লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু রকেট হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীটির দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলা এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের জবাব হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
হিজবুল্লাহর বিবৃতিতে বলা হয়, সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১টা ২০ মিনিটে ইসরায়েলের কিরিয়াত শমোনা শহর লক্ষ্য করে প্রথম দফা রকেট হামলা চালানো হয়। এরপর রাত ২টা ৪৫ মিনিটে দোভিভ বসতিকেও লক্ষ্য করে আরেকটি হামলা পরিচালিত হয়। এসব হামলার মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে ওঠে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা উত্তর ইসরায়েল ও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে মোট ৪৩টি হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ইসরায়েলি সেনাঘাঁটি, সামরিক অবস্থান, বসতি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই ধারাবাহিক হামলা অঞ্চলজুড়ে সংঘাতের মাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
হিজবুল্লাহ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলোতে ইসরায়েলি হামলা এবং বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতির প্রতিক্রিয়াতেই তাদের এই পদক্ষেপ। তাদের দাবি, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করে বারবার আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাধ্য হয়েছে।
গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, লেবানন ও এর জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকবে। তাদের ভাষায়, এটি কেবল সামরিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার একটি লড়াই।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরেই বিরাজমান, যা সামান্য উসকানিতেই বড় সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং উত্তেজনা কমানোর জন্য বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে এই আহ্বানের প্রভাব এখনো দৃশ্যমান নয়।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই হামলা-পাল্টা হামলার ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে তা কেবল সীমান্ত সংঘর্ষেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো অঞ্চলে একটি বৃহত্তর যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এতে মানবিক বিপর্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা