লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার প্রেক্ষিতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ ১০ দিনের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তবে এই ঘোষণা মানেই নৌযান চলাচলের জন্য কোনো ‘অবাধ স্বাধীনতা’ নয়। ইরান জানিয়েছে, এই সময়ে প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোকে একটি বিশেষ ‘সমন্বিত রুট’ (Coordinated Route) অনুসরণ করতে হবে।
সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের নির্ধারিত এই রুটটি মূলত তাদের নিজস্ব জলসীমার মধ্য দিয়ে পড়বে। এতে করে তেহরান ওই রুটের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারবে।
সামরিক বিশ্লেষক আলেকজান্দ্রু হুদিস্তানু আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরান আসলে পরিস্থিতি নিজেদের হাতের মুঠোয় রাখতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, “উভয় পক্ষই একে অপরকে বিশ্বাস করতে পারছে না। ফলে কোনো পক্ষই তাদের চাপের হাতিয়ার হাতছাড়া করতে রাজি নয়।”
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের নৌ-অবরোধ বহাল রেখেছে। বিশ্লেষকরা বর্তমান এই পরিস্থিতিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ‘বিশ্বাস তৈরির প্রক্রিয়া’ হিসেবে দেখছেন। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক বাণিজ্য সংস্থাগুলোও হরমুজ প্রণালী দিয়ে পুনরায় যাতায়াত কতটা ঝুঁকিমুক্ত, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।