Home সম্পাদকীয়মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা

মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা

অর্জন সহায়ক বাজেট প্রণয়ন করতে হবে

Muktochinta Online
০ comments ১১ views

মূল্যস্ফীতি শব্দটি আমাদের প্রাত্যহিক জীবনেরই অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লক্ষ করা যাচ্ছে, কর্তৃপক্ষ নানা পদক্ষেপ নিলেও মূল্যস্ফীতির নিয়ন্ত্রণ করা যচ্ছে না। বরং দেশে একের পর এক মূল্যস্ফীতির রেকর্ড হচ্ছে। বস্তুত নিত্যপণ্যের বাজারে লাগামহীন অস্থিরতা এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে সাধারণ মানুষ, বিশেষত স্বল্প ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ায় আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে সরকার। এমন বাস্তবতায় বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও তা অর্জনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রবণতা আগামী বাজেট বাস্তবায়নে এক বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে। মূল্যস্ফীতির প্রধান চাপ আসছে খাদ্য খাত থেকে। দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নিু ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতেও মূল্যস্ফীতি কম নয়। বাসা ভাড়া, পরিবহণ, চিকিৎসা, শিক্ষা ও জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি-এসব কারণে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে।

বস্তুত মূল্যস্ফীতির চাপের মূল কারণ হলো সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা, টাকার অবমূল্যায়ন এবং বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি জ্বালানির বৈশ্বিক বাজারকে অস্থিতিশীল করে তোলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য তা এক অশনিসংকেত। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আগামী দিনে রপ্তানি, রেমিট্যান্সসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে নানামুখী অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সময়োপযোগী পদক্ষেপ না নিলে মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বেড়ে যাবে।

অতীতে আমরা দেখেছি, দেশে নিত্যপণ্যের সংকট না থাকলেও বাজারে বড় ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এর পেছনে বাজার সিন্ডিকেটের জড়িত থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অতি মুনাফার জন্য অনৈতিক ও বেআইনিভাবে দাম বাড়িয়ে মানুষের পকেট কাটা অপরাধ। যারা এ অপরাধ করছে, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণে নানা আইন আছে। অনিয়ম হলে লাইসেন্স বাতিলের এখতিয়ারও সরকারের রয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে কালক্ষেপণের সুযোগ নেই। নিত্যপণ্য নিয়ে সব ধরনের কারসাজি রোধে সরকারকে কঠোর হতে হবে। যেসব অসাধু ব্যবসায়ী পণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করার চেষ্টা করে, বাজার তদারকির মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

You may also like

Leave a Comment