শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে জয়ের পর বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংসের নাটকীয় মুহূর্তকে ঠিক এভাবেই বর্ণনা করেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি, ‘না (হাসি), ডাগআউটে সোবহানা মোস্তারি ছিল। নাহিদা ও সুলতানা মেজাজ ঠিক রেখে ম্যাচটা জিতিয়েছে। তাদের প্রতি আমার বিশ্বাস ছিল।’ গতকাল সফরকারী শ্রীলঙ্কার দেয়া ২০৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে সহজে জয়ের পথে ছিল বাংলাদেশ। তবে ইনিংসের শেষদিকে ব্যাটাররা তালগোল পাকিয়ে ম্যাচটা কঠিন করে তোলেন। জয়ের জন্য শেষ ৭ রান তুলতে ২৫ বল খেলে বাংলাদেশ, হারায় ৪ উইকেট! এই ব্যাটিং ধসের পর নাহিদা ও সুলতানা স্নায়ুচাপ সামলে বাংলাদেশকে ৩ উইকেটের জয় এনে দেন। আর শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামের আন্তর্জাতিক অভিষেকে দিনেই জয় পেলো টাইগ্রেসরা। এফটিপি’র প্রথম ম্যাচ জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেলো নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। একই মাঠে আগামীকাল সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে।
কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে এর আগে বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ম্যাচ হলেও ছেলে ও মেয়েদের পর্যায়ে এটি ছিল প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। গতকাল বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা নারী দলের মধ্যকার প্রথম ওয়ানডে দিয়ে দেশের ১৩তম আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে যাত্রা শুরু করে রাজশাহীর এই স্টেডিয়াম। ম্যাচে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন লঙ্কান অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু। বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২০৫ রান তোলে শ্রীলঙ্কা। সফরকারীদের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন হানসিমা করুনারত্নে এবং ৫২ রান আসে ইমেশা দুলানির ব্যাট থেকে। ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল রিতু মনি। ৩৬ রান খরচায় ৩ শ্রীলঙ্কান ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান তিনি। এছাড়া বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার নেন ২ উইকেট। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় ৫ রানে দুই ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ও সারমিন সুলতানাকে হারায় স্বাগতিকরা। এরপর দলের হাল ধরেন তিনে নামা শারমিন আক্তার।
১২৭ বলে ৮৬ রানের এক ধৈর্যশীল ইনিংস খেলে জয়ের ভিত গড়ে দেন তিনি। এসময় শারমিনকে যোগ্য সঙ্গ দেন সোবহানা মোস্তারি। তবে ব্যক্তিগত ৪১ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মোস্তারি মাঠ ছাড়লে ছন্দপতন ঘটে টাইগ্রেসদের। শারমিন যখন ৪৪তম ওভারে ১৯৯ রানে আউট হন, তখন মনে হচ্ছিলো জয় কেবল সময়ের ব্যাপার। ঠিক এই সময়েই ম্যাচের চরম নাটকীয়তা দেখা যায়। ১৯৯ থেকে ২০০-এই ১ রান তুলতে গিয়ে বাংলাদেশ হারায় ৪টি উইকেট! ৪৪.৩ ওভারে শারমিন আক্তার আউট হওয়ার পর ৪৫.১ ওভারে ফেরেন স্বর্ণা আক্তার। এরপর রিতু মনি ও রাবেয়া খান দ্রুত সাজঘরে ফিরে গেলে স্বাগতিক শিবিরে হারের শঙ্কা জাগে। জয়ের জন্য তখনো প্রয়োজন ছিল ৬ রান।
এমন রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তে বুক চিতিয়ে লড়াই করেন নাহিদা আক্তার ও সুলতানা খাতুন। দুজনে মিলে ৯ বল হাতে রেখেই দলকে পৌঁছে দেন জয়ের বন্দরে। নাহিদা ৩ ও সুলতানা ১ রানে অপরাজিত থাকেন। ম্যাচসেরা হন শারমিন। ম্যাচশেষে শ্রীলঙ্কা নারী দলের অধিনায়ক হাসিনি পেরেরা বলেন, ‘কন্ডিশনের দোহাই দিতে চাই না। ভুল থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। আশা করছি, পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে পারবো।’