Home খেলাধুলাঅ্যাডহক কমিটি অবৈধ দাবি, আইসিসির হস্তক্ষেপ কামনা বুলবুলের

অ্যাডহক কমিটি অবৈধ দাবি, আইসিসির হস্তক্ষেপ কামনা বুলবুলের

Muktochinta Online
০ comments ১৮ views

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সবশেষ নির্বাচন নিয়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনকে ক্রুটিপূর্ণ, খামখেয়ালি ও আইনত অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করেছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। একই সঙ্গে নিজেকেই একমাত্র বিসিবির বৈধ সভাপতি উল্লেখ করে তিনি বলেছেন,  নির্বাচিত পরিচালক পর্ষদের বিলুপ্তি এবং নতুন ‘অ্যাড-হক কমিটি গঠন একটি ‘সাংবিধানিক অভ্যুত্থান।’

বুলবুলের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে মঙ্গলবার তামিম ইকবালের নেতৃত্বে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের অভিবাবক সংস্থা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। রাতেই নিজ সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন বুলবুল।

“আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলছি যে, ২০২৬ সালের ৫ই এপ্রিল দাখিল করা প্রতিবেদনটি একটি ত্রুটিপূর্ণ, খামখেয়ালী এবং আইনত অগ্রহণযোগ্য দলিল, যার আইন বা বিসিবির গঠনতন্ত্রের দৃষ্টিতে কোনো ভিত্তি নেই।”

” ১৫টি ক্লাব এবং তামিম ইকবালের কাউন্সিলর পদ সংক্রান্ত আপত্তিসহ উত্থাপিত আপত্তিগুলো যথাযথভাবে শোনা হয়েছে এবং ২৪-২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে আধা-বিচারিক শুনানির মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে। রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষী কিছু সাবেক খেলোয়াড়ের ছড়ানো ‘নির্বাচন ফিক্সিং’-এর আখ্যানটি বোর্ডকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে তৈরি একটি মনগড়া কাহিনী।”

এনএসসির কমিটির প্রতিবেদনকে বাতিল দাবি করে তিনি কাঠগড়ায় দাঁড় করান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হককে।

“বিসিবির মতো একটি স্বায়ত্তশাসিত ও স্বশাসিত ফেডারেশনের একটি সমাপ্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়া তদন্ত করার কোনো এখতিয়ার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নেই। আইসিসির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সদস্য বোর্ডগুলোকে অবশ্যই সরকারি হস্তক্ষেপমুক্তভাবে কাজ করতে হবে। প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের উদ্যোগে শুরু হওয়া এনএসসির এই তদন্ত একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ, কোনো আইনি প্রক্রিয়া নয়। এখতিয়ার বহির্ভুত হওয়ায় প্রতিবেদনটি বাতিল।”

তার পর্ষদকে বাতিল করে তামিমের অ্যাডহক কমিটি গঠনের মাধ্যমে আইসিসির বিধি ভঙ্গ করা হয়েছে বলেও মনে করেন বুলবুল। এজন্য বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করলেন জাতীয় দলের সাবেক এই ক্রিকেটার।

“নির্বাচিত পরিচালক পর্ষদের কথিত বিলুপ্তি এবং তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ‘অ্যাড-হক কমিটি’ চাপিয়ে দেওয়া একটি সাংবিধানিক অভ্যুত্থান। এই পদক্ষেপটি অবৈধ, বিসিবি গঠনতন্ত্রে এখতিয়ার বহির্ভূত এবং সরকারি হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত আইসিসির নিয়মের সরাসরি লঙ্ঘন। এনএসসি অধ্যাদেশে সংজ্ঞায়িত চরম পরিস্থিতি ব্যতীত কোনো নির্বাচিত সংস্থাকে বিলুপ্ত করার ক্ষমতা এনএসসির নেই, যার কোনোটিই এখানে বিদ্যমান নেই। ‘অ্যাড-হক কমিটি’ একটি অবৈধ সত্তা । এর কর্তৃত্বকে আমরা স্বীকৃতি দিই না এবং আইসিসিকে অবিলম্বে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবং এই অবৈধ সংস্থাকে কাজ করতে না দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাই আমরা।”

“আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই বুঝতে হবে যে, সরকার আমাদের ক্রিকেটীয় স্বায়ত্তশাসনের গলায় ছুরি ধরে রেখেছে।”

“আমরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) আমাদের নির্বাচিত বোর্ডের পবিত্রতা রক্ষায় অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানাচ্ছি। ‘অ্যাড-হক কমিটি অবৈধ। তদন্ত প্রতিবেদনটিও অবৈধ। সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী এবং একজন ঊর্ধ্বতন সিআইডি কর্মকর্তাসহ একটি নিরপেক্ষ তিন সদস্যের কমিশন দ্বারা পরিচালিত ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবরের নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে পরবর্তীতে কোনো সরকারি সংস্থা প্রশ্ন তুলতে পারে না।”

হাইকোর্ট অন্য কোনো রায় না দেওয়া পর্যন্ত তিনিই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি থাকবেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে দাবি তোলেন বুলবুল।

You may also like

Leave a Comment