Home 3rd Featuredনাহিদের গতির ঝড়ে স্বস্তি

নাহিদের গতির ঝড়ে স্বস্তি

Muktochinta Online
০ comments views

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে গতকাল বল হাতে গতির ঝড় তোলেন নাহিদ রানা। আর এতেই বাংলাদেশ শিবিরে ফিরেছে স্বস্তি। তার আগুনঝরা বোলিংয়ে সিরিজের ২য় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। এই জয়ে ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা ফেরালো স্বাগতিকরা। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা কিউইদের ইনিংস গুটিয়ে যায় মাত্র ১৯৮ রানে। জবাবে ৮৭ বল হাতে রেখেই অনায়াসে লক্ষ্যে পৌঁছায় বাংলাদেশ। রান তাড়া করতে নেমে শুরুতে সাইফ হাসান ও সৌম্য সরকারকে হারালেও দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তানজিদ হাসান তামিম। তার ৫৮ বলে ৭৬ রানের ঝড়ো ইনিংসে প্রতিপক্ষের দেয়া লক্ষ্য বেশ সহজ হয়ে যায়।

এই ওপেনারের বিদায়ের পর বাকিটা পথ অনায়াসে পাড়ি দেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহীদ হৃদয়। তবে আসল নায়ক ছিলেন নাহিদ। প্রচণ্ড গরমেও অবিরত গতির ঝড় তুলে তরুণ এই ফাস্ট বোলার শিকার করেছেন ৫টি উইকেট। তার বোলিং তোপেই মূলত ভেঙে পড়ে সফরকারীদের ব্যাটিং মেরুদণ্ড। গতি আর বাউন্সের এমন প্রদর্শনী দেশের ক্রিকেটে বেশ বিরল। ১ম স্পেলেই প্রতিপক্ষকে চরম চাপে ফেলার পর পুরনো বলেও তিনি ছিলেন সমান ভয়ঙ্কর। ব্যাটারদের চরম ব্যর্থতার দিনে বোলারদের এমন দাপুটে পারফরম্যান্স মাঠে আসা দর্শকদের দারুণ আনন্দ দিয়েছে। দুর্দান্ত এই বোলিংয়ের সুবাদে ম্যাচসেরার পুরস্কারও নিজের ঝুলিতে পুরেছেন নাহিদ। এ জয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়ে স্বস্তি নিয়ে আজ শেষ ওয়ানডে খেলতে চট্টগ্রামের পথ ধরবে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে রানা বলেন, ‘ঘরের মাঠে আমরা সর্বোচ্চ সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করবো। তবে নির্দিষ্ট দিনে যারা মাঠে ভালো খেলবে, দিনশেষে জয় তাদেরই হবে।’

ম্যাচের শুরুতে তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম বল হাতে দারুণ সূচনা করেন। ১ম ৪ ওভারে তারা মাত্র ৩ রান দেন। এরপর কিউইরা কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। তবে নাহিদ আক্রমণে এসেই দৃশ্যপট পাল্টে দেন। নিজের ১ম বলেই তিনি হেনরি নিকোলসকে সাজঘরে ফেরান। ১৪৫ কিলোমিটার গতির সেই ডেলিভারিটি ছিল দুর্দান্ত। পরের ওভারে আরেক ওপেনার উইল ইয়াংকেও আউট করেন রানা। পাওয়ার প্লে শেষে ১০ ওভারে সফরকারীদের রান ছিল মাত্র ২৮। দলের অভিজ্ঞ ব্যাটার টম ল্যাথামও ত্রাতা হতে পারেননি। তাকে আউট করেন একাদশে ফেরা সৌম্য সরকার। এক প্রান্তে নিক কেলি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা চালান। তিনি মুহাম্মাদ আব্বাসের সঙ্গে ৫০ রানের একটি জুটি গড়েন। কিন্তু ২য় স্পেলে ফিরে নাহিদ আবারো আঘাত হানেন। বাউন্সারে বোকা বানিয়ে তিনি আব্বাসকে বিদায় করেন। লিটন কুমার দাসের অসাধারণ ক্যাচে তার পতন ঘটে।

