Home সম্পাদকীয়সচেতনতা বাড়াতে ব্যবস্থা নিন

সচেতনতা বাড়াতে ব্যবস্থা নিন

সামাজিক মাধ্যমে অপতথ্য

Muktochinta Online
০ comments ১৯ views

তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে মানুষে-মানুষে যোগাযোগ যেমন অবারিত হয়েছে, তেমনি বেড়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও। সামাজিক মাধ্যম দূরের মানুষকে কাছে এনেছে বটে, কিন্তু সাইবার বুলিং, লাগামহীন অপতথ্যের কারণে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় প্ল্যাটফর্মগুলো আজ অনেকের কাছে আতঙ্কের নাম। কটূক্তি, অশ্লীলতা ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য সমাজের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনদের জীবন বিষিয়ে তুলছে।

খবরে বলা হয়, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউবসহ ইন্টারনেটভিত্তিক প্ল্যাটফর্মগুলোতে অগণিত অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

এগুলো দিয়ে বিশিষ্টজনদের চরিত্র হনন করা হচ্ছে। এসব ছড়িয়ে দিতে রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে সক্রিয় হয়েছে ‘বট বাহিনী’। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, এসব গালাগালকে তারা বাকস্বাধীনতা বলে সাফাই গাইছে। খবরে বলা হয়েছে, গত বছরের তুলনায় পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।

তথ্য যাচাই প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার বাংলাদেশ জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) বাংলাদেশে মোট এক হাজার ৯৭৪টি ভুল তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ৮৩৭টি। প্রতিষ্ঠানটি ৯ এপ্রিল প্রকাশিত এসংক্রান্ত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, একক ব্যক্তি হিসেবে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে।

বিজ্ঞান মানুষের জীবনযাপন সহজ করার জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যায়। মানুষ কোথায় ছিল, আর কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে—তা দেখলেই বিজ্ঞানের অবদান অনুমান করা যায়।

কিন্তু ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা টিকটকের মতো সামাজিক মাধ্যমগুলো আজ যে জায়গায় দাঁড়িয়েছে—তাতে সুস্থ ধারার চর্চা হচ্ছে, তা বলা যাবে না। এটি সামাজিক অবক্ষয়ের চিত্র।

কালের কণ্ঠের আরেকটি খবরে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারে দেশের অঞ্চলভেদে বৈষম্য তুলে ধরা হয়েছে। বিবিএসের আইসিটি জরিপের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইন্টারনেট ব্যবহারে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা এবং সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে শেরপুর। ঢাকায় ইন্টারনেট ব্যবহার করে ৭৭.১ শতাংশ মানুষ, আর শেরপুরে এই হার ২৫.৯ শতাংশ।

এতে আরো বলা হয়েছে, সাইবার হামলার ক্ষেত্রে কিছুটা সচেতন ৭৮.৫ শতাংশ ব্যবহারকারী। তবে সার্বিকভাবে দক্ষতার চিত্র বেশ হতাশাজনক। জরিপে অংশ নেওয়া ৮৪ শতাংশ ব্যবহারকারী কপি পেস্ট করতে জানলেও ফাইল স্থানান্তরের মতো কাজগুলো করতে পারেন মাত্র ১৫ শতাংশ ব্যবহারকারী। দেখা যাচ্ছে, প্রযুক্তি ব্যবহারে সুযোগ বাড়লেও দক্ষতা উন্নয়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই বিষয়টি আমাদের ডিজিটাল নিরাপত্তায় বড় ধরনের বাধা।

সামাজিক মাধ্যমে একটি তথ্য সামনে এলেই অনেকে শেয়ার করে ছড়িয়ে দেয়; তথ্যটি সত্য, নাকি মিথ্যা, তা যাচাই করার প্রয়োজন মনে করে না। অসচেতনতাই এর মূল কারণ। কিছু লোক ইচ্ছা করেও এটি করে। তাই অপতথ্য নিয়ন্ত্রণে সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রয়োজন আইনের যথাযথ প্রয়োগ।

You may also like

Leave a Comment