জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে ভাগ নিতে অটল অবস্থানে আছে ১১ দলীয় ঐক্যে জামায়াতের শরিকরা। নির্বাচন কমিশন দুই দিন আগে জানিয়েছে, বুধবার ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে শরিকদের দাবি আবারও জোরদার হয়েছে।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭৭টি আসনে বিজয়ী হয় জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য। এরই মধ্যে আনুপাতিক হারে বিএনপি জোট ও জামায়াত জোট এবং স্বতন্ত্র সদস্যদের মধ্যে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের কে কয়টি পাবে, তা স্পষ্ট হয়েছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে পেয়েছে ৬৮টি আসন। নিয়ম অনুযায়ী দলগুলো তাদের প্রাপ্ত আসনের প্রতি ৬টির বিপরীতে ১টি করে আসন পাবে। এ হিসাবে ১১ দলীয় ঐক্য পাবে ১৩টি আসন। এর মধ্যে জামায়াত ৬৮ আসনের বিপরীতে সংরক্ষিত আসন পবে ১১টি। অন্যদিকে এনসিপি ৬টি আসনের বিপরীতে পাবে একটি আসন। এই একটি আসন কাকে দেওয়া হবে, সেটা দলের মধ্যে আলোচনা করে ঠিক করা হবে। এটি নিয়ে কোনো বিরোধ নেই। এর বাইরে বাকি থাকে ১টি আসন। সেটি কে পাবে, তা নিয়ে চলছে শরিকদের জোর তৎপরতা। এর মধ্যেই যারা জোটে থেকেও সাধারণ নির্বাচনে কোনো আসন পায়নি বা নির্বাচনই করেনি, তারাও সংরক্ষিত আসন চাচ্ছে বলে জানা গেছে। এলডিপি, লেবার পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, জাগপাসহ অন্য শরিকদের কেউ কেউ একটি করে আসন চাচ্ছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মঙ্গলবার বলেন, শরিকদের দাবি আছে। আমরা তো তাদের একটা বেশিও দিতে পারি। সেটা কি এখনই সাংবাদিকদের বলব? সময়মতো জানতে পারবেন।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জোটগতভাবে ১১ দলীয় ঐক্য ১৩টি আসন পাবে। এর মধ্যে জামায়াত পাবে ১২টি আসন। এটা তো নির্বাচন কমিশনও বলেছে। তবে ১১ দলের মধ্যে কিছু দাবিদাওয়া আছে। যারা জাতীয় নির্বাচনে কোনো আসন পায়নি, তাদের যেমন দাবি আছে, তেমনই যারা কোনো আসনে আদৌ নির্বাচনই করেনি, তাদেরও দাবি আছে। এটা পরে আলোচনা করে ঠিক করা হবে। সংরক্ষিত আসনে জামায়াতের প্রার্থী কে কে হবেন, সে প্রশ্নে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আমাদের দলের প্রার্থী চূড়ান্ত আছে। সময়মতো নাম জানতে পারবেন।
আল্লামা মামুনুল হকের দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। তার দল সংরক্ষিত নারী আসন চায় কি না জানতে চাইলে দলের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ বলেন, জামায়াতের ৬৮ আসনের মধ্যে ৬৬ আসনের বিপরীতে পাবে ১১টি আসন। বাকি ২টি আসন আমাদের সঙ্গে মার্জ করে দিলে ৪টি আসনের বিপরীতে ১টি সংরক্ষিত আসন পেতে পারি। জামায়াতের সঙ্গে এভাবে আলোচনা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। তবে কোনো আসন পায়নি। দলের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের মঙ্গলবার বলেন, আমরা সংরক্ষিত নারী আসন প্রত্যাশা করি। বিষয়টি দল হিসাবে না দেখে জোট হিসাবে দেখতে হবে। ১১ দলীয় জোট সংরক্ষিত নারী আসন পাবে ১৩টি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলীয় মুখপাত্র সারজিস আলম মঙ্গলবার বলেন, সংসদে আমাদের দলের ৬টি আসনের বিপরীতে আমরা একটি আসন পাব। কে হবেন, তা নিয়ে আলোচনা আছে ২ জনের নাম। তারা হলেন দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতু। এর বাইরেও কেউ হতে পারেন। তবে দলে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
১১ দলের শরিক এলডিপি ৭টি আসনে নির্বাচন করে একটিতেও জয় পায়নি। দলের একাংশ মনে করে, জোটে তাদের ভূমিকাকে বিবেচনা করে একটি আসন দেওয়া উচিত। দলের ওই অংশটি দুজনের নামও জানিয়েছে। তবে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের ছেলে এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ওমর ফারুক মঙ্গলবার বলেন, আমরা কোনো অযৌক্তিক দাবি করব না। জোট সিদ্ধান্ত নেবে যে, তারা সবাইকে একটি করে দেবে, না কী করবে। আমাদের দলের মধ্যে এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি। তবে কেউ কেউ এ ধরনের প্রত্যাশা করতে পারেন।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবারের নির্বাচনে কোনো আসনে প্রার্থী দেয়নি। তবে দলের সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান জোটের পক্ষে সারা দেশে নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিভিন্ন জনসভায় জ্বালাময়ী বক্তব্য রেখে তরুণ সমাজকে উদ্বুদ্ধ করেন। জাগপার সভাপতি ব্যারিস্টার তাসনিয়া প্রধানকে সংরক্ষিত মহিলা আসন দেওয়ার ব্যাপারেও জোটের মধ্যে আলোচনা আছে। এ বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান মঙ্গলবার বলেন, ১১ দলে এ নিয়ে যখন আলোচনা হবে, জোট সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা তো জোটের জন্য উজাড় করে দিয়েছি। মূল নির্বাচনেই তো কোনো আসন না নিয়েও জোটে ভূমিকা রাখছি। বাংলাদেশ লেবার পার্টি নির্বাচনের আগমুহূর্তে এসে ১০ দলের সঙ্গে য্ক্তু হওয়ায় জোটে দলের সংখ্যা ১১তে পৌঁছায়। তখন মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় আর ছিল না। পরে ১১ দলের মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ী করতে ভূমিকা রাখেন দলের চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ নেতাকর্মীরা। ইরান বলেন, জোটে আমাদের ভূমিকার কারণেই শরিকদল হিসাবে আমরা সংরক্ষিত আসনে অন্তত একজন নারীকে সংসদে চাই। এক্ষেত্রে তিনি দলের পক্ষ থেকে অ্যাডভোকেট জহুরা খাতুন জুঁইয়ের নামও আলোচনায় আছে বলে জানান।