১২৫
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে দেশের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যাবে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার থাকবে কিনা, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব থাকবে কি না, জনগণ তার প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারবে কি না- সবকিছু নির্ভর করছে আগামী কয়েকটা দিনের ওপর। বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রি. জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ’র ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
ফখরুল অভিযোগ করেন, বিএনপি’র সিনিয়র এমন কোনো নেতা নেই যার বিরুদ্ধে মামলা নেই। এটা করার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে সেল তৈরি করা হয়েছে। যাতে দ্রুত সব নেতার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে ট্রায়াল করে, সাজা দিয়ে নির্বাচনে অবৈধ ঘোষণা করা যায়। আমেরিকার ভিসানীতির প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এই অবস্থা কেন? কেন আজকে আমার জাতিকে এই অবস্থায় পড়তে হবে। অনেকে আছেন খুব খুশি হচ্ছেন। এটা তো খুশির ব্যাপার না। এটা লজ্জা! এজন্য এই সরকার দায়ী।
মির্জা ফখরুল বিএনপি ভাঙার অভিযোগ করে বলেন, এখন দল ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে। আজকে সেজন্য আমাদের দলছুট, বহিষ্কৃত লোকজনদেরকে নিয়ে আবার দল তৈরি করে ঝামেলা করতে চায়। কিন্তু এগুলো করে কোনো লাভ হবে না। তিনি বলেন, দল কখন ভাঙতে যায়, অন্য প্রতিপক্ষ যখন নিজে সে দুর্বল। সবল থাকলে তো এটা করবে না। আর এগুলো করে কোনো লাভ হবে না। বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে, সব দলের অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে একটা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়। এর কোনো বিকল্প কিছু তারা চায় না।
তিনি আরও বলেন, এই যে একটা ভয়াবহ অবস্থা। যে অবস্থায় আজকে গোটা বাংলাদেশ বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। গোটা জাতি আজকে বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। অনেকে বলার চেষ্টা করছে বিএনপি বিপদে। বিএনপি কোনো বিপদে না। এই আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে বিএনপি আরও সংগঠিত হয়েছে। আরও শক্তিশালী হয়েছে। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে বিএনপি আরও শক্তিশালী হয়েছে। অন্যদিকে’ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ এই অক্টোবরে ক্ষমতায় আছে, আগামী অক্টোবরেও থাকবে। বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির প্রথম সভায় তিনি একথা বলেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সভা শেষে নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভার আকার নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। নির্বাচনকালীন সরকার শুধু ‘রুটিন ওয়ার্ক’ করবে। ‘মেজর পলিসি’ গ্রহণ করবে না।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নাকি আমাদের তাড়িয়ে দেবে কয়েক দিনের মধ্যে? আমরা অক্টোবরে আছি, আগামী অক্টোবরেও থাকব। কী কারণে ক্ষমতা ছেড়ে দেব? কী কারণে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আবার পুনর্জীবিত করব? কেন শেখ হাসিনাকে সরে যেতে হবে? জনগণ তাকে চায়, বিকল্প ভাবে না। সংকটে দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার মতো তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘আমাদেরও অ্যাকশনে যেতে হবে। এমন ইশতেহার করতে হবে, যাতে নিষেধাজ্ঞা, পাল্টা নিষেধাজ্ঞার বিষয় ভাবতে হবে। সর্বোপরি ২০৪০ সাল আমাদের মাথায় রাখতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়ে গেছে, এখন স্মার্ট বাংলাদেশ করতে হবে।’