লিভার সুস্থ রাখতে জরুরি সঠিক জীবনযাপন। মাত্র চারটি অভ্যাস নিয়মিত মেনে চললেই লিভারের বেশ কিছু সমস্যা প্রতিরোধ করা যায়।
♦ সুষম খাদ্য গ্রহণ : নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খেলে লিভার সুস্থ থাকে। লিভারের কার্যক্রম মসৃণ রাখতে প্রতিদিন দু-তিনটি ফল এবং প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি খাওয়া প্রয়োজন।
পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় থাকতে হবে পূর্ণ শস্য, চর্বিহীন প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। প্রোটিনের বদলে চেষ্টা করুন উদ্ভিদভিত্তিক খাবার বেশি বেশি খাওয়ার অভ্যাস করার। কোনো ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই এগুলো আপনার লিভারকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি জোগাবে। অতি প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি এবং ক্ষতিকর স্যাচুরেটেড ফ্যাট আছে এমন খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিন।
সম্ভব হলে একেবারেই বর্জন করুন।
♦ নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ : নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ বা ব্যায়াম করলে শরীর সুস্থ থাকে। শরীর আরো দক্ষভাবে সঞ্চিত শক্তি ব্যবহার করতে শেখে, ফলে লিভারে চর্বি জমার হার কমে যায়। শরীরচর্চা করলে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে না, পাশাপাশি লিভারের চর্বি কমাতেও সহায়তা করে।
এমনকি দেহের ওজন না কমলেও ব্যায়ামের মাধ্যমে লিভারের চর্বি কমানো যায়। হাঁটা, সাইক্লিং, সাঁতার, যোগব্যায়াম বা ভারোত্তোলনের মতো ব্যায়ামের মাধ্যমে লিভার শক্তিশালী ও সুস্থ রাখা যায়।
♦ অ্যালকোহল পরিহার : কম বা বেশি যেকোনো মাত্রায় অ্যালকোহল গ্রহণ করলেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় লিভার। দীর্ঘ মেয়াদে মদ্যপান করলে লিভারের গুরুতর ও স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। অ্যালকোহল গ্রহণ কমানো বা এড়িয়ে চলা লিভার রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
তা না হলে সিরোসিস বা লিভার ফেইলিউরের মতো জটিল ব্যাধির পাশাপাশি ক্যান্সারও দেখা দিতে পারে।
♦ নিয়মিত লিভার পরীক্ষা : উপসর্গ প্রকাশ পাওয়ার আগেই মেডিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমে লিভারের বিভিন্ন সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণগুলো শনাক্ত করা যায়। যাঁদের ডায়াবেটিস, স্থূলতা বা পারিবারিকভাবে লিভার রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের অবশ্যই নিয়মিত লিভার পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কত দিন পর পর কী ধরনের পরীক্ষা করতে হবে, সে সম্পর্কে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।
লিভার সুরক্ষায় সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। স্বাস্থ্যকর খাবারের লেবেল করা, স্কুলে পুষ্টিকর খাবার পরিবেশন, হাঁটা বা সাইক্লিংয়ের নিরাপদ স্থান নিশ্চিত করা, চিনি ও অ্যালকোহলে কর বসানো, সাশ্রয়ী মূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালু করলে লিভার রোগ কমানো সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে #WorldLiverDay এবং #SolidHabitsStrongLiver হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে সচেতনতা বাড়াতে সবার অংশগ্রহণ করা উচিত। বিশ্বব্যাপী লিভার সুরক্ষা আন্দোলনের অংশ হয়ে লিভারের স্বাস্থ্য রক্ষায় অবদান রাখুন।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক
জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল