Home 3rd Featuredঅতীতের ফ্যাসিবাদের চেয়ে আগামীর ফ্যাসিবাদ আরো ভয়াবহ হবে :জামায়াত আমির

অতীতের ফ্যাসিবাদের চেয়ে আগামীর ফ্যাসিবাদ আরো ভয়াবহ হবে :জামায়াত আমির

Muktochinta Online
০ comments ১৫ views

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যেদিন গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করা হয়েছে, সেদিন থেকেই নতুন ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। অতীতের ফ্যাসিবাদের চেয়ে আগামীর ফ্যাসিবাদ আরো ভয়াবহ হবে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, দেশে জ্বালানি সংকট না থাকলে প্রতিদিন ৬ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং কেন হচ্ছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সংসদ ও সংসদের বাইরে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করা উচিত ছিল। কিন্তু সে ধরনের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। গতকাল রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ‘জেলা আমির সম্মেলন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় সংসদ ও সংসদের বাইরে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করা উচিত ছিল। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে সে ধরনের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বরং বলা হচ্ছে দেশে তেলের কোনো সংকট নেই, কিছু লোক তেল মজুদ করে চোরাইপথে বিক্রি করছে। এ ধরনের বক্তব্যকে তিনি সরকারের ব্যর্থতা উল্লেখ করে বলেন, এতে ভুক্তভোগী মানুষের কষ্ট আরো বাড়ছে। জনগণ কি জানে না কোথা থেকে তেলের ড্রাম উদ্ধার হচ্ছে? জ্বালানি সংকট না থাকলে প্রতিদিন ৬ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং কেন হচ্ছে।

জামায়াত আমির বলেন, উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি নিরপেক্ষ বডি গঠনের জন্য অধ্যাদেশ জারি করা হলেও তা ঠেকিয়ে দেয়া হয়েছে। এতে দলীয় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দলীয় ভিত্তিতে বিচারক নিয়োগের ফলে বিচারপতি খায়রুল হক, বিচারপতি শামসুদ্দিন মানিক এবং শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ বিচারপতি এনায়েতুর রহিমের মতো ব্যক্তিত্ব তৈরি হয়েছে। এ ধরনের নিয়োগের কুফল দেশবাসী ভোগ করছে। বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের দ্রুত পরিবর্তন করা হচ্ছে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে এবং মানবাধিকার কমিশন পদত্যাগ করে খোলা চিঠি দিয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বিচারকদের স্বাধীন বলা হলেও তাদের ওপর হস্তক্ষেপ করে ২৮ জন বিচারককে শোকজ করা হয়েছে। অথচ তারাই বলে বিচারকরা স্বাধীন। যদি তারা স্বাধীনই হয়ে থাকেন, তাহলে তাদের ওপর আপনারা ছড়ি ঘোরান কেন?
চাঁদাবাজির রেট দিন দিন সব সেক্টরে বাড়ছে বলেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, অতিষ্ঠ জনগণ দ্রব্যমূল্যের জাঁতাকলে পিষ্ট। জ্বালানি সংকটে পরিবহন খরচ আর বাড়তি চাঁদার চাপ খেটে খাওয়া মানুষের ঘাড়ে চাপছে। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ডে দলীয়করণ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের আমির। অনেক অঘটন ঘটে গেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘এক বিধবা, তাঁকে কার্ড দেয়ার কথা বলে তাঁর জীবনটাই শেষ করে দেয়া হয়েছে। একটা কেস এসেছে, বাকিটা হয়তো লজ্জায় মুখ বুজে আছে। জানি না-এ রকম হয়েছে কি-না, আল্লাহ ভালো জানেন। সেখানে আবার চাঁদাবাজি হচ্ছে এটাকে কেন্দ্র করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাছুম, হামিদুর রহমান আযাদ প্রমুখ।

You may also like

Leave a Comment