Home খেলাধুলাযে কারণে চেয়ার হারালেন বুলবুল

যে কারণে চেয়ার হারালেন বুলবুল

Muktochinta Online
০ comments ১৩ views

গত অক্টোবরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনে তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়ার সরাসরি হস্তক্ষেপ ছিল। তিনি তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে কাউন্সিলরদের চাপ দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। 

সজিব ভূঁইয়ার এমন হস্তক্ষেপের কারণে আজ (৭ এপ্রিল) বিসিবির সভাপতির চেয়ার হারাতে হলো জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে। এমনটাই মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।

বিসিবি নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ছিল না জানিয়ে ঢাকার ৫০ ক্লাব, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার মনোনয়নবঞ্চিত বড় অংশ এবং সাবেক ক্রিকেটার, সার্ভিসেস, ইউনিভার্সিটির সমন্বয়ে গড়া ক্যাটাগরি- ৩ এর লিখিত অভিযোগ করে। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ১১ মার্চ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) সাবেক বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

গত পরশু ৫ এপ্রিল তদন্ত কমিটি রিপোর্ট জমা দেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের সুপারিশও প্রদান করে। তারা বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও সুন্দর করতে গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রস্তাব দেয়। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আইসিসির কাছে পাঠানোর পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আজ (৭ এপ্রিল) মঙ্গলবার আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবির কমিটি ভেঙে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ১১ জনের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে এনএসসি। 

আজ নতুন কমিটি দেওয়ার আগে ক্রীড়া পরিষদ কর্মকর্তা আমিনুল এহসান বলেছেন, ‘তদন্ত রিপোর্টে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার হস্তক্ষেপ খুঁজে পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে চাপ দিয়েছেন তিনি। শেরাটন হোটেলে আসিফ মাহমুদ ও সাখাওয়াত হোসেন প্রভাবিত করেছেন ভোটারদেরকে পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার জন্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমিনুল ইসলাম বুলবুল একটা পক্ষ হিসেবে ১০ ক্রিকেটারকে মনোনয়ন দিয়ে সুবিধা নিয়েছেন, এই প্রমাণও পাওয়া গেছে। এই নির্বাচন অসম্পূর্ণ ও অনিয়মে ভরা হিসেবে দেখছে কমিটি।’

তার দাবি, ‘আমরা এই তদন্ত রিপোর্ট আইসিসিতে পাঠিয়েছি।  আশা করি নির্বাচনে যেভাবে নিয়ম ভঙ্গ করা হয়েছে, সেগুলো বিবেচনা করে তারা নতুন কমিটিকে অনুমোদন দেবে।’

শুধু তাই নয়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি তাদের রিপোর্টে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বিরুদ্ধে ১৮টি অভিযোগ সামনে আনে-

১) কাউন্সিলর নাম জমা দেওয়ার সময়সীমা বৃদ্ধি

২) অ্যাডহক কমিটি থেকে কাউন্সিলর নাম পুনঃপ্রেরণের নির্দেশ

৩) নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে মনোনয়নের জন্য চাপ

৪) অ্যাডহক কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন

৫) চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ নির্দিষ্ট সময়ের পর 

৬) অ্যাডহক কমিটিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বিসিবির অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ

৭) সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার হস্তক্ষেপ

৮) ক্রীড়া উপদেষ্টার সহায়তায় ই-ভোটে নির্বাচন কারচুপি

৯) নির্দিষ্ট স্থান থেকে গোপনীয়তা ব্যতীত ই-ভোট প্রদান

১০) অ্যাডহক কমিটিতে আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং নাজমুল আবেদীন ফাহিমকে অন্তর্ভুক্ত করা

১১) নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ

১২) বিসিবি সংবিধানের লঙ্ঘন

১৩) ই-ভোটিং সিস্টেমের অপব্যবহার

১৪) সময়সীমার পরে মনোনয়ন গ্রহণ

১৫) পছন্দের প্রার্থীদের অনৈতিক সুবিধা প্রদান

১৬) নির্দিষ্ট স্থানে ই-ভোটারদের ভোট প্রদানে প্রভাবিত করা।

১৭) সামগ্রিক ভোটদান পরিবেশ।

১৮) বিসিবি সংবিধানের লঙ্ঘন।

You may also like

Leave a Comment