আমেরিকা ও ইসরায়েলি শাসনের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের উস্কানি বা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘বিধ্বংসী এবং চূড়ান্ত’ জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামি বিপ্লবি গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ইরানের ‘জাতীয় সেনাবাহিনী দিবস’ উপলক্ষে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দেওয়া এক বিবৃতিতে এই কঠোর বার্তা দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পূর্ণ সামরিক প্রস্তুতি বজায় রেখেছে এবং তাদের ‘আঙুল ট্রিগারে’ রয়েছে। শত্রুপক্ষের যেকোনো ‘বোকামি’ বা হঠকারী সিদ্ধান্তের পরিণাম হবে ভয়াবহ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরায়েল যদি ইরানের ভূখণ্ড বা স্বার্থে আঘাতের চেষ্টা করে, তবে তারা এমন মরণঘাতী আঘাতের সম্মুখীন হবে যা তাদের জন্য চরম অপমান ও কৌশলগত পরাজয় বয়ে আনবে।
আইআরজিসি আরও উল্লেখ করেছে যে, সাম্প্রতিক ৪০ দিনের যুদ্ধে ইরানের সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি’র মধ্যে যে অভূতপূর্ব সমন্বয় দেখা গেছে, তা শত্রুর সব ষড়যন্ত্র নসাৎ করে দিয়েছে। পারস্য উপসাগরে ইরানের দ্বীপগুলো দখলের পরিকল্পনা কিংবা নৌ-আগ্রাসনের চেষ্টা সফল হতে না পারার প্রধান কারণ ছিল সেনাবাহিনীর উচ্চতর রণকৌশল ও প্রতিরক্ষা শক্তি।
বিবৃতিতে ওমান সাগরে শত্রুর যুদ্ধবিমান ও ড্রোন শনাক্ত ও ভূপাতিত করার ক্ষেত্রে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাফল্যের প্রশংসা করা হয়। ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মুজতবা খামেনির নির্দেশনায় সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি এখন একতাবদ্ধ এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, আইআরজিসি’র এই বিবৃতি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য একটি শক্তিশালী সতর্কবার্তা।