Home সম্পাদকীয়রাজধানীর জলাবদ্ধতা

রাজধানীর জলাবদ্ধতা

আসন্ন বর্ষা মৌসুমেও কি দুর্ভোগ পোহাতে হবে

Muktochinta Online
০ comments ১২ views

একটু ভারি বৃষ্টি হলেই রাজধানীর অনেক সড়কে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা, যা আমাদের প্রতিবছরের অভিজ্ঞতা। আবারও বর্ষা মৌসুম সমাগত। স্বভাবতই আসন্ন দুর্ভোগের কথা ভেবে নগরবাসী চিন্তিত। প্রশ্ন হলো, এ দুর্ভোগের কি শেষ নেই? মূলত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর অদূরদর্শিতা ও সমন্বয়হীনতাই রাজধানীর জলাবদ্ধতার জন্য দায়ী। এ সমস্যা নিরসনে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো নানা আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই করেনি।

গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এক্ষেত্রে পাঁচটি চ্যালেঞ্জের কথা বলা হয়েছে। চ্যালেঞ্জগুলো কী? নগরীর অধিকাংশ নালা ও নর্দমা আবর্জনায় ঠাসা। অনেক ক্ষেত্রে ড্রেনগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে পানির প্রাকৃতিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। পানি নিষ্কাশিত না হয়ে উলটো আটকে থাকে। রাজধানীর যে খালগুলো একসময় উদ্বৃত্ত পানি বহন করত, সেগুলোর বড় অংশই এখন প্রভাবশালী ও দখলদারদের কবলে। আর খালের প্রবাহ রুদ্ধ হওয়া মানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়া। পাম্পগুলোর সক্ষমতা কম থাকায় বৃষ্টির সময় পানি নিষ্কাশনে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। নদীগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষার পানি বেশি ধারণ করতে পারে না। ফলে স্লুইস গেট দিয়ে পানি নিষ্কাষণ করা যায় না।

এছাড়া রাস্তার উচ্চতা বাড়ানো হলেও ড্রেনের গভীরতা না বাড়ানো বা অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণেও বৃষ্টির পানি নামার পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। দুই সিটি করপোরেশন ও ঢাকা ওয়াসার মধ্যে দায়িত্ব নিয়ে যে রশি টানাটানি চলে, তাতে দুর্ভোগের শিকার হয় নগরবাসী।

এ অবস্থার পরিবর্তন জরুরি। এজন্য উল্লিখিত গলদগুলো দূর করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে দরকার দীর্ঘমেয়াদি ও বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা। শুধু জোড়াতালি দিয়ে বা রাস্তা উঁচু করে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। আমরা মনে করি, বর্ষার আগেভাগে তড়িঘড়ি সংস্কারকাজ না করে সারা বছর ধরে খাল খনন ও ড্রেনেজ সিস্টেমের আধুনিকায়ন নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে যারা খালের জমি দখল করে এ সংকটকে ঘনীভূত করছে, তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। বর্তমান সরকার দেশে খাল খননের কাজ শুরু করেছে। এটি একটি ভালো উদ্যোগ। রাজধানীর খালগুলোও পুনরুদ্ধার ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

রাজধানী ঢাকা যখন একটু ভারি বৃষ্টিতে অচল হয়ে পড়ে, তখন তা দেশের অর্থনীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই জলাবদ্ধতার সমস্যা নিরসনের বিষয়টিকে অধিকতর গুরুত্ব দিতে হবে। কর্তৃপক্ষকে বুঝতে হবে, জলাবদ্ধতা নিরসন কেবল বাজেট বরাদ্দের বিষয় নয়; এটি নাগরিকদের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রশ্ন। যুগান্তরের প্রতিবেদনে চিহ্নিত পাঁচ স্তরের ত্রুটিগুলো আমলে নিয়ে সরকার ও সিটি করপোরেশন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। অন্যথায় এবারের বর্ষাও নগরবাসীর জন্য দুর্ভোগ বয়ে আনবে।

You may also like

Leave a Comment