দীর্ঘ উত্তজনা ও অচলাবস্থার পর অবশেষে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তবে এই যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন। আরাগচি জানান, আগামী দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে, যা সরাসরি ইরানি সেনাবাহিনীর পর্যবেক্ষণে থাকবে। কারিগরি সীমাবদ্ধতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সমন্বয় করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলা স্থগিত করে দুই সপ্তাহের জন্য একটি দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছেন। পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের অনুরোধে ট্রাম্প এই আক্রমণ স্থগিত করতে সম্মত হন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে এক বিবৃতিতে জানান, ইরান ১০ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছে যা আলোচনার জন্য একটি কার্যকর ভিত্তি হতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে আমাদের অধিকাংশ সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছি। ইরানের সাথে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছি আমরা।”
তবে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের পক্ষ থেকে কিছু শর্তারোপ করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধান’-এর বিষয়টি ইঙ্গিত দেয় যে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের কারণে এই প্রণালীটি কার্যত বন্ধ ছিল, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক শিপিং সংকটের সৃষ্টি হয়েছিল।
ইসলামাবাদে আগামী শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া শান্তি আলোচনায় এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি স্থায়ী রূপ পায় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব সম্প্রদায়।