কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমোজ প্রণালীতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি অত্যাধুনিক ডেস্ট্রয়ার এবং ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মধ্যে এক শ্বাসরুদ্ধকর মুখোমুখি অবস্থানের খবর পাওয়া গেছে। ইরান দাবি করেছে, তাদের কড়া আল্টিমেটাম ও মিসাইল লক-অনের মুখে মার্কিন রণতরীগুলো পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর দুই উন্নত ডেস্ট্রয়ার— ইউএসএস মাইকেল মারফি এবং ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই. পিটারসেন অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে হরমোজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করছিল। ইরান দাবি করেছে, মার্কিন জাহাজগুলো তাদের পরিচয় গোপন করতে বাণিজ্যিক জাহাজের ছদ্মবেশ ধারণ করেছিল এবং আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম বন্ধ করে দিয়েছিল।
ইরানি নৌবাহিনী সময়মতো এই অনুপ্রবেশ শনাক্ত করে সরাসরি আন্তর্জাতিক মেরিটাইম চ্যানেলে হুঁশিয়ারি জারি করে। আইআরজিসির পক্ষ থেকে মার্কিন রণতরীগুলোকে মাত্র ৩০ মিনিটের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। ড্রোন এবং ক্রুজ মিসাইলের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু স্থির (Lock-on) করার পর পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ আকার ধারণ করে। কয়েক মিনিটের টানটান উত্তেজনার পর রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়াতে মার্কিন ডেস্ট্রয়ার দুটি তাদের পথ পরিবর্তন করে পিছু হটে যায়।
এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটলো যখন ইসলামাবাদে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন কূটনৈতিক বৈঠক কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই ভেঙে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন বর্তমান মার্কিন প্রশাসন হরমোজ প্রণালীতে পূর্ণ নৌ-অবরোধ (Naval Blockade) দেওয়ার কথা ভাবছে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ভবিষ্যতে কোনো সামরিক অনুপ্রবেশ ঘটলে তার ফলাফল হবে ‘ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক’।