Home প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানগরমে বারবার এসি অন-অফ করছেন, জানেন কী কী ক্ষতি করছেন?

গরমে বারবার এসি অন-অফ করছেন, জানেন কী কী ক্ষতি করছেন?

Muktochinta Online
০ comments views

তীব্র গরমে একটু স্বস্তির জন্য এয়ার কন্ডিশনার বা এসির ওপর নির্ভরশীলতা এখন প্রায় সবারই। কিন্তু অনেকেই বিদ্যুৎ বাঁচানোর আশায় বারবার এসি চালু ও বন্ধ করেন। দেখতে সাধারণ অভ্যাস মনে হলেও, বাস্তবে এটি এসির ক্ষতি, বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।

গরমের দিনে ঘর ঠান্ডা করতে এসি চালু করার পর অনেকেই কিছুক্ষণ পর বন্ধ করে দেন, আবার গরম লাগলে পুনরায় চালান। এই অন-অফ চক্রটি এসির কম্প্রেসরের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। একটি এসি চালু হওয়ার সময় সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, কারণ তখন কম্প্রেসরকে ঘরের তাপমাত্রা দ্রুত কমাতে বেশি শক্তি খরচ করতে হয়। ফলে বারবার চালু করলে বিদ্যুৎ খরচ কমার বদলে বরং বেড়ে যায়।

এসির ক্ষতি

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটানা চালিয়ে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রাখা এসির জন্য বেশি নিরাপদ। বারবার বন্ধ-চালু করলে কম্প্রেসরের যান্ত্রিক অংশ দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ হতে পারে। এতে করে মেরামতের খরচও বেড়ে যায়।

বিদ্যুৎ বিল বাড়ে

বিদ্যুৎ বিলের ক্ষেত্রেও এই অভ্যাসটি উল্টো প্রভাব ফেলে। অনেকে মনে করেন, মাঝে মাঝে এসি বন্ধ রাখলে বিল কমবে। কিন্তু বাস্তবে ঘর গরম হয়ে গেলে আবার ঠান্ডা করতে এসিকে বেশি সময় ও শক্তি খরচ করতে হয়। ফলে মোট বিদ্যুৎ ব্যবহার বেড়ে যায় এবং মাস শেষে বিলও বেশি আসে।

স্বাস্থ্যের ক্ষতি

স্বাস্থ্যের দিক থেকেও বারবার তাপমাত্রার পরিবর্তন শরীরের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। গরম পরিবেশ থেকে হঠাৎ ঠান্ডা ঘরে প্রবেশ করা বা বারবার এই পরিবর্তনের মধ্যে থাকা শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করে। এতে সর্দি-কাশি, মাথাব্যথা, ক্লান্তি এমনকি শ্বাসতন্ত্রের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি।

এছাড়া ঘরের আর্দ্রতার ভারসাম্যও নষ্ট হয় বারবার এসি অন-অফ করলে। এতে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, গলা শুকিয়ে যাওয়া বা অস্বস্তি অনুভব করা স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়ায়।

এই সমস্যা এড়াতে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। এতে এসির আয়ু বাড়বে, বিদ্যুৎ বিলও নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং স্বাস্থ্যের ঝুঁকিও কমবে। যেমন-

  • এসি একবার চালু করলে ২৪-২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সেট করে রাখা
  • দরজা-জানালা বন্ধ রাখা
  • নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার করা
  • অপ্রয়োজনে অন-অফ না করা।

You may also like

Leave a Comment