Home 2nd Featuredবিএনপির ‘ভুলনীতি’ রাজপথে ‘জামায়াতের শক্তির’ উৎস

বিএনপির ‘ভুলনীতি’ রাজপথে ‘জামায়াতের শক্তির’ উৎস

Muktochinta Online
০ comments ১৫ views

বাংলাদেশের রাজনীতির গতি-প্রকৃতি বড়ই বিচিত্র। অনেকটা জোয়ার-ভাটার মতো। রাজনীতির মাঠ কখন কার নিয়ন্ত্রণে প্রতিষ্ঠা হয় বোঝা কঠিন। রাজনীতির ময়দান অনেকটা ঢাকাই সিনেমার মতো। জনগণের প্রত্যাশাপূরণে ব্যর্থ হলে ‘নায়ক’ যেকোনো সময় হয়ে যেতে পারেন ‘ভিলেন’ আর ভিলেনরা আসতে পারেন নায়কের কাতারে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকা- নিষিদ্ধ; বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়; জামায়াতের মতো জনসমর্থনহীন দল এখন সংসদ ও রাজপথ কাঁপানোর হুঙ্কার দিচ্ছে। দুবছর আগেও কেউ এটা কল্পনা করতে পারতো না। গত বৃহস্পতিবার জামায়াতের নেতৃত্বে গঠিত ১১ দলীয় জোট বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথের দ্বিতীয় ধাপে ১৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। জামায়াতের এই আন্দোলন কর্মসূচিতে জনগণের সমস্যা নেই, মানুষের রুটি-রুজির দাবি নেই; এমনকি ইরানের বিরুদ্ধে ইহুদি ইসরাইল-আমেরিকার চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের বিরুদ্ধেও কোনো দাবি নেই। আছে রাষ্ট্রক্ষমতার ভাগ আরো বেশি পাওয়ার প্রত্যাশা। ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন ইস্যুতে রাজপথে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছে দলটি। প্রথম দফায় ৬ এপ্রিল ৭ দিনের কর্মসূচি ও ১৫ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ১৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। তাদের এসব কর্মসূচি সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার হচ্ছে এবং গণমাধ্যমেও কভারেজ পাচ্ছে। চিত্র দেখে মনে হচ্ছেÑ জামায়াতই একমাত্র মাঠের রাজনৈতিক দল। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে দল মাত্র দুটি আসন পেয়েছিল; দীর্ঘ দেড় যুগ বিএনপির ঘাড়ে সওয়ার হয়ে রাজনীতিতে টিকে ছিল; সেই দল এখন রাজপথের নিয়ন্ত্রণ করছে। জাতীয় সংসদের বিরোধীদল হিসেবে সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেও সরকারের বিরুদ্ধে হুঙ্কার দিচ্ছে।

অপ্রিয় হলেও সত্য যে, ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ভোটে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করলেও দেশ নানামুখী সংকটে নিপতিত। আর্থিক দুরবস্থা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে মিলকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত, বেকারত্বের বোঝা, স্বাস্থ্য-শিক্ষায় সংকট, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিমুখতা এমনকি ইউরোপের বাজারে গার্মেন্টস পণ্যের চাহিদা কমে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল-আমেরিকার অন্যায় যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট। ইরান হরমুজ প্রণালী জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটে খাবিখাচ্ছে বাংলাদেশ। জ্বালানি সংকটের কারণে কৃষিরা সেচের জ্বালানি নিয়ে চিন্তাগ্রস্ত, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের দাম হু-হু করে বাড়ছে। আয়-ব্যয়ের সঙ্গে সংগতি নেই, সাধারণ মানুষ বিপর্যস্ত। মানুষের প্রত্যাশা ছিল নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে সব সংকট কেটে যাবে। কিন্তু সেটি হয়নি। তার পরও জাতীয় সংসদের এমপি-মন্ত্রীরা সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। রাজধানীর পাম্পে পাঁচ ঘণ্টা থেকে ১০ ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করে মানুষ তেল পাচ্ছেন না; অথচ মন্ত্রী-এমপি ও তাদের পিএস-এসপিএসরা সরকারি খরচে গাড়ি দাবড়াচ্ছেন। হাসিনা রেজিমে পুতুল সংসদে বিরোধীদলের কথা বলার সুযোগ ছিল না। ক্ষমতাসীনরা বিরোধীদলের এমপিদের কথায় নানাভাবে বাধার সৃষ্টি করতেন। বিরোধীদল কী কথা বলবেÑ প্রধানমন্ত্রী সে নির্দেশনা দিতেন। সংসদ ছিল রাবারস্ট্যাম্প। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সে সমস্যা নেই। ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্যদের মতোই বিরোধীদল জামায়াত-এনসিপির এমপিরাও নির্বিঘেœ কথাবার্তা বলছেন; নিজেদের সুযোগ-সুবিধা আদায় করছেন; সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে বাহবা-নিন্দা দুটোই পাচ্ছেন। বিরোধীদল হলেও জামায়াত ‘ক্ষমতা ভোগ’ করছেন।

