Home 3rd Featuredসংখ্যাগরিষ্ঠের সরকার কখনো জনগণের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনেনি: বদিউল আলম

সংখ্যাগরিষ্ঠের সরকার কখনো জনগণের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনেনি: বদিউল আলম

Muktochinta Online
০ comments ১৫ views

অতীতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনের ভিত্তিতে গঠিত সরকার কখনো নিজ দল ও জনগণের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনেনি বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

টু-থার্ড মেজোরিটি নিয়ে যারাই ক্ষমতায় এসেছে, তারা নিজেদের কল্যাণ বয়ে আনেনি, জনগণের কল্যাণ বয়ে আনেনি, তারা মনস্টার হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

ড. বদিউল আলম বলেন, বিএনপি এই গণভোট মানছে না এবং এই অধ্যাদেশগুলো নিয়ে টালবাহানা করছে।  এটা কী এবং এটি নিয়ে অনেক রকম গুঞ্জন আছে। অনেক মানুষের অনেক রকম ধারণা আছে। কিন্তু এটা কি আবারও সেই ‘কার্স অব দ্য টু-থার্ড মেজোরিটি’—এই দুই-তৃতীয়াংশের সংখ্যাঘরিষ্ঠতার অভিশাপ কিনা? আশা করি তা নয়। আশা করি আমাদের সরকারি দল এবং আমাদের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতৃত্ব, আমাদের সংসদ সদস্যরা—তারা তাদের বিবেক-বুদ্ধি বিবেচনা খরচ করবেন।   জনগণের কল্যাণে তারা যেসব সঠিক সিদ্ধান্ত যেমন-গণভোটের রায় পুরোপুরি বাস্তবায়ন এবং একই সঙ্গে যে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো আমাদের সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবে, গণতন্ত্রকে কায়েম করার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং জনগণের কল্যাণ বয়ে আনবে—সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য এগিয়ে যাবে।

অধ্যাদেশগুলো নিয়ে তারা টালবাহানা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি যে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করছে না, তারা শপথ নেয় নাই এবং এই অধ্যাদেশগুলো নিয়ে তারা টালবাহানা করছে; অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করছে- এটার কোনো যৌক্তিকতা আমি খুঁজে পাই না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিফ সাহান বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর পদ্ধতি নিঃসন্দেহে গণতন্ত্র। কিন্তু আমরা যদি লিবারেল ডেমোক্র্যাটি দেখি, তাহলে গণতন্ত্র টিকে থাকার জন্য কিছু প্রতিষ্ঠান লাগবে, যেগুলো গণতন্ত্রকে রক্ষা করবে। সর্বোপরি সরকার যেন নির্বাহী ক্ষমতার যথেচ্ছা ব্যবহার না করতে পারে, সেটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিশ্চিত করবে। এক্ষেত্রে সংসদে দ্বি-কক্ষের কথা বলা হচ্ছে। এই ধারণা কিন্তু হঠাৎ করে আসেনি। অতীতে সংবিধানকে যথেচ্ছা পরিবর্তন করে যে ক্রাইসিস তৈরি করা হয়েছিল, সেটা আটকানোর জন্য জুলাই সনদ। 

তিনি বলেন, বিএনপির ৩১ দফা ও নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য জনগণের কাছে ওয়াদা করেছে। সেই ওয়াদা রক্ষা করা এবং তা বাস্তবায়ন করা বিএনপির নৈতিক দায়িত্ব। 

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারক এম এ মতিন বলেন, গণভোটের জনরায় সত্ত্বেও সরকারি দল কেনো শপথ নিল না, তারা কেনো এটা নিয়ে গড়িমসি করছে? এবং এই যে চারটা অধ্যাদেশ তারা রদ করছে, গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ ১৬টি তারা উত্থাপন করবেন না, ১৫টি তারা পরিবর্তন-পরিবর্ধন করে উত্থাপন করবেন।  তার মানে হচ্ছে- তারা যেন পুরোনো পথেই হাঁটছে এবং তার আলামত দেখা যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, রাজনৈতিক বিশ্লেষক আশরাফ কায়সার, ব্যারিস্টার ইমরান আহমদ সিদ্দিকী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল হাই প্রমুখ।

You may also like

Leave a Comment