ভারতে এক আইটি প্রতিষ্ঠানে নববিবাহিত এক যুবতী ভয়াবহ যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। এমন বর্ণনা দিয়ে তিনি এর উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেছেন। ওই নারী ভারতের আইটি প্রতিষ্ঠান টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেসের (টিসিএস) নাসিক শাখায় একজন অ্যাসোসিয়েট। তার অভিযোগ, সহকর্মীদের কাছ থেকে তাকে ‘প্লেয়ার’, ‘জিরো ফিগার’ সহ নানা অশ্লীল উক্তি শুনতে হয়েছে। আরও কয়েকজন নারীর মধ্যে তিনি একজন। এসব নারী তাদের সহকর্মীদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।
নাসিক পুলিশের বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) এ ঘটনায় নয়টি এফআইআর দায়ের করে আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে একজন নারী অপারেশনস ম্যানেজারও রয়েছেন। টিসিএস জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের হয়রানি বা জবরদস্তির বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। অভিযুক্ত কর্মীদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শুক্রবার কোম্পানি জানায়, প্রাথমিক পর্যালোচনায় তাদের নৈতিকতা বা যৌন হয়রানি প্রতিরোধ চ্যানেলে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আগে জমা পড়েনি। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এই ঘটনাকে গুরুতর উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন।
পুলিশকে ওই নারী জানান, তার স্বামী পুনেতে কাজ করেন। তিনি থাকেন নাসিকে শ্বশুরবাড়িতে। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ২০ জুন বিয়ের পর আমি টিসিএস নাসিক শাখায় অ্যাসোসিয়েট হিসেবে কাজ শুরু করি। ২৪ জুন থেকে তিন মাসের প্রশিক্ষণ শুরু হয়। তার অভিযোগ অনুযায়ী, প্রশিক্ষণের সময় ঋণ বিভাগে কর্মরত টিম লিড রাজা মেমন বারবার গিয়ে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন করতেন। তিনি বলেন, ‘তোমার স্বামী দূরে থাকে, তুমি সবকিছু কীভাবে সামলাও? ভয় লাগে না? কিছু লাগলে আমাকে বলো, আমি সবসময় আছি’। তিনি আরও জানান, বিয়ের মাত্র এক মাস পরও রাজা তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অশালীন মন্তব্য করতেন। বলতেন, হানিমুনে কোথায় গিয়েছিলে? সেখানে কী করেছিলে?
তার দাবি, এসব মন্তব্যে তার টিম লিড শাহরুখ কুরেশিও উৎসাহ দিতেন এবং নিজেও প্রশ্ন করতেন, তোমার বিয়ে কি অ্যারেঞ্জড না লাভ ম্যারেজ? রাজা মেমন তাকে ‘প্লেয়ার’ নামে ডাকতেন বলেও অভিযোগ করেন ওই নারী।
তিনি বলেন, অফিসে এলেই সে আমাকে ‘প্লেয়ার’ বলে ডাকত। কাজের সমস্যা হলে শাহরুখ তাকে ডাকতেন, আর সে এসে বলত- ‘কি প্লেয়ার, কাজ সামলাতে পারছ না?’ তিনি আরও বলেন, তোমার স্বামী এখানে আসে না কেন? আমি হলে তোমাকে ছেড়ে কোথাও যেতাম না।
এ বছরের মার্চে গুডি পাড়োয়া উৎসবের দিনে শাড়ি পরে অফিসে যান ওই নারী। তার অভিযোগ, লবিতে হাঁটার সময় হঠাৎ কেউ আমার শাড়ির আঁচল টানে। ঘুরে দেখি, রাজা মেমনের হাতে আমার আঁচল। আমি সঙ্গে সঙ্গে টেনে নিই, আর সে অশালীনভাবে তাকিয়ে হাসছিল। অন্যদিকে রাজা মেমনের পরিবার এসব অভিযোগকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছে। তার চাচা আয়াজ কাজি বলেন, এটি তার পেশাগত সাফল্য ও পারফরম্যান্সের কারণে পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, ঘটনাটিতে সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের বিষয়ও থাকতে পারে।
প্রশিক্ষণ শেষে কাজে যোগ দেওয়ার পর নতুন করে হয়রানির অভিযোগ ওঠে। ওই নারীর দাবি, অন্য টিমের কর্মী আসিফ আনসারি বারবার তার পাশে বসার চেষ্টা করতেন এবং শারীরিকভাবে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করতেন। তিনি বলেন, সে ইচ্ছাকৃতভাবে শরীরে হাত দিত, হাত ধরত, কখনো উরু বা কাঁধে হাত রাখত, যা আমাকে অত্যন্ত অস্বস্তিতে ফেলত। তিনি আরও অভিযোগ করেন, একবার সে আমার পেট ও কোমরে হাত দিয়ে বলে- তোমার জিরো ফিগার। আরেকদিন হঠাৎ জড়িয়ে ধরে। আমি জোরে ধাক্কা দিয়ে সরে যাই।
তার মতে, আসিফ প্রায়ই অশ্লীল মন্তব্য করতেন। বলতেন, তুমি কি আমাকে পছন্দ করো? আমি তোমাকে খুব পছন্দ করি। তিনি বলেন, চাকরি হারানোর ভয়ে শুরুতে এসব বিষয়ে কাউকে জানাননি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, লাঞ্চ টাইমেও সে পাশে বসে উরুতে হাত রাখত। বলত- স্বামীর জন্য যেমন রান্না করো, আমার জন্যও করো। বিয়ের আগে তোমার বয়ফ্রেন্ড ছিল, এখন আরেকজন থাকলে কী সমস্যা? তোমার শারীরিক চাহিদা আমি পূরণ করব।
এই হয়রানির খবর পরে অনলাইনেও ছড়িয়ে পড়ে। তিনি জানান, আসিফ তাকে ইনস্টাগ্রামে অনুসরণ করলে তিনি ব্লক করেন। পরে লিংকডইনে মেসেজ করলেও তিনি সাড়া দেননি। ওই নারীর অভিযোগ তাকে বলা হয়, তুমি এগোতে চাও না? তাহলে আমার ‘শিক্ষা’ পছন্দ না? এভাবে বলে সে আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করত।