হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিস থেকে বাইবেল পাঠ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় ‘আমেরিকা রিডস দ্য বাইবেল’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ট্রাম্প বাইবেলের একটি অংশ পাঠ করবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ লিও’র সঙ্গে ট্রাম্পের মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। সিএনএন।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প ‘ক্রনিকলস-২’ এর ৭ম অধ্যায়ের ১১-২২ অংশ থেকে পাঠ করবেন। এতে বহুল উদ্ধৃত ১৪ নম্বর শ্লোকটি রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘আমার নামে পরিচিত আমার প্রজারা যদি বিনয়াবনত হয়, প্রার্থনা করে, আমার সান্নিধ্য অন্বেষণ করে এবং মন্দ পথ থেকে ফিরে আসে; তবে আমি স্বর্গ থেকে তাদের ডাক শুনব, তাদের পাপ ক্ষমা করব এবং তাদের দেশ ও ভূমিকে জরামুক্ত করব।’ সম্প্রতি ইরান সংঘাতকে কেন্দ্র করে পোপ লিওর সঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধ এবং এর আগে নিজেকে যিশুরূপে দেখিয়ে একটি এআই-নির্মিত ছবি পোস্ট করে পরে তা মুছে ফেলার ঘটনায় যে সমালোচনা তৈরি হয়েছিল, তার প্রেক্ষাপটে এই অংশগ্রহণ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ক্যাথলিক চার্চের নতুন নেতা হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম বছরে তুলনামূলকভাবে নীরব থাকলেও, পোপ লিও সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে সরব সমালোচকে পরিণত হয়েছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরানে চালানো আগ্রাসন থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তিনি বিশ্বনেতাদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। ক্যামেরুনে দেওয়া এক বক্তব্যে পোপ লিও বলেন, বিশ্ব এখন মুষ্টিমেয় স্বৈরশাসকের কারণে ধ্বংসের মুখে পড়ছে। এছাড়াও তিনি যুদ্ধ পরিচালনায় বিপুল অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, মানবিক উন্নয়ন, শিক্ষা ও পুনর্গঠনের পরিবর্তে বিপুল সম্পদ ব্যয় করা হচ্ছে ধ্বংসযজ্ঞ ও অস্ত্রায়নে। তিনি বলেন, এটি এক উলটে যাওয়া বিশ্ব, যেখানে ঈশ্বরের সৃষ্টিকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যা প্রত্যেক বিবেকবান মানুষের জন্য অগ্রহণযোগ্য।
ইরান পরিস্থিতি নিয়ে পোপের মন্তব্যের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এমন পোপ পছন্দ করি না যিনি পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে এমন কথা বলেন।’ জবাবে পোপ বলেন, তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে ‘ভয়’ পান না। পালটাপালটি এমন মন্তব্যর পর পরিস্থিতি অনেকটা জটিল হয়ে ওঠে। এদিকে, ট্রাম্প সম্প্রতি নিজেকে যিশুর মতো দেখানো একটি এআই তৈরি ছবি পোস্ট করে পরে তা সরিয়ে নেওয়ার পর তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন।
পরে ট্রাম্প দাবি করেন, ছবিটি আসলে তাকে একজন চিকিৎসক হিসাবে দেখানোর কথা ছিল। যিনি মানুষকে ‘সুস্থ’ করছেন।