Home 3rd Featuredদীর্ঘ তিন দশক পর সরাসরি আলোচনায় বৈরুত-তেল আবিব, কী করবে হিজবুল্লাহ?

দীর্ঘ তিন দশক পর সরাসরি আলোচনায় বৈরুত-তেল আবিব, কী করবে হিজবুল্লাহ?

Muktochinta Online
০ comments ১৪ views

প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় পর সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনায় বসেছে ইসরায়েল ও লেবানন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। আলোচনার মূল লক্ষ্য লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে ঘিরে চলমান সংঘাত প্রশমনের পথ খোঁজা।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও লেবাননের শীর্ষ কূটনীতিকরা অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদে মোয়াওয়াদ এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লাইটার।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে সরাসরি আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। যদিও পরবর্তী বৈঠকের সময় ও স্থান এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। ওয়াশিংটনের মতে, এই প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই উদ্যোগকে ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহর প্রভাব কমানো এবং দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটাতে এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, যদিও এটি সময়সাপেক্ষ একটি প্রক্রিয়া।

ইসরায়েলি পক্ষ জানিয়েছে, তারা লেবাননে থাকা সব অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করতে চায়, যার লক্ষ্য মূলত হিজবুল্লাহকে দুর্বল করা। অন্যদিকে লেবানন সরকার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে মানবিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। দুই দেশের মধ্যে সর্বশেষ উচ্চপর্যায়ের সরাসরি আলোচনা হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। ফলে এবারের বৈঠককে তিন দশকেরও বেশি সময় পর প্রথম বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে বাস্তব পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত জটিল। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত সংঘাতে দুই হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ অব্যাহত রেখেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, আলোচনার পর উভয় পক্ষ হিজবুল্লাহর প্রভাব কমানোর বিষয়ে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, লেবাননের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি ও মানবিক পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন আশা প্রকাশ করেছেন, এই আলোচনা দেশের দক্ষিণাঞ্চলে চলমান সংকট ও মানবিক দুর্ভোগ কমাতে সহায়ক হবে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহর অবস্থান ও ক্ষমতা এই আলোচনার ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।

এদিকে হিজবুল্লাহর এক জ্যেষ্ঠ নেতা ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে হওয়া কোনো সমঝোতা তারা মানতে বাধ্য নয়। ফলে এই কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা বাস্তব ফল বয়ে আনবে, তা নিয়ে এখনই প্রশ্ন রয়ে গেছে। তথ্যসূত্র : বিবিসি

You may also like

Leave a Comment