Home 3rd Featuredসময় ফুরিয়ে আসছে ট্রাম্পের! মার্কিন মসনদে জেডি ভ্যান্সকে বসানোর তোড়জোড়

সময় ফুরিয়ে আসছে ট্রাম্পের! মার্কিন মসনদে জেডি ভ্যান্সকে বসানোর তোড়জোড়

Muktochinta Online
০ comments ১৪ views

ইরানের “সম্পূর্ণ সভ্যতা” ধ্বংস করে দেওয়ার সাম্প্রতিক এক পাগলাটে হুমকির পর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে ওয়াশিংটনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও বর্তমানের মতো একটি মহাপ্রলয় এড়ানো গেছে, তবে মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করে ‘মানসিক অস্থিরতার’ অজুহাতে প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে দেওয়ার আলোচনা এখন তুঙ্গে।
মার্কিন সংবিধানের এই আইন অনুযায়ী, যদি কোনো প্রেসিডেন্ট তার দায়িত্ব পালনে শারীরিক বা মানসিকভাবে অক্ষম হন, তবে ক্ষমতা ভাইস প্রেসিডেন্টের হাতে ন্যস্ত করা যায়। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করা একটি ‘অভ্যুত্থানের’ সমান হবে, কারণ তিনি স্বেচ্ছায় জেডি ভ্যান্সের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন না।


মাগা শিবিরের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, ট্রাম্পের একসময়ের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত ইনফোওয়ারস-এর অ্যালেক্স জোন্স এখন তাকে “সুপারভিলেন” হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। জোন্স জনসমক্ষে প্রশ্ন তুলেছেন, “কীভাবে ২৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে তাকে সরানো যায়?”
শুধু জোন্স নন, টাকার কার্লসন, ক্যান্ডাস ওয়েন্স এবং মেগিন কেলির মতো প্রভাবশালী ডানপন্থী ব্যক্তিত্বরা এখন ট্রাম্পকে একজন ‘নিঃশেষিত শক্তি’ হিসেবে দেখছেন। ট্রাম্পও পাল্টা আক্রমণে তাদের “নিম্ন বুদ্ধিসম্পন্ন” এবং “পাগল” বলে অভিহিত করেছেন। কিন্তু জনমত জরিপ বলছে অন্য কথা—ইউগভ-এর সাম্প্রতিক জরিপে ৫৬ শতাংশ ভোটার ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
মন্ত্রিসভায় বিচ্ছিন্ন ট্রাম্প

ইরান ইস্যু নিয়ে ট্রাম্প এখন ওভাল অফিসে কার্যত একা হয়ে পড়েছেন। গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ প্রধান জন র‍্যাটক্লিফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের ব্যাপারে ইসরায়েলি মূল্যায়নকে “প্রহসন” ও “বানোয়াট” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এমনকি চিফ অফ স্টাফ সুজি ওয়াইলস এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও এই যুদ্ধ পরিস্থিতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে, মেলানিয়া ট্রাম্পের হঠাৎ জেফরি এপস্টাইন কেলেঙ্কারি নিয়ে মুখ খোলা প্রেসিডেন্টকে নতুন বিড়ম্বনায় ফেলেছে। ট্রাম্পের দাবি, ফার্স্ট লেডির এই পদক্ষেপে তিনি নিজেও বিস্মিত।
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন উঠেছে, ট্রাম্পকে সরানোর সবচেয়ে সহজ পথ হতে পারে তার ‘অবনতিশীল স্বাস্থ্য’। ৮০ বছর ছুঁইছুঁই ট্রাম্প ‘ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিসিয়েন্সি’ সহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। যদিও তার হাসপাতালে ভর্তির গুজব নাকচ করা হয়েছে, তবে তার মানসিক দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।আইনজীবী রবার্ট বার্নসের মতে, ২৫তম সংশোধনীর জটিলতায় না গিয়ে স্বাস্থ্যের অজুহাত দেখিয়েই হয়তো ভ্যান্সকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
যদিও ২০২৮ সালের আগে ট্রাম্পকে সরানোর বাস্তব কোনো সম্ভাবনা এখনো ক্ষীণ, তবে পর্দার আড়ালে এক ‘পোস্ট-ট্রাম্প’ বা ট্রাম্প-পরবর্তী ভবিষ্যতের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। ডেমোক্র্যাটদের জন্য সতর্কতা হলো, আইনি লড়াই বা ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের চেয়ে ব্যালট বক্সের মাধ্যমেই তাকে হারানো বেশি কার্যকর হতে পারে। আপাতত সবার নজর জেডি ভ্যান্সের ওপর, যাকে ট্রাম্প ইরানের সাথে শান্তি আলোচনার কঠিন মিশনে পাকিস্তানে পাঠিয়েছেন। তথ্যসূত্র: আই নিউজ 

You may also like

Leave a Comment