এরপর কেলি ১১৪ বলে ৮৩ রান করে শরিফুলের শিকার হন। শেষদিকে ডিন ফক্সক্রফটকেও দ্রুত আউট করেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা পেসার নাহিদ রানা। নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে নাহিদ বলেন, ‘না আসলে দেখেন, নরমালি প্রত্যেকটা দিন প্রত্যেকটা ম্যাচ একটা প্লেয়ারের জন্য ভালো যায় না। আগের ম্যাচটা আমার জন্য হয়তো ভালো দিন ছিল না এবং আমার দিন ছিল না আমি এক্সিকিউট করার চেষ্টা করেছি এক্সিকিউট হয় নাই। এই ম্যাচে এক্সিকিউট করার চেষ্টা করেছি এবং প্ল্যান অনুযায়ী বোলিং করার চেষ্টা করেছি আজকে হয়েছে।’

এদিন রিশাদ হোসেন ১টি উইকেট নেন। তার বলে পয়েন্টে ক্যাচ দেন জশ ক্লার্কসন। ইনিংসের শেষ ওভারে জেডন লেনক্সকে দুর্দান্ত ইয়র্কারে বোল্ড করে নিজের ফাইফার পূর্ণ করেন নাহিদ। তার ১০ ওভারের স্পেলে ১টি মাত্র স্লোয়ার বাদে বাকি সব ডেলিভারি ছিল ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি। এই আগুনে বোলিংয়েই ২০০-এর নিচে আটকে যায় কিউইরা। সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় স্বাগতিকরা। শুরুর ৩ বলে ২টি বাউন্ডারি মারার পর সাইফ হাসান বোল্ড হন ন্যাথান স্মিথের বলে। ক্রিজে এসে বাঁহাতি সৌম্য চমৎকার ছক্কা হাঁকালেও ওই ওভারেই স্লিপে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। দ্রুত ২ উইকেট হারিয়ে কিছুটা শঙ্কায় পড়েছিল স্বাগতিক শিবির। তবে তানজিদ ক্রিজে এসে দ্রুতই ম্যাচের কঠিন পরিস্থিতি সামাল দেন। স্মিথকে টানা ২টি ছক্কা মেরে তিনি নিজের আগ্রাসী মনোভাবের কড়া জানান দেন। নতুন ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্তও দারুণভাবে তাকে সঙ্গ দেন। এই ২ প্রতিভাবান ব্যাটারের দুর্দান্ত জুটিতে ভর করে দলের রান দ্রুত গতিতে বাড়তে শুরু করে।

শান্ত ও তানজিদের শতরানের জুটি মূলত কিউইদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। বাউন্ডারির পর বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তানজিদ মাত্র ৩৩ বলে নিজের হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন। ১১০ বলে ১২০ রান যোগ করার পর এই জুটি ভাঙে। লেনক্সের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে তানজিদ আউট হন। তার ইনিংসে ১০টি চার ও ৪টি বিশাল ছক্কার মার ছিল। দলের জয় তখন প্রায় নিশ্চিত। ক্যারিয়ারের শততম ওয়ানডে খেলতে নামা লিটন বাজে শট খেলে আউট হয়ে হতাশ করেন। অন্যদিকে শান্ত ১৩ ইনিংসের খরা কাটিয়ে চমৎকার হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন। ৭১ বলে ৫০ রান করে ক্র্যাম্পের কারণে তিনি আহত হয়ে অবসর নেন। এরপর বাকি কাজটুকু অনায়াসেই শেষ করেন তাওহীদ হৃদয় ও মেহেদী হাসান মিরাজ। হৃদয় ৩০ ও মিরাজ ৮ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন।

You may also like

Leave a Comment