উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা “অত্যন্ত উদ্বেগজনক” হারে বাড়িয়েছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি। বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান।
গ্রোসি জানান, উত্তর কোরিয়ার প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্র ‘ইয়ংবিওন’-এ গত কয়েক মাসে ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। স্যাটেলাইট চিত্র এবং বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সেখানকার ৫ মেগাওয়াট চুল্লি, রিপ্রসেসিং ইউনিট এবং লাইট-ওয়াটার রিঅ্যাক্টরগুলো এখন পূর্ণ উদ্যমে সচল রয়েছে। এছাড়া ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের জন্য একটি নতুন স্থাপনাও তৈরি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইএইএ প্রধানের মতে, উত্তর কোরিয়ার হাতে বর্তমানে কয়েক ডজন পারমাণবিক ওয়ারহেড থাকতে পারে। যদিও ২০০৯ সালে পিয়ংইয়ং আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের বহিষ্কার করেছিল, তবে দূরবর্তী পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রমের এই উল্লম্ফন ধরা পড়েছে। রাফায়েল গ্রোসি বলেন, “সব মিলিয়ে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা এখন অনেক বেশি শক্তিশালী এবং এটি বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ।”
এদিকে, রাশিয়ার সাথে উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে গ্রোসি জানান, পিয়ংইয়ংকে পারমাণবিক প্রযুক্তিতে মস্কো সরাসরি কোনো সহায়তা দিচ্ছে কি না, সে ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
২০০৬ সালে প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষার পর থেকে উত্তর কোরিয়া জাতিসংঘের কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকলেও তারা বারবার ঘোষণা দিয়েছে যে, আত্মরক্ষার স্বার্থে তারা তাদের পারমাণবিক ভাণ্ডার ত্যাগ করবে না। আইএইএ প্রধানের এই নতুন সতর্কবার্তা এশীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।