Home স্বাস্থ্যমেনোপজের সময়ে বুকে ব্যথা কি কেবল হরমোনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া?

মেনোপজের সময়ে বুকে ব্যথা কি কেবল হরমোনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া?

Muktochinta Online
০ comments ১৬ views

মেনোপজের সময়ে আপনার শরীরের হরমোনের ঘাটতি পূরণ করতে যে চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, তাকে হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি বা মেনোপজাল হরমোন থেরাপি বলা হয়। সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে নারীর শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমতে শুরু করলে নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা এইচআরটির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

আর শরীরে মেনোপজের সময়ে হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়া স্বাভাবিক। তার জন্য শারীরিক ও মানসিক দিক থেকেও নানা পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। এ ধরনের সমস্যা ঠেকিয়ে রাখতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইদানীং অনেকেই হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির সাহায্য নিয়ে থাকেন। বহু নারীই অভিযোগ করে বলেন, হরমোনের চিকিৎসা চলাকালে তাদের স্তনে ব্যথা হয়। বিশেষ করে রাতের দিকে এ সমস্যা আরও বেশি অনুভূত হয়।

এ বিষয়ে প্যালিয়েটিভ মেডিসিনের চিকিৎসক মার্টিন স্কার বলেছেন, এ ব্যথাকে কেবল হরমোনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। কারণ এইচআরটিতে থাকা ইস্ট্রোজেন স্তনের টিস্যুতে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয়। ফলে দেহের ওই অংশটি ফুলে যায়। রাতে শুয়ে থাকার সময় বিছানা বা বালিশে ঘষা লাগলে সংবেদনশীল টিস্যুগুলোতে রক্ত জমা হতে থাকে, যার ফলে যন্ত্রণার তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া ব্রেস্ট টিস্যুতে ফাইব্রোসিস্টিক পরিবর্তন ঘটলেও এ ধরনের ব্যথা হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, স্তনের মধ্যে থাকা ফাইবার বা তন্তুর কানেক্টিভ টিস্যু অনেক সময় ছোট ছোট পিণ্ডের আকার ধারণ করে। এগুলো একেবারেই ক্যানসার সৃষ্টকারী টিউমার বা পিণ্ড নয়। ঋতুচক্র চলাকালীন বা গর্ভাবস্থাকালীন শারীরিক পরিবর্তনের কারণেও এ ধরনের টিস্যু তৈরি হতে পারে। মেনোপজের পর এ সমস্যা ফিরে আসার কথা নয়। তবে কেউ যদি হরমোন থেরাপি নিয়ে থাকেন, সে ক্ষেত্রে পুরোনো সমস্যা নতুন করে মাথাচাড়া দিতে পারে।

আবার অনেক সময় বুকের খাঁচার হাড় ও তরুণাস্থির সংযোগস্থলে প্রদাহ হলে সেই ব্যথা স্তন পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে। একে বলা হয়— কস্টোকন্ড্রাইটিস। তবে এই ব্যথা শুধু স্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং পুরো বুকেই ছড়িয়ে পড়তে পারে। 

এ থেকে নিরাময়ে মুক্তির পথ বদলে দিয়েছেন চিকিৎসকরা, এইচআরটি চলাকালে যদি স্তনে ব্যথা হয়, সে ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।

প্রথমত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে অন্তত তিন মাস এইচআরটি বন্ধ রেখে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। দ্বিতীয় ব্যথা কমানোর ওষুধে যদি কাজ না হয়, সে ক্ষেত্রে অবশ্যই বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির সাহায্য নিতে হবে।

You may also like

Leave a Comment