চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ ভারত ‘পর্যালোচনা’ করে দেখছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সাওয়াল। গতকাল শুক্রবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমরা অনুরোধটি পেয়েছি এবং এটি বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, চলমান বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থ ও দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি মূলত আইনি, কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক: এই তিনটি স্তরে বিবেচিত হওয়ার কথা। বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ জানিয়েছে, এমন দাবি করা হচ্ছে বহুদিন ধরেই। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারত বিষয়টি সরাসরি সিদ্ধান্ত না নিয়ে ‘পর্যালোচনার’ পর্যায়ে রেখেছে। এটি কূটনীতির ক্ষেত্রে খুবই জটিল বিষয়। প্রথমত বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। তবে কাউকে ফেরত পাঠাতে হলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। সেগুলো হলো: অভিযোগগুলো দুই দেশেই অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত হতে হবে। একই সাথে অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি-না, সেটিও বিবেচনায় আসবে।
এদিকে, পলাতক শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন বাংলাদেশের ক্ষমতায় ছিলেন এবং ভারতের সঙ্গে তার সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ফলে বিষয়টি শুধু আইনি নয়, রাজনৈতিক সংবেদনশীলও বটে। ভারত একদিকে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, অন্যদিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিজের কৌশলগত স্বার্থও বিবেচনায় রাখছে।
তাহলে ভারতের অবস্থান কী? এমন প্রশ্নের জবাবে একজন কূটনীতিক বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে খুব স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। সাধারণত এ ধরনের ক্ষেত্রে ভারত বলে থাকে: বিষয়টি ‘আইন অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে’। এর পরের ধাপে ভারতের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে বিষয়টি যাচাই করবে। প্রয়োজন হলে আদালতের প্রক্রিয়াও যুক্ত হতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কূটনীতিক বলেন, এই ধরনের হাইপ্রোফাইল রাজনৈতিক ব্যক্তিকে ফেরত দেয়া খুব সহজ হয় নয়। অতীতে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে: দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার গ্যাড়াকলে ফেলে ভারত সময় ক্ষেপণ করে থাকে।
তিনি বলেন, জয়সাওয়াল প্রশ্নের জবাবে সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কিছুই বলেনি। তাদের অফিসিয়াল অবস্থানও স্পষ্ট করেননি। অর্থাৎ: ভারত এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি; বরং আইনি দিক, কূটনৈতিক প্রভাব, রাজনৈতিক পরিস্থিতি মিলে সব বিবেচনা করবে অথবা নাও করতে পারে।