১৯৪১ সালে জামায়াতের প্রতিষ্ঠা এবং ১৯৭৮ সালে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালুর মাধ্যমে পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময়ে জামায়াত বর্তমান সময়ের মতো কখনোই সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারেনি। তার পরও জামায়াত বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মুহূর্তে বিএনপি সরকারকে বিপাকে ফেলতে রাজপথ গরম করছে। নেপথ্যের কারণ কী? কারণ হচ্ছে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের ভুলনীতি। বিএনপির ভুল রাজনৈতিক নীতির সুযোগ নিয়ে জামায়াত রাজপথে প্রজাপতির মতো উড়ছে; আর গণমাধ্যমগুলো তাদের খবর ফলাও করে প্রচার করছে। নতুন সরকার গঠনের পর সরকারের ভেতরেই বিএনপিকে যেন বিলীন করা হয়েছে। ফলে যে জামায়াতকে দুধ-কলা খাইয়ে বছরের পর বছর ধরে সহায়তা করে রাজনীতিতে টিকিয়ে রেখেছে; সেই জামায়াত এখন বিএনপি সরকারকেই ছোবল মারার চেষ্টা করছে। যখন দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন এবং অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার ও বিরোধীদলের ঐক্য অপরিহার্য; তখন জামায়াত দাঁত বসাচ্ছে সরকারের ওপর।
জামায়াতের এই ভূমিকা নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বলেছেন, ‘আমি শুরু থেকেই বলে আসছি জামায়াতে ইসলামী মোনাফেক। প্রথমে আমার দল (বিএনপি) বুঝে না বুঝে আমাকে শাস্তি দিলেও এখন বুঝতে পারছে। এরা (জামায়াত) ইসলামকে বিশ্বাস করে না। জামায়াত হলো এ দেশের শত্রু। এরা বাংলাদেশে বিশ্বাস করে না। এদের কোনো ইমান নাই। এরা পারে না, এমন কোনো খারাপ কাজ নাই।’

রাজনীতিতে বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত বিএনপির এমপি ফজলুর রহমানের বক্তব্যের প্রমাণ মেলে ইসলামী ধারার রাজনৈতিক দল জামায়াতের বর্তমান ভূমিকায়। ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইল ও আমেরিকা অন্যায়ভাবে মুসলিম রাষ্ট্র ইরান আক্রমণ করছে। সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বীরের মতোই ইরান প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। ইসরাইল ও মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ৯২ ভাগ মুসলমানের বাংলাদেশের মানুষ প্রতিবাদী হয়ে উঠছে। প্রতি শুক্রবার বাদ জুমা মুসল্লিরা ইসরাইলের বিরুদ্ধে মিছিল করছে। মসজিদের ইমামরা খুদবা দিচ্ছেন। বাম ধারার রাজনৈতিক দলগুলো ইসরাইল-আমেরিকার আগ্রাসনের প্রতিবাদ করছে। ইরানের ওপর আক্রমণে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অবিহিত করে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের বিচারের দাবি করছেন। তারা ‘ইসরাইল-মার্কিন আগ্রাসন প্রতিরোধ জোট’ গঠন করে ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচি পালন করছেন। কমিউনিস্টরা ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পক্ষে অবস্থান নিলেও ইসলামী দল হয়েও জামায়াত নীরব। ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইল ও আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা দূরের কথা বিরোধীদল হিসেবে সংসদে এবং সংসদের বাইরে জামায়াত ইসরাইল-আমেরিকার বিরুদ্ধে কোনো শব্দ উচ্চারণ করছে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অখুশি হয় সেই ভয়ে নীরবতা পালন করছে। এতে ফজলুর রহমানের বক্তব্যের প্রমাণ মেলে।

