যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, যারা আমেরিকার স্বার্থের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ শক্তিকে সহায়তা করে- তাদের ওপর নতুন করে ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এই নীতির আওতায় ২৬ জনের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
এই পদক্ষেপ এসেছে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে, যেখানে তিনি পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়াতে চাইছেন। তার ঘোষিত নীতিমালা ‘ডনরো ডকট্রিন’ ১৯শ শতকের মনরো নীতির আধুনিক রূপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেয়ার পর ট্রাম্প লাতিন আমেরিকা জুড়ে মাদক পাচার ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এ লক্ষ্যে তিনি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এমনকি সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও দিয়েছেন। একই সঙ্গে এ অঞ্চলে চীন-এর ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকানোর দিকেও জোর দিচ্ছে ওয়াশিংটন।
পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, যারা জেনেশুনে নির্দেশ দেয়, অনুমোদন করে, অর্থায়ন করে বা গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের শক্তি যোগাবে, তাদের ভিসা সীমিত করা হবে।
এই কার্যক্রমের মধ্যে থাকতে পারে প্রতিপক্ষ শক্তিকে কৌশলগত সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ পেতে সহায়তা করা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করা, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করা, কিংবা বিভিন্ন দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে প্রভাব বিস্তারমূলক কার্যক্রম চালানো।
যদিও বিবৃতিতে সরাসরি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি, কিন্তু এটি চীনসহ আমেরিকার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিকে লক্ষ্য করে প্রণীত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে বিদেশি সমালোচক ও রাজনৈতিক বিরোধীদের ভিসা বাতিলের প্রবণতাও বাড়ছে। গত বছর ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীদের ভিসা বাতিলের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, যুক্তি দেয়া হয়েছিল, তাদের উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। সম্প্রতি আরও অন্তত সাতজন ব্যক্তির অভিবাসন ভিসা বাতিল করা হয়েছে, যাদের সঙ্গে ইরান সরকার বা ইরানি বিপ্লব সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।