এবং অবাধ্য হয়ে যেত। তাই আল্লাহ চেয়েছেন, তার পরিবর্তে তাদের একজন উত্তম সন্তান দান করবেন। আর দেয়ালের নিচে ছিল দুই এতিম শিশুর গুপ্তধন। তাদের পিতা ছিলেন সৎ ব্যক্তি। তাই আল্লাহ চেয়েছেন—তারা বড় হওয়া পর্যন্ত তাদের এই সম্পদটুকু নিরাপদ থাকুক। তারপর খিজির (আ.) বললেন— ‘আমি এসব কিছু আমার নিজের ইচ্ছায় করিনি…(সবই ছিল আল্লাহর নির্দেশ)।’ (সুরা : কাহাফ, আয়াত : ৮২)

এই ঘটনাগুলো আমাদের হৃদয়ে গভীর এক উপলব্ধি জাগায়—জীবনে অনেক কিছু আমরা বুঝতে পারি না, অনেক ঘটনা অন্যায় বা কষ্টকর মনে হয়। কিন্তু বাস্তবে তার পেছনে থাকে আল্লাহর সুপরিকল্পিত রহস্য। মুসা (আ.)-এর মতো মহান নবীও সবকিছু তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারেননি। তাই যখন কোনো ঘটনা আমাদের কাছে অযৌক্তিক বা কষ্টদায়ক মনে হয়, তখন মনে রাখা উচিত—হয়তো এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে এমন কল্যাণ, যা আমরা এখনো দেখতে পাচ্ছি না।

You may also like

Leave a Comment