লেবাননের বর্তমান অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং চলমান যুদ্ধাবস্থা বিবেচনা করে নিজের পূর্বনির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ সফর স্থগিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম। আজ শনিবার (প্রদত্ত তথ্যমতে) বৈরুত থেকে এক বার্তায় তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম বলেন, “লেবাননের বর্তমান অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় আমি আমার জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র সফর স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই মুহূর্তে বৈরুতে অবস্থান করে সরকারের কাজকর্ম সরাসরি তদারকি করা এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা অত্যন্ত জরুরি।”
এর আগে শুক্রবার লেবানন সরকারের একটি সূত্র সিএনএন-কে নিশ্চিত করেছিল যে, ইসরায়েল লেবাননের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেওয়ায় নাওয়াফ সালাম আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ওয়াশিংটন সফরে যেতে পারেন।
তবে লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। লেবানন ও ইসরায়েল সীমান্তে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার হামলা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতায় হওয়া দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর থাকলেও, সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে ইসরায়েলের হামলা এবং অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক অস্থিরতা সামাল দিতেই প্রধানমন্ত্রী এই সফর বাতিল করে দেশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ওয়াশিংটন সফর স্থগিত হওয়ার ফলে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্ভাব্য সরাসরি আলোচনার প্রক্রিয়া কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।