বগুড়ার সন্তান তারেক রহমানের প্রথমবারের মত প্রধানমন্ত্রী বগুড়ার সফরের জন্য সব প্রস্ততি সম্পন্ন হয়েছে। তাকে বরণের জন্য প্রস্তত বগুড়া। প্রস্তত বগুড়ার প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। প্রস্তত বগুড়া জেলা বিএনপির সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন।
প্রধানমন্ত্রীর এই বগুড়া সফরকে ঘিরে বগুড়াসহ রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলার মানুষের পারদও এখন তুঙ্গে। সবার আশা বঞ্চিত বগুড়া, বঞ্চিত উত্তরাঞ্চল এবার উপকৃত হবে। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের বিভিন্ন সংগঠন, সংস্থা, এনজিও হরেক কিসিমের দাবি দাওয়া, ঘরোয়া সভা, মানববন্ধন, স্মারক লিপি তৈরি এবং প্রেস কনফারেন্স করেছেন। মূলত বগুড়ায় মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, বিমানবন্দর দ্রুত চালু, পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়সহ শত শত দাবি তোলা হয়েছে। দাবি দাওয়া সম্পর্কে বগুড়া সদর সংসদীয় আসনের এমপি এবং বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা ইনকিলাবকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিএনপির ওপর মানুষের আস্থা, বিশ্বাস, আশাবাদ থাকাটা স্বাভাবিক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়ারই সন্তান। এই জেলা তথা সমগ্র উত্তরাঞ্চল কোথায় কি দরকার তিনি জানেন। সামর্থ অনুযায়ী কোথায়, কখন কী করতে হবে সেটাও তিনি জানেন।
রেজাউল করিম বাদশা বলেন, আজ বগুড়ার প্রথম শ্রেণির পৌরসভাটি তারেক রহমানের ঘোষণা ও ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশনের হয়ে যাবে। বগুড়ার সায়ন্স অ্যান্ড টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তর করা হবে। একদিনের বগুড়া সফরকালে তিনি বগুড়া প্রেসক্লাবের বহুতল ভবনেরও ফলক উন্মোচন করবেন। এছাড়াও গাবতলীতে খাল খনন উদ্বোধন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান এবং বগুড়ার আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠের বিশাল জনসভায় এই অবহেলা জনপদের উন্নয়ন সম্পর্কেও দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন বলে আমরা আশা করছি।
এদিকে বগুড়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদ, বগুড়া ফোরাম, মানুষের জন্য আমরাসহ বহু সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে দ্রুত ঢাকা বগুড়া হয়ে পঞ্চগড় পর্যন্ত মহাসড়কটি সিক্সলেনে উন্নীত করা এবং দ্বিতীয় যমুনা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন জোর দাবি জানিয়েছে। এছাড়া বগুড়া সিরাজগঞ্জ রেলসেতু প্রকল্পটি নিয়ে চলমান আমলাতান্ত্রিক জটিলতার প্যাঁচ খুলে দ্রুততম সময়ে চালু করার দাবি উঠেছে জরুরিভাবে। এছাড়াও দীর্ঘ সময় ধরে ফাইল আটকে আছে সাঘাটা, বোনারপড়া, সোনাতলা, সারিয়াকান্দি, ধুনট ও কাজিপুর হয়ে ব্যাংক রিবেটমেন্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পটি।
এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের পক্ষে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রবিন বলেন, বগুড়া-রংপুর মহাসড়কটি ৪ লেনে উন্নীত হলেও যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এটা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে। এখনই এটাকে সিক্সলেনে উন্নীত করা না হলে সেই সাথে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা না নিলে উত্তরের যানজট নিরসন হবেনা।
তার মতে ট্রাফিক জ্যামের ভয়ে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উত্তরাঞ্চলকে সবসময়ে এড়িয়ে চলে। সেই সাথে রাজনৈতিক কারণে শেখ হাসিনা বগুড়া তথা উত্তরাঞ্চলকে সবসময় ব্যক্তিগত জিঘাংসার বসে প্রয়োজনীয় সকল প্রকল্প পরিকল্পিতভাবে লাল ফিতায় আটকে রাখতেন। এখন সময় এসেছে লাল ফিতায় বন্দী উত্তরাঞ্চল কেন্দ্রীক প্রকল্পগুলো মুক্ত করে দেওয়ার।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি জাগপার কেন্দ্রীয় সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমান বলেন, বগুড়ার সারিয়াকান্দি এবং জামালপুরের মাদারগঞ্জের মধ্যে ফেরি বা লঞ্চ চলাচলের বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে চালু করলে দুই জেলার এক কোটি মানুষ উপকৃত হতো। এছাড়াও তিনি নদীভাঙন কবলিত সোনাতলা, শারিয়াকান্দি উপজেলা মানুষদের জন্য পৃথক প্রকল্পের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।