জামায়াত ক্যাডারভিত্তিক রাজনৈতিক দল। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যে নির্দেশনা দেবে জীবনের বিনিময়ে হলেও নেতাকর্মীরা তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন। কিন্তু বিএনপি কার্যত সমর্থন-নির্ভর রাজনৈতিক দল। নেতার নির্দেশ মনোপুত না হলে সমর্থকরা তা মেনে নেন না। আর তারা নিজেদের বঞ্চিত মনে করলে নেতাদের আদেশ-নির্দেশ কর্ণপাতই করেন না। দেশের সর্ববৃহৎ দল বিএনপি কোটি কোটি কর্মী সমর্থন পরিচিত মুখ নেতাদের আদেশ-নির্দেশ পালনে অভ্যস্ত। বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে নেতাকর্মীরা দলের দায়িত্বশীল নেতাদের আদেশ-নির্দেশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথ কাঁপিয়েছেন। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং পরবর্তীতে সরকার গঠনের সময় দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। বিগত বছরগুলোতে যারা ঢাকার রাজপথে থেকে দলের নেতাকর্মীদের পরিচালনা করেছেন, তারা নির্বাচনে অনেকেই মনোনয়ন পাননি আবার নতুন সরকারে তাদের অনেকেরই জায়গা হয়নি। উল্টো হাইব্রিড, বিদেশ থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসা এবং হিন্দুত্ববাদী ভারতের পদলেহনকারী কিছু নেতাকে পদ-পদবিতে বসিয়ে সরকার গঠন করা হয়। যারা সরকারের মন্ত্রী-এমপি ও গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন তাদের অনেকেই সঙ্গে বিগত ১৫ বছরের মাঠের কর্মীদের নেই কোনো সম্পর্ক ও কেউ কাউকে চেনেনও না। ফলে বিএনপি নতুন সরকার গঠনের পর রাজনীতির মাঠের নেতাকর্মীরা বঞ্চিত হওয়ায় বিএনপি কার্যত সরকারের ভেতরে ঢুকে যায়। শুধু কি তাই, জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী বিএনপির বেশির ভাগ নেতাকর্মী এবং শতকরা ৮০ থেকে ৯০ ভাগ সমর্থক হিন্দুত্ববাদী ভারতের আগ্রাসনবিরোধী। শেখ হাসিনাকে ঢাকার লেন্দুপ দর্জি বানিয়ে দিল্লির চানক্যপুরির হর্তাকর্তারা বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। কিন্তু ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বিএনপি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালালেও সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদে ভারত সিন্ডিকেট হিসেবে পরিচিত নেতাদের প্রাধান্য দেয়। ১৫ বছরের রাজপথের আন্দোলনে ভূমিকা নেই এবং কারণে-অকারণে দিল্লিতোষণে অভ্যস্ত নেতারা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হওয়ায় তারা অধিনস্ত পরিদফতর-অধিদফতর-করপোরেশন-ব্যাংকে নিজেদের লোকজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছে। দেশের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অর্থনীতিবিদ ও ঝানু ব্যাংকারের বদলে ৭৯ কোটি টাকা ঋণখেলাপি গার্মেন্টস ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর করা হয়। অপরিণামদর্শী সে সিদ্ধান্তের খেসারত এখন জাতিকে দিতে হচ্ছে। আর্থিক সংকটের দুর্দিনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের দেন-দরবারে ব্যর্থতায় আইএমএফ ঋণের কিস্তি বন্ধ করে দিয়েছে। নতুন সরকারের ভারতপ্রীতি ও আমেরিকাপ্রীতি এতো উলঙ্গ পর্যায়ে চলে গেছে যে, বাংলাদেশে নুতন সরকার গঠনের দুই মাস পরও দেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী বৈশ্বিকভাবে প্রভাবশালী চীনের প্রেসিডেন্ট এখনো সুভেচ্ছা জানায়নি। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ডাইরেক্ট দিল্লি তোষণ করতো আর বর্তমানে নির্বাচিত সরকার ইনডাইরেক্ট দিল্লির শৃঙ্খলে নিপতিত হচ্ছে।
জামায়াতের আন্দোলন ও গণমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা প্রসঙ্গে গতকাল বিএনপির মহাসচিব স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘রাজনীতিতে অনেক কচকচানি কথাই থাকবে। পার্লামেন্টের কথা শুনলে আপনাদের অনেক ভালো লাগবে, অনেকের ভালো লাগবে না। রাস্তায় বিভিন্ন বক্তৃতা শুনলে, কথা শুনলে আপনাদের মনে হবে যে, এটা আবার কী হলো!’ তিনি আরো বলেন, ‘টেলিভিশনের টকশো আপনাদের বিভ্রান্ত করবে। আরো বেশি বিভ্রান্ত করবে সোশ্যাল মিডিয়া, যে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনারা এখন সবাই আক্রান্ত।’

সংসদে বিরোধী দলের সব ধরনের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেও সরকারকে কোণঠাসা করে জামায়াত রাজপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনের আগে বিনা বাধায় রাজপথে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা গেলে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মানুষ তাদের পক্ষে চলে যাবে। সরকারে থেকেও বিএনপি কোণঠাসা হয়ে পড়বে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের নিজস্ব কোনো রাজনৈতিক দল ছিল না। ফলে তার শাসনামলের ১৮ মাস যে কেউ সরকারকে বিব্রত করতে রাজপথে দাবি-দাওয়া নিয়ে নেমে যেত। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, পেশাজীবী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের সুযোগ-সুবিধার দাবির আন্দোলন মাঠ গরম হতো। কিন্তু বিএনপি দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল একেবারে নীরব, যেন মাঠ ছেড়ে দিয়েছে। জনস্বার্থের বদলে নিজেদের সুযোগ-সুবিধা আরো বাড়াতে গণভোট ও সংস্কার দাবি নিয়ে জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোট রাজপথে নামছে। অথচ ক্ষমতাসীন দল বিএনপি সরকারের পক্ষে জনমত ধরে রাখতে পাল্টা কোনো কর্মসূচি দিচ্ছে না। বিএনপির ভুলনীতিই কি আগামীতে অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে জামায়াতকে সাফল্যের পথে নেবে? কারণ বাংলাদেশের রাজনীতির গতিধারায় কে কখন নায়ক আর কে কখন ভিলেন হন আন্দাজ করা সত্যিই দুরূহ।

You may also like

Leave a